শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

নুরুল হুদা লাঞ্ছনা: ইনুচের নির্দেশে পূর্বপরিকল্পিত মব হামলা?

রোমানা আক্তার প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ৯:১৯ এএম
নুরুল হুদা লাঞ্ছনা: ইনুচের নির্দেশে পূর্বপরিকল্পিত মব হামলা?

নুরুল হুদা লাঞ্ছনা কাণ্ড থেকে পরিষ্কার—বাংলাদেশে এখন পরিকল্পিত মব হামলা, প্রশাসনের মৌন সম্মতি, ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে। ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া।

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার ওপর সাম্প্রতিক মব হামলা ছিল কোন স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত ও রাজনৈতিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত লাঞ্ছনা। নুরুল হুদা লাঞ্ছনা কাণ্ডে প্রশাসনের নিরবতা ও ইনুচ গংয়ের ভূমিকা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সুশান্ত দাস গুপ্তের ফেসবুক থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, এই লাঞ্ছনা ছিল পরিকল্পিত, যেখানে ইনুচ ও তার সহযোগীরা আগে থেকেই জানতো কী হতে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, মব সৃষ্টিকারীরা ইনুচ গংয়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশে কাজ করেছে। তারা প্রথমে হামলা চালায়, পরে পুলিশকে খবর দেয়। ইনুচের প্রেস উইং তখনই বিবৃতি দেয় যে “আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না”—যা ছিল দায়সারা ধরনের নাটকীয় বিবৃতি।

নুরুল হুদা লাঞ্ছনা: ইনুচের নির্দেশে পরিকল্পিত মব হামলা?

নুরুল হুদা লাঞ্ছনা কাণ্ড বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হুদার উপর পরিকল্পিত মব হামলা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং দেশের আইন, শৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা প্রশাসনের নীরব সম্মতি ও রাজনৈতিক ইন্ধনের ফল, যার নেপথ্যে ইনুচ গংয়ের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাংবাদিক সুশান্ত দাস গুপ্তের ফেসবুক পোস্ট:

সুশান্ত দাস গুপ্তের দাবি অনুযায়ী, এই লাঞ্ছনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ইনুচ ও তার সহযোগীরা আগে থেকেই জানতো কী ঘটবে। মব সৃষ্টিকারীরা ইনুচ গংয়ের নির্দেশে হামলা চালিয়ে পরে পুলিশকে খবর দেয়। প্রেস উইং থেকে বিবৃতি আসে “আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার” অনুরোধ—যা কার্যত একটি নাটকীয় রূপদান।

সেনাবাহিনী যখন বলছে তারা মব বরদাস্ত করবে না, তখনই আরও বড় মব হামলা ঘটছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে সেনাবাহিনীকে পেছনে ঠেলে রাখা হচ্ছে।

এই ঘটনাগুলোর পেছনে যে একটি রাজনৈতিক কালচার কাজ করছে তা স্পষ্ট—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, বিচারহীনতা, খুন ও নির্যাতনের দায়মুক্তি এসব এখন বাংলাদেশের ভয়ংকর বাস্তবতা।

উল্লেখ্য, নুরুল হুদা শুধু সাবেক সিইসি নন, তিনি দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা, এবং বর্তমানে ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিনের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত। যা বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের বিষয়।

নুরুল হুদা লাঞ্ছনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক সংকেত—যেখানে প্রশাসনের চোখের সামনে, নির্দিষ্ট মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিস্তৃত হচ্ছে। এমন লাঞ্ছনা চলতে থাকলে দেশে গণতন্ত্রের পরিবর্তে মবতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে, আর এই পরিস্থিতির দায় একদিন রাষ্ট্র ও তার নীতিনির্ধারকদের নিতে হবে।

 

নুরুল হুদা লাঞ্ছনা কাণ্ড থেকে পরিষ্কার—বাংলাদেশে এখন পরিকল্পিত মব হামলা।
নুরুল হুদা লাঞ্ছনা কাণ্ড থেকে পরিষ্কার—বাংলাদেশে এখন পরিকল্পিত মব হামলা, প্রশাসনের মৌন সম্মতি, ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে। ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া।

এমন ঘটনা নতুন নয়। পূর্বেও দেখা গেছে, সেনাবাহিনী মুখে বলে মব সহ্য করা হবে না, অথচ বাস্তবে বারবার বড় মবের ঘটনা ঘটে চলেছে। প্রশ্ন উঠেছে, সেনাবাহিনী যদি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়েও এদের ঠেকাতে না পারে, তাহলে কেন তারা এভাবে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে?

