প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ডিসির অন্তরঙ্গ ভিডিও কেলেঙ্কারি: একা থাকতেন সরকারি বাসভবনে, পরিবার ঢাকায়

Add a heading 20250622 030109 0000
আজকের কথা ডেস্ক

ডিসির অন্তরঙ্গ ভিডিও কেলেঙ্কারি ঘিরে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এক নারীর সঙ্গে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাঁকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে বদলি করেছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে জনমনে এবং প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনার ঝড়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, ২৭তম বিসিএস ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২১ জুন) রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ডিসির অন্তরঙ্গ ভিডিও কেলেঙ্কারি ঘিরে বিতর্ক, শরীয়তপুরে প্রশাসন অস্থির
ডিসির অন্তরঙ্গ ভিডিও কেলেঙ্কারি ঘিরে বিতর্ক, শরীয়তপুরে প্রশাসন অস্থির।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী ডিসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করছেন। তিনি বলেন, “উনি (জেলা প্রশাসক) আমার নিকটাত্মীয়। আমাকে বিয়ের কথা বলে আমার স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স করিয়েছেন। এখন বিয়ে না করে উল্টো আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। এর আগে তিনি আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন।”

শরীয়তপুরের ডিসির বাসভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য টিটু জানান, “ডিসি সাহেব একাই সরকারি বাসভবনে থাকতেন। তার পরিবার ঢাকায় থাকে। ডিসি অফিসের স্টাফরা খাবার রান্না করে দিয়ে যেতেন। গত দুই দিন ধরে কেউ বাসভবনে আসেনি।”

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শরীয়তপুরের ডিসি হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি নিউরো ডেভেলপমেন্ট ও প্রতিবন্ধী ট্রাস্টের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর এক পর্যায়ে ডিসি আশরাফ উদ্দিন বলেন, “অনেক স্বপ্ন ছিল আজ তোমার সঙ্গে দেখা হবে। অন্তর্যামী জানে, তোমাকে ভালোবেসেছিলাম। সেটা ভণ্ডামি ছিল না, সত্যি ছিল। কিন্তু তুমি আমাকে প্রতারক, লোভী বলেছো। আমার না আছে টাকা, না আছে ক্ষমতা, না আছে তারুণ্য। তবু আমি কখনো তোমার ক্ষতি করিনি, করবও না। আমি নিজেকে তিলে তিলে শেষ করব।”

ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রশাসন সূত্র জানায়, শনিবার সকাল থেকে তিনি তাঁর কার্যালয় কিংবা বাসভবন—কোথাও অবস্থান করছেন না। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। কেউ নিশ্চিত করতে পারছে না তিনি কোথায় আছেন।

স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ঘটনার নৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। একদিকে সরকারি দায়িত্বে থাকা একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন কেলেঙ্কারি, অন্যদিকে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ—দুটিই সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

ডিসির অন্তরঙ্গ ভিডিও কেলেঙ্কারি এখন শুধু শরীয়তপুর নয়, দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রশাসনের উচ্চ মহলে ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

প্রিন্ট করুন