

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার ওপর সাম্প্রতিক মব হামলা ছিল কোন স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত ও রাজনৈতিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত লাঞ্ছনা। নুরুল হুদা লাঞ্ছনা কাণ্ডে প্রশাসনের নিরবতা ও ইনুচ গংয়ের ভূমিকা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সুশান্ত দাস গুপ্তের ফেসবুক থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, এই লাঞ্ছনা ছিল পরিকল্পিত, যেখানে ইনুচ ও তার সহযোগীরা আগে থেকেই জানতো কী হতে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, মব সৃষ্টিকারীরা ইনুচ গংয়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশে কাজ করেছে। তারা প্রথমে হামলা চালায়, পরে পুলিশকে খবর দেয়। ইনুচের প্রেস উইং তখনই বিবৃতি দেয় যে “আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না”—যা ছিল দায়সারা ধরনের নাটকীয় বিবৃতি।
নুরুল হুদা লাঞ্ছনা কাণ্ড বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হুদার উপর পরিকল্পিত মব হামলা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং দেশের আইন, শৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা প্রশাসনের নীরব সম্মতি ও রাজনৈতিক ইন্ধনের ফল, যার নেপথ্যে ইনুচ গংয়ের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সুশান্ত দাস গুপ্তের দাবি অনুযায়ী, এই লাঞ্ছনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ইনুচ ও তার সহযোগীরা আগে থেকেই জানতো কী ঘটবে। মব সৃষ্টিকারীরা ইনুচ গংয়ের নির্দেশে হামলা চালিয়ে পরে পুলিশকে খবর দেয়। প্রেস উইং থেকে বিবৃতি আসে “আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার” অনুরোধ—যা কার্যত একটি নাটকীয় রূপদান।
সেনাবাহিনী যখন বলছে তারা মব বরদাস্ত করবে না, তখনই আরও বড় মব হামলা ঘটছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে সেনাবাহিনীকে পেছনে ঠেলে রাখা হচ্ছে।
এই ঘটনাগুলোর পেছনে যে একটি রাজনৈতিক কালচার কাজ করছে তা স্পষ্ট—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, বিচারহীনতা, খুন ও নির্যাতনের দায়মুক্তি এসব এখন বাংলাদেশের ভয়ংকর বাস্তবতা।
উল্লেখ্য, নুরুল হুদা শুধু সাবেক সিইসি নন, তিনি দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা, এবং বর্তমানে ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিনের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত। যা বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের বিষয়।
নুরুল হুদা লাঞ্ছনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক সংকেত—যেখানে প্রশাসনের চোখের সামনে, নির্দিষ্ট মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিস্তৃত হচ্ছে। এমন লাঞ্ছনা চলতে থাকলে দেশে গণতন্ত্রের পরিবর্তে মবতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে, আর এই পরিস্থিতির দায় একদিন রাষ্ট্র ও তার নীতিনির্ধারকদের নিতে হবে।

এমন ঘটনা নতুন নয়। পূর্বেও দেখা গেছে, সেনাবাহিনী মুখে বলে মব সহ্য করা হবে না, অথচ বাস্তবে বারবার বড় মবের ঘটনা ঘটে চলেছে। প্রশ্ন উঠেছে, সেনাবাহিনী যদি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়েও এদের ঠেকাতে না পারে, তাহলে কেন তারা এভাবে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে?
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমাদের দেওয়া জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞার ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হচ্ছে—এটা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।
এ ঘটনায় সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো, বাংলাদেশে “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া”, “মব জাস্টিস”, “দায়মুক্তি” এই সংস্কৃতি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এর ভয়াবহতা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বিপজ্জনক বার্তা বহন করে।
নুরুল হুদা শুধু একজন সাবেক সিইসি নন, তিনি দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা, যেখান থেকে ২০২০ সালে তাঁকে একবার গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। তাঁর পরিচয় এখন শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়—তিনি ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিনের উপদেষ্টা হিসেবেও নিয়োজিত, যা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।
নুরুল হুদা লাঞ্ছনা কাণ্ড থেকে পরিষ্কার—বাংলাদেশে এখন পরিকল্পিত মব হামলা, প্রশাসনের মৌন সম্মতি, ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে। এ ধারা যদি চলতেই থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আর গণতন্ত্রের নামে পরিচিত থাকবে না, বরং অনিরাপদ ও দমনমূলক এক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।