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমাদের দেওয়া জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞার ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হচ্ছে—এটা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।

এ ঘটনায় সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো, বাংলাদেশে “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া”, “মব জাস্টিস”, “দায়মুক্তি” এই সংস্কৃতি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এর ভয়াবহতা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বিপজ্জনক বার্তা বহন করে।

নুরুল হুদা শুধু একজন সাবেক সিইসি নন, তিনি দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা, যেখান থেকে ২০২০ সালে তাঁকে একবার গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। তাঁর পরিচয় এখন শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়—তিনি ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিনের উপদেষ্টা হিসেবেও নিয়োজিত, যা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।

নুরুল হুদা লাঞ্ছনা কাণ্ড থেকে পরিষ্কার—বাংলাদেশে এখন পরিকল্পিত মব হামলা, প্রশাসনের মৌন সম্মতি, ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে। এ ধারা যদি চলতেই থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আর গণতন্ত্রের নামে পরিচিত থাকবে না, বরং অনিরাপদ ও দমনমূলক এক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

৪০ দিন বন্ধ উৎপাদন

গ্যাস সংকটে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
গ্যাস সংকটে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার

গ্যাস সংকটের কারণে চলতি অর্থবছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি দেশের বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা। টানা ৪০ দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন কম সার উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

  প্রতিবেদনের হাইলাইটস

  • গ্যাস সংকটে টানা ৪০ দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা।
  • ৮.৫০ লাখ মেট্রিক টনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৭,৬৪,৫৩৫ মেট্রিক টন
  • লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কম উৎপাদিত হয়েছে।
  • ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯.৪০ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে গ্যাসের সংকটের কারণে দীর্ঘ ৪০ দিন উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অর্থবছর শেষে মোট উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল ইসলাম।

তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব এই আধুনিক কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন এবং বছরে প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জিত হলেও চলতি অর্থবছরে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উৎপাদন কমে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টনে নেমে আসে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কম উৎপাদিত হয়েছে।

তবে এ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নতুন অর্থবছরের জন্য উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ এবং যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, এমনকি অতিক্রম করাও সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, উৎপাদন শুরুর প্রথম বছরেই ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা ২৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে এটিই ছিল একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান।

এর আগে দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা দৈনিক ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষম ঘোড়াশাল সার কারখানা এবং ৩০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষম পলাশ সার কারখানা ভেঙে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একীভূত ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণ করা হয়।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীনে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১০ একর জমির ওপর নির্মিত কারখানাটির উদ্বোধন করা হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে। পরে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন, যা দেশের সার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বন্যপ্রাণী সেবার উদ্ধার অভিযান

চা পাতা তুলতে গিয়ে অজগর, শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে আতঙ্ক

জালালুর রহমান | মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
চা পাতা তুলতে গিয়ে অজগর, শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে আতঙ্ক

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি চা বাগানে চা পাতা সংগ্রহের সময় একটি অজগর সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করেন।

চা পাতা তুলতে গিয়ে শ্রমিকদের সামনে অজগর সাপ।
আতঙ্কে কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান শ্রমিকরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায় বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন।
উদ্ধারের পর অজগরটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ভুরভুরিয়া চা বাগানের সেক্টর-৯ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে চা পাতা সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় ঝোপের মধ্যে একটি বড় আকৃতির অজগর সাপ দেখতে পেয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা দ্রুত কাজ বন্ধ করে বাগান কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে চা বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে অজগর সাপটি উদ্ধার করেন।

উদ্ধারকৃত অজগরটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর অভিযান

দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে ২টি ড্রেজার ধ্বংস, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে ২টি ড্রেজার ধ্বংস, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

কৃষিজমি, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথমে উপজেলার তুলাগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। পরে রামের দিঘিরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার দায়ে মো. আব্দুস ছামাদকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত আরও একটি ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে কৃষিজমির মাটি কাটার কারণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ছিল। নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, কৃষিজমি ধ্বংস, খাল-বিল ও জলাশয়ের ক্ষতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

×
CLOSE X