বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ নিয়ে বড়সড় ঘোষণা এলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনো দলীয় দুর্বৃত্তদের লাগাম টানতে হিমশিম খাচ্ছে।
নেতারা বারবার সতর্কতা ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের কথা বললেও, তৃণমূলের চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও সহিংসতা থেমে নেই।
জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দলকে “পরিষ্কার” রাখতে দুর্বৃত্তদের বাদ দিয়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে বিএনপি।
বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ নিয়ে বড়সড় ঘোষণা এলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনো দলীয় দুর্বৃত্তদের লাগাম টানতে হিমশিম খাচ্ছে। নেতারা বারবার সতর্কতা ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের কথা বললেও, তৃণমূলের চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও সহিংসতা থেমে নেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এই অভিযান আদৌ কতটা ফলপ্রসূ?
জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দলকে “পরিষ্কার” রাখতে দুর্বৃত্তদের বাদ দিয়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে বিএনপি। যদিও অনেক ঘটনায় বিএনপি নেতারা দাবী করছেন, তাদের নাম অন্যায়ভাবে জড়ানো হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা আসকের হিসাব অনুযায়ী, গত ১১ মাসে ৩৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ৮৭ জন নিহত ও ৩৯২৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩২৩টি ঘটনায় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন জড়িত ছিল বলে তথ্য উঠে এসেছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৭৭ জন এবং আহতদের মধ্যে ৩৬৫৩ জন বিএনপি কর্মী।
বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ নিয়ে বড়সড় ঘোষণা এলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনো দলীয় দুর্বৃত্তদের লাগাম টানতে হিমশিম খাচ্ছে। ছবি: সংগৃহিত।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে, সম্প্রতি বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল তাদের পাঁচ সদস্যকে বহিষ্কার করেছে। অভিযোগ, তারা ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ব্যবসা ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধ থেকেই এই খুন।
এই ঘটনাটি সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করে। সন্দেহভাজন পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া লালমনিরহাটে থানায় হামলা, ভোলায় ধর্ষণ, ঢাকার রেস্তোরাঁয় নারী লাঞ্ছনা, এমনকি সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হেনস্তার মতো ঘটনায় বিএনপির নাম জড়িয়েছে। এসব ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
লালমনিরহাটের ঘটনায় বিএনপি কর্মীরা মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত দুইজনকে থানায় হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেয়। এর পর যুবদল ও বিএনপির দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বীকার করেন—“এত বড় দলে সবাই ভালো হবে, এটা আশা করা যায় না।”
ভোলার ধর্ষণকাণ্ডের ক্ষেত্রেও দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বলেন, “একটি বড় দলে কিছু খারাপ লোক থাকবেই। তাদের অপরাধের দায় পুরো দলের ওপর চাপানো উচিত নয়।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে বিএনপি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন—“আমরা শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের শুধু বহিষ্কারই নয়, প্রয়োজনে আইনের হাতে তুলে দিচ্ছি। একই সঙ্গে সরকারকেও কঠোর হতে বলেছি।”
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর, স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বারবার সহিংসতায় জড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইতোমধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি-জুন ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে ৫২৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭৯ জন নিহত ও ৪১২৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০২টি ঘটনাই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলজনিত, যেখানে আহত হয়েছেন ২৮৩৪ জন এবং নিহত ৫৪ জন।
এই সহিংসতাগুলোর মূল কারণ হিসেবে বলা হয়েছে—দলীয় আধিপত্য, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, জমি দখল এবং চাঁদাবাজি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন—“এটা শুধু বিএনপির সমস্যা নয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থাও দায়ী।” তিনি আরও বলেন—“যারা সরাসরি অপরাধে জড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, উপস্থিত নেতাদের ছাড় দেওয়া হয়।”
লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ একমত হয়ে বলেন—“সব বড় দলেই দুর্বৃত্ত থাকে। ক্ষমতা বা ক্ষমতার সম্ভাবনা থাকলে দুর্বৃত্তরা ভিড় করে। এটা এখন আর গোপন কিছু নয়।”
🔧 তারেক রহমানের নির্দেশ কাজে আসছে না?
