শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫: অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দলে শুরু বড় ধরণের ঝাঁপাঝাঁপি

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫, ১২:৩৫ পিএম
বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫: অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দলে শুরু বড় ধরণের ঝাঁপাঝাঁপি

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ নিয়ে বড়সড় ঘোষণা এলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনো দলীয় দুর্বৃত্তদের লাগাম টানতে হিমশিম খাচ্ছে।
  • নেতারা বারবার সতর্কতা ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের কথা বললেও, তৃণমূলের চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও সহিংসতা থেমে নেই।
  • জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দলকে “পরিষ্কার” রাখতে দুর্বৃত্তদের বাদ দিয়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে বিএনপি।

বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ নিয়ে বড়সড় ঘোষণা এলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনো দলীয় দুর্বৃত্তদের লাগাম টানতে হিমশিম খাচ্ছে। নেতারা বারবার সতর্কতা ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের কথা বললেও, তৃণমূলের চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও সহিংসতা থেমে নেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এই অভিযান আদৌ কতটা ফলপ্রসূ?

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দলকে “পরিষ্কার” রাখতে দুর্বৃত্তদের বাদ দিয়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে বিএনপি। যদিও অনেক ঘটনায় বিএনপি নেতারা দাবী করছেন, তাদের নাম অন্যায়ভাবে জড়ানো হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা আসকের হিসাব অনুযায়ী, গত ১১ মাসে ৩৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ৮৭ জন নিহত ও ৩৯২৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩২৩টি ঘটনায় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন জড়িত ছিল বলে তথ্য উঠে এসেছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৭৭ জন এবং আহতদের মধ্যে ৩৬৫৩ জন বিএনপি কর্মী।

বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫
বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ নিয়ে বড়সড় ঘোষণা এলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনো দলীয় দুর্বৃত্তদের লাগাম টানতে হিমশিম খাচ্ছে। ছবি: সংগৃহিত।

এই ধরনের পরিস্থিতিতে, সম্প্রতি বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল তাদের পাঁচ সদস্যকে বহিষ্কার করেছে। অভিযোগ, তারা ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ব্যবসা ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধ থেকেই এই খুন।

এই ঘটনাটি সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করে। সন্দেহভাজন পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া লালমনিরহাটে থানায় হামলা, ভোলায় ধর্ষণ, ঢাকার রেস্তোরাঁয় নারী লাঞ্ছনা, এমনকি সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হেনস্তার মতো ঘটনায় বিএনপির নাম জড়িয়েছে। এসব ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

লালমনিরহাটের ঘটনায় বিএনপি কর্মীরা মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত দুইজনকে থানায় হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেয়। এর পর যুবদল ও বিএনপির দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বীকার করেন—“এত বড় দলে সবাই ভালো হবে, এটা আশা করা যায় না।”

ভোলার ধর্ষণকাণ্ডের ক্ষেত্রেও দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বলেন, “একটি বড় দলে কিছু খারাপ লোক থাকবেই। তাদের অপরাধের দায় পুরো দলের ওপর চাপানো উচিত নয়।”

🔎 সাংগঠনিক ব্যর্থতা?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে বিএনপি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন—“আমরা শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের শুধু বহিষ্কারই নয়, প্রয়োজনে আইনের হাতে তুলে দিচ্ছি। একই সঙ্গে সরকারকেও কঠোর হতে বলেছি।”

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর, স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বারবার সহিংসতায় জড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইতোমধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি-জুন ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে ৫২৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭৯ জন নিহত ও ৪১২৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০২টি ঘটনাই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলজনিত, যেখানে আহত হয়েছেন ২৮৩৪ জন এবং নিহত ৫৪ জন।

এই সহিংসতাগুলোর মূল কারণ হিসেবে বলা হয়েছে—দলীয় আধিপত্য, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, জমি দখল এবং চাঁদাবাজি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন—“এটা শুধু বিএনপির সমস্যা নয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থাও দায়ী।” তিনি আরও বলেন—“যারা সরাসরি অপরাধে জড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, উপস্থিত নেতাদের ছাড় দেওয়া হয়।”

লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ একমত হয়ে বলেন—“সব বড় দলেই দুর্বৃত্ত থাকে। ক্ষমতা বা ক্ষমতার সম্ভাবনা থাকলে দুর্বৃত্তরা ভিড় করে। এটা এখন আর গোপন কিছু নয়।”

🔧 তারেক রহমানের নির্দেশ কাজে আসছে না?

