প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মব সৃষ্টি করে হত্যা: বিচার হবে, এক মাঘে শীত যাবে না—শাজাহান খান

মব সৃষ্টি করে হত্যা
ফাহিমা বেগম প্রিয়া

আদালতে হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মব সৃষ্টি করে হত্যা বন্ধে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান।

মব সৃষ্টি করে হত্যা—এই অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান। সোমবার (২৩ জুন) ঢাকার একটি আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এক মাঘে শীত যায় না, যারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করছে, তাদের বিচার হবেই। কেউ ভাববেন না যে পার পেয়ে যাবেন।”

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তারা সবাই আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন। আদালত কক্ষে প্রবেশের সময় তাদের পরনে ছিল হ্যান্ডকাফ, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং মাথায় হেলমেট। কাঠগড়ায় তোলার পর পুলিশ হেলমেট ও হ্যান্ডকাফ খুলে দেয়।

মব সৃষ্টি করে হত্যা
মব সৃষ্টি করে হত্যা—এই অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান। ছবি : দৈনিক আজকের কথা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে দেশের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি হেসে বলেন, “আপনারা তো দেখছেনই… এক হাতে তালি বাজে না।” পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বাভাবিক হাস্যোজ্জ্বল আচরণ করেন।

এর আগে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া সাজেদুর রহমান ওমর হত্যা মামলায় আদালত শাজাহান খান, আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে দুই দিনের রিমান্ডে দেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, গত জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গণভবনে বসে তারা নীতিনির্ধারণী বৈঠক করেছেন এবং পরে সংঘটিত সহিংসতার দায় এড়াতে পারেন না।

শুনানিতে শাজাহান খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিজ্ঞ পিপি সাহেব তো বিএনপির বড় নেতা। তিনিই বারবার আমাদের রিমান্ডে নিচ্ছেন। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, “গণঅধিকার পরিষদের কর্মী সায়মনকে হত্যাচেষ্টা, রিটন হত্যা, রাসেল হত্যা—এসবই একই ধারাবাহিকতার অংশ। এরা কেবল রাজনীতিবিদ না, অপারেশন প্ল্যানেও যুক্ত ছিলেন।”

একইদিন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সোহাইলকে ৩ দিনের, ঢাকা-৫ এর সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে পৃথক দুটি মামলায় ১ ও ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এছাড়া মোহাম্মদপুর থানা এবং পল্টন থানার পৃথক মামলায় আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশা এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সব মামলার মূল বিষয়বস্তু ঘুরে ফিরে একটাই—অরাজকতা করে পরিকল্পিত হত্যা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে পূর্বপরিকল্পিত হামলা ও সহিংসতা। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে ও হামলা করে একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২১ জুলাই কাজলা ফুটওভার ব্রিজের নিচে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাজেদুর রহমান ওমর মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। ২৪ আগস্ট তিনি মারা যান। এই ঘটনায় ৮১ জনকে আসামি করে মামলা হয়, যেখানে প্রধান আসামি শেখ হাসিনা।

অন্যদিকে, ২৮ অক্টোবর পল্টনে গণঅধিকার পরিষদের সায়মনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৪৫ জনকে আসামি করা হয়। রিটন ও রাসেল হত্যা মামলা নিয়েও আদালতে দীর্ঘ শুনানি হয়।

দলীয় কর্মীদের হত্যা বিষয়ে শাজাহান খান বলেন, “গণপিটুনির নামে মানুষ হত্যা কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না। এসব ঘটনার বিচার করতে হবে। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলের লোকজনকে টার্গেট করছে, তাদের রক্ষা হবে না।”

তিনি বলেন, “এটা রাজনৈতিক গণহত্যার নতুন রূপ। আমরা বিচার চাই, বিচার হবেই। জনগণও এসব হত্যার জবাব চায়।”

বিশৃঙ্খলা  করে সারাদেশে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শাজাহান খান। তার মতে, এটি এখন একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক অস্ত্র, যা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “এই ধরনের মব জাস্টিস যারা করছে, তাদের বিচার হবে—এক মাঘে শীত যায় না, সেটাই হবে প্রমাণ।”

প্রিন্ট করুন