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বহুবার বলেছেন—তাদের দলই একমাত্র যারা অন্যায়ের দায় স্বীকার করে এবং ব্যবস্থা নেয়। লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল ভাষণে তিনি নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি ১০৫ জন নেতা স্বীকার করেছেন—দলের ভেতরেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখলের মতো অপরাধ চলছে।
তবু, এই সতর্কবার্তা বাস্তব মাঠপর্যায়ে খুব একটা কাজ করছে না।
আসকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুন—মাত্র চার মাসে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ৪০৯টি সংঘর্ষে ৩৫ জন নিহত এবং ১১০৫ জন আহত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব তথ্য ইঙ্গিত দেয়—দলটির ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন—“তারেক রহমান দূর থেকে দল চালাচ্ছেন, কিন্তু সরাসরি যোগাযোগের অভাব শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। তিনি দেশে থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।”
তিনি আরও বলেন—“এত বড় সংগঠন পরিচালনা সহজ নয়, তবে নেতৃত্ব ও শাস্তির মধ্যে দূরত্ব থাকলে তা কার্যকারিতা হারায়।”
🔍 বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫: মুখে না কাজে?
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন দাবি করেন, তারা তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করেছে। যারা অপরাধে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ শাসনামলে সমাজে ভয় আর দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। এটা বিএনপিকেও ছুঁয়ে গেছে। রাতারাতি বদল সম্ভব নয়। তাই নিচ থেকে জরিপ করে যাচাই করা হচ্ছে।”
একইসাথে তিনি অভিযোগ করেন, “যা-ই হোক না কেন, প্রথমেই বিএনপির নাম টানা হয়। অথচ অনেক অভিযোগ পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি মুরাদনগরের ঘটনায় বলেন, “প্রথমে বলা হয় বিএনপি জড়িত। পরে দেখা যায় দুই ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধ, এক ভাই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত।”
বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ এখন দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। যদি এই অভিযান কার্যকর না হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ফিরবে না। আর শৃঙ্খলা ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে জনআস্থা অর্জন কঠিন হবে। তাই সময় এখনই—বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ বাস্তবায়নে কথার চেয়ে কাজে জোর দেওয়ার।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
When you login first time using a Social Login button, we collect your account public profile information shared by Social Login provider, based on your privacy settings. We also get your email address to automatically create an account for you in our website. Once your account is created, you'll be logged-in to this account.
DisagreeAgree
Connect with
I allow to create an account
When you login first time using a Social Login button, we collect your account public profile information shared by Social Login provider, based on your privacy settings. We also get your email address to automatically create an account for you in our website. Once your account is created, you'll be logged-in to this account.
DisagreeAgree
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
NewestMost Voted
জমির বিরোধে রক্তাক্ত পরিণতি
জমি নিয়ে বিরোধ, মুরাদনগরের দড়ানী পাড়ায় ফুফু-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা
আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ পিএম
কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফুফু ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দড়ানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, দড়ানীপাড়া গ্রামের খালেদা আক্তার (৭০) ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম টিটু (৩৫)। খালেদা আক্তার ওই গ্রামের বাসিন্দা। টিটু সম্পর্কে তার ভাইয়ের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক জমি নিয়ে খালেদা আক্তার ও তার ভাই বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে তাদের আরেক ভাই আবু মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যায় জমি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে আবু মিয়া দা দিয়ে খালেদা আক্তার ও মনজুরুল আলম টিটুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তাদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাইমা হক রিফাত বলেন, সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। দুজনের শরীরেই একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত আবু মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল মুরাদনগর উপজেলায় হওয়ায় মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
ঘটনার কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
প্রজাপতি চলেছে ডানা মেলে।
মনের আনন্দে তারা খেলা খেলে।
নদীতে নতুন জোয়ার এসেছে।
ঝর্ণায় এক অপূর্ব রূপ ধারণ করেছে।
পাহাড় যেনো দৃশ্যময়, রূপ ছড়িয়েছে।
সকলেই যেনো, আজকের দিনের বার্তা পেয়েছে।
আকাশ আজ রংধনুতে রঙিন হলো।
সূর্য এক নতুন আলো নিয়ে এলো।
চাঁদ যেন আজ ভিন্ন এক রূপ পেলো।