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বহুবার বলেছেন—তাদের দলই একমাত্র যারা অন্যায়ের দায় স্বীকার করে এবং ব্যবস্থা নেয়। লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল ভাষণে তিনি নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি ১০৫ জন নেতা স্বীকার করেছেন—দলের ভেতরেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখলের মতো অপরাধ চলছে।

তবু, এই সতর্কবার্তা বাস্তব মাঠপর্যায়ে খুব একটা কাজ করছে না।

আসকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুন—মাত্র চার মাসে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ৪০৯টি সংঘর্ষে ৩৫ জন নিহত এবং ১১০৫ জন আহত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব তথ্য ইঙ্গিত দেয়—দলটির ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন—“তারেক রহমান দূর থেকে দল চালাচ্ছেন, কিন্তু সরাসরি যোগাযোগের অভাব শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। তিনি দেশে থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।”

তিনি আরও বলেন—“এত বড় সংগঠন পরিচালনা সহজ নয়, তবে নেতৃত্ব ও শাস্তির মধ্যে দূরত্ব থাকলে তা কার্যকারিতা হারায়।”

🔍 বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫: মুখে না কাজে?

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন দাবি করেন, তারা তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করেছে। যারা অপরাধে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ শাসনামলে সমাজে ভয় আর দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। এটা বিএনপিকেও ছুঁয়ে গেছে। রাতারাতি বদল সম্ভব নয়। তাই নিচ থেকে জরিপ করে যাচাই করা হচ্ছে।”

একইসাথে তিনি অভিযোগ করেন, “যা-ই হোক না কেন, প্রথমেই বিএনপির নাম টানা হয়। অথচ অনেক অভিযোগ পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি মুরাদনগরের ঘটনায় বলেন, “প্রথমে বলা হয় বিএনপি জড়িত। পরে দেখা যায় দুই ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধ, এক ভাই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত।”

বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ এখন দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। যদি এই অভিযান কার্যকর না হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ফিরবে না। আর শৃঙ্খলা ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে জনআস্থা অর্জন কঠিন হবে। তাই সময় এখনই—বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ বাস্তবায়নে কথার চেয়ে কাজে জোর দেওয়ার।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

দারোরায় বাজিমাত করালেন সৈয়দ কায়েস মীর, ২১ কিমি সড়ক পুনর্নির্মাণে অনুমোদন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
দারোরায় বাজিমাত করালেন সৈয়দ কায়েস মীর, ২১ কিমি সড়ক পুনর্নির্মাণে অনুমোদন

বি-স্ট্রং প্রকল্পে মুরাদনগরের ১০ সড়ক ও একাধিক কালভার্ট-ড্রেনের উন্নয়ন, দারোরা ইউনিয়নেই প্রায় ২০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের প্রত্যাশা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণে প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল রিকভারি, ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স (বি-স্ট্রং) প্রকল্পের আওতায় এসব কাজ বাস্তবায়িত হবে।

স্থানীয়ভাবে এ উন্নয়ন উদ্যোগের পেছনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের আপন মামা, জননেতা সৈয়দ কায়েস আহমেদ মীরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁর প্রচেষ্টায় দারোরা ইউনিয়নের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

এলজিইডি হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা থেকে জারি করা দাপ্তরিক স্মারক অনুযায়ী, মুরাদনগর উপজেলার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসনে পৃথক দুটি প্যাকেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুই প্যাকেজে মোট ২০ দশমিক ৮২৯ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসনের পাশাপাশি বক্স কালভার্ট ও ইউ-ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম প্যাকেজের আওতায় ১১ দশমিক ৪০১ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন এবং ৫ দশমিক ৪০ মিটার বক্স কালভার্ট/ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এ প্যাকেজে রয়েছে খুরুইল বাজার-শিদ্বেশ্বরী বাজার-দারোরা ইউপি-দারোরা বাজার-রায়তলা সড়ক, চন্দানাইল-সালপা-পান্নাই সড়ক (পিপুরিয়াকান্দা সড়ক হয়ে), পুষ্করুনিপার সড়ক (শহীদ রামিউদ্দিন সড়ক), দৌলতপুর-ধনপতিখোলা সড়ক এবং নাঈরপাড়-আলখাল সড়ক।

দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় ৯ দশমিক ৪২৮ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন এবং ১ দশমিক ৮০ মিটার ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এ তালিকায় রয়েছে পালাসুতা (দারোরা ইউপি)-সুবিলাড়চর (বুরারচর বাজার) সড়ক, শুশুন্ডা বাজার-দারোরা বাজার সড়ক (পায়ব রোড হয়ে), সুরানন্দি-নিয়ামতকান্দি আরএইচডি সড়ক, চাপিতলা-বাইড়া সড়ক এবং পিপুরিয়া-রোয়াচলা-দানাপাতিখোলা সড়ক।

বিশেষ করে দারোরা ইউনিয়নের খুরুইল বাজার-শিদ্বেশ্বরী বাজার-দারোরা ইউপি-দারোরা বাজার-রায়তলা সড়ক, পালাসুতা-সুবিলাড়চর সড়ক, শুশুন্ডা বাজার-দারোরা বাজার সড়ক এবং সুরানন্দি-নিয়ামতকান্দি সড়কের উন