এবার ড. ইউনূসের গ্রামীণ মৎস্য ও পশুসম্পদ ফাউন্ডেশনের ঘেরে ডাকাতি, আহত ৪

কক্সবাজারের চকরিয়ার রামপুর মৌজায় নোবেলজয়ী ড. ইউনূস এর গ্রামীণ মৎস্য ও পশুসম্পদ ফাউন্ডেশনের ঘেরে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ঘেরের চারজন কর্মচারী আহত হয়েছেন।
এটি চকরিয়ায় ড. ইউনূস এর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন–এর গুরুত্বপূর্ণ একটি খামার, যা বহু বছর ধরে মাছ ও পশুসম্পদ উৎপাদনের সাথে যুক্ত। এলাকাবাসী বলছে, চকরিয়া ডাকাতি এই অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বড় আঘাত করেছে। এতে ফাউন্ডেশনের চার কর্মচারী আহত হয়েছেন।
রাতের আঁধারে ডাকাতি
মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার চিংড়ি জোনের রামপুর মৌজায় ৩০০ একর আয়তনের ঘেরে ডাকাত দল হানা দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন–এর খামার ব্যবস্থাপক উৎপল কান্তি চৌধুরী।
উৎপল জানান, “৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হঠাৎ করে খামার অফিসে প্রবেশ করে। তাদের প্রত্যেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও কিরিচ ছিল। তারা আমাদের জিম্মি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার বাগদা, কোরাল, বাটা সহ বিভিন্ন মাছ লুট করে নিয়ে যায়।” চকরিয়া ডাকাতির ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসার পরও এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এছাড়া, ঘের কর্মচারীদের দুটি মোবাইল ফোন ও ছয়টি টর্চলাইটও নিয়ে যায় ডাকাতরা। ড. ইউনূস এর এই সামাজিক উদ্যোগ বারবার হামলার শিকার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

বাধা দিলে মারধর
ডাকাতি চলাকালে কর্মচারীরা বাধা দিলে ডাকাত দল তাঁদের মারধর করে। এতে মসজিদের ইমাম মোজাম্মেল হক, নাসির উদ্দিন, মো. মোজাম্মেল, ও মো. মিজান আহত হন। ফাউন্ডেশনের কর্মীরা বলেন, গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে মাছ চাষ করছিল, কিন্তু বারবার এই ধরনের ডাকাতি ও হামলা কর্মীদের মাঝে ভীতির সৃষ্টি করছে।
অতীতেও ছিল সন্ত্রাসীদের দখল
উৎপল আরও জানান, এর আগেও ২০২১ সালের ৫ জুলাই এবং ২০২৪ সালের ৩ জুন ফাউন্ডেশনের এই ঘের সন্ত্রাসীদের দখলে চলে গিয়েছিল। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট বর্তমান সরকারের পতনের পর তারা এলাকা ত্যাগ করলে ড. ইউনূস–এর গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন পুনরায় মাছ চাষ শুরু করে।
২০২১ সালের দখলের ঘটনায় চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলা এখনো চলমান রয়েছে। সেই মামলা এখনো চলমান।
পুলিশের অবস্থান
চকরিয়া ডাকাতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন–এর খামার ব্যবস্থাপকের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগেও ড. ইউনূস এর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক ও অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পে নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবুও, চকরিয়ায় ঘটে যাওয়া ডাকাতির ঘটনা স্পষ্ট করে যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এর জেলা পর্যায়ের বাছাইয়ে কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে সোনিয়া সরকার নিপাকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর তিনি আদর্শ সদর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে উপজেলা পর্যায়ে মনোনীত করেন।
সোনিয়া সরকার নিপার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বীর মুক্তিযুদ্ধা মরহুম দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। ২০১৩ সালে আমপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে স্বামীর ঠিকানার সূত্রে কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি জেলা পর্যায়ে ওয়ারেন্ট গাইডার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে হলদে পাখি গার্লস গাইডের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সোনিয়া সরকার নিপা বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। যেকোনো কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা কাজের গতি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমি আরও বেশি পেশাদারির সঙ্গে শিক্ষকতাকে উপভোগ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে সত্যিই খুব সম্মানিত ও গর্বিত অনুভব করছি। আমার এ প্রতিযোগিতা বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত। এখন আমার লক্ষ্য কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধিত্ব করা। জেলার একজন প্রতিযোগী হিসেবে জেলাকে সম্মানসূচক কিছু এনে দিতে পারি—এ জন্য সবার দোয়া চাই।”
নিজের এ অর্জনের পেছনে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সোনিয়া সরকার নিপার ভাষ্য, তার প্রিয় কর্মস্থল ও শিক্ষার্থীরাই তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে।
এ অর্জনের জন্য বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সোনিয়া সরকার নিপা।
হোমনার একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, মেঘনায় এখনো নিখোঁজ বাবা

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন।
ট্রলারডুবির দুই দিন পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এবং শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল-মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব, শামীম এবং মেয়ে সামিয়া।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা পাঁচজন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন।
দুর্ঘটনার পরপরই রায়েসা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
দুই দিন ধরে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর শনিবার ভোরে মেঘনায় সামিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে সোনারগাঁ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর সজীব ও শামীমের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। পরিবারের একমাত্র নিখোঁজ সদস্য হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপ্রতিমের বাবা-মাকে ফোনে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, থানায় জিডি

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর এবার তার বাবা-মাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে হয়রানি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন স্বজনরা।
এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে অপ্রতিমের মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও আমাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে আমাদের দুজনের মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এসব ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা থানায় জিডি করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।
অপ্রতিমের বাবা শাহরিয়ার বলেন, ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও তাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে তার ও তার স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ মামলাটি তদন্ত করছেন।




