প্রকৃতি এক মায়াবী আবেশ দিলো।
ফুলগুলো আজ সুবাস ছড়ালো।
বাতাস আজ শীতল হলো।
মাটির কোমলতা যেন আরও বাড়ালো।
সকল কিছুই জানান দিলো—
জন্মদিন তোমার শুভ হলো।
আমিও জানাই শুভ কামনা।
পূর্ণ হোক তোমার মনের সকল ভাবনা।
মিলিত হোক যে যার ঠিকানা।
বন্ধ হোক প্রতিটি মানুষের ছলনা।
তোমার জন্য করি এই প্রার্থনা।
নতুন করে সাজিয়ে তোলো, তোমার জীবন।
ছিঁড়ে ফেলো না, প্রিয়জনের বাঁধন।
স্মরণ করিও আমায়, যদি হয় কখনো প্রয়োজন।
জীবন থেকে একেবারে, করিও না বিয়োজন।
শুভ জন্মদিন।
সময় হয়তো ভালো হবে, কোনো একদিন।
শুভ—শুভ জন্মদিন।
শুভ হোক তোমার জীবনের প্রতিটি দিন।
ভালো কাটুক তোমার আগামী দিন।
দোয়া করি সুখে থেকো তুমি চিরদিন।
শুভ জন্মদিন।
শোধ করে নিও, তোমার জীবনের সকল ঋণ।
হয়ো না যেনো কারো প্রশ্নের সম্মুখীন।
মেনে চলিও ইসলামের দ্বীন।
শুভ হোক তোমার শুভ জন্মদিন।
কবির পরিচিতি
আলেয়া মান্নান একজন কবি ও সাহিত্যপ্রেমী। তাঁর লেখা ৫০টিরও বেশি কবিতা জাতীয় পত্রিকা ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ভ্রমণপ্রেমী এবং ঘুরতে ভালোবাসেন। শৈশব থেকেই ছিলেন দুরন্ত ও প্রাণবন্ত।
কবির পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, কর্মজীবন ও জীবনসংগ্রামের নানা অভিজ্ঞতা। তিনি একজন মা, সংসারী, চাকরিজীবী এবং দায়িত্বশীল মানুষ। মানুষের বিপদে পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন—মানবিকতাকেই তিনি নিজের বড় পরিচয় হিসেবে মনে করেন।
জন্মস্থান: কলমাকান্দা উপজেলা, নেত্রকোনা জেলা বর্তমান ঠিকানা: যাত্রাবাড়ী, ঢাকা এনআইডি অনুযায়ী নাম: মোসাঃ আলেয়া খাতুন সাহিত্যিক নাম: আলেয়া মান্নান
জন্মদিন শুধু আনন্দ-উৎসবের একটি দিন নয়; এটি নতুন করে জীবনকে সাজানোর, প্রিয়জনদের স্মরণ করার এবং আগামী দিনগুলো আরও সুন্দরভাবে কাটানোর প্রত্যয়েরও দিন। ‘জন্মদিন’ কবিতার মাধ্যমে প্রিয় মানুষের জন্য শুভকামনা, ভালো থাকার প্রার্থনা এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে ১১টি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ও একটি রেস্তোরাঁসহ মোট ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দেবীদ্বার দক্ষিণ ও পৌর এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং একটি রেস্তোরাঁয় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সারোয়ার আকবর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. কাওসার মিয়া, দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদাত ইরতিশাম, উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুন নাহার, জেলা ও প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম সরকার, সাধারণ সম্পাদক মো. ময়নাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেবীদ্বার থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন।
যেসব প্রতিষ্ঠানে জরিমানা
অভিযানে দেবীদ্বার সদর এলাকার
মনোয়ারা হাসপাতালকে ৯০ হাজার টাকা, দেবীদ্বার মেডিকেল সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা, আবদুল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৭০ হাজার টাকা, মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৮০ হাজার টাকা, মেডিনোভা হাসপাতালকে ৫ হাজার টাকা, অ্যাপোলো হাসপাতালকে ৮০ হাজার টাকা, আলিফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা এবং দি গোমতী মেডিক্যাল সেন্টারকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া দেবীদ্বার দক্ষিণ এলাকার বাগুর মা-মনি মেডিক্যাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২০ হাজার টাকা এবং চান্দিনা মেডিনোভা হাসপাতালকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের সংবাদ পেয়ে ‘ডক্টরস ল্যাব’ বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ সরে যাওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া দেবীদ্বারের কয়লা রেস্তোরাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মালিকের ক্ষোভ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার বিভিন্ন নিয়ম-কানুন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে পাঠালেও অভিযানে যেসব কারণে জরিমানা করা হয়েছে, সেসব বিষয়ে আগে তাদের অবহিত করা হয়নি।
তার প্রশ্ন, “যে বিষয়গুলো আগে জানানো হয়নি, সেগুলোতেই হঠাৎ করে জরিমানা করা হলো কেন?”
৩৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১টিতে অভিযান
দেবীদ্বারে মোট ৩৯টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ১১টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
যেসব অনিয়মের অভিযোগ
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, জনস্বার্থে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযানে চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি নির্ধারিত ফি-এর অতিরিক্ত ফি আদায়, অপারেশন থিয়েটারে কাঠের তৈরি ফার্নিচার ও দরজা ব্যবহার, ল্যাবে এসি না থাকা, ফ্রিজে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং ফ্রিজে নিয়মবহির্ভূতভাবে ওষুধ সংরক্ষণের মতো বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া সি-ক্যাটাগরির হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বি-ক্যাটাগরির নিয়ম অনুসরণ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ও ৫২ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেবীদ্বারের সব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের নিয়ম-কানুন মেনে চিকিৎসাসেবা পরিচালনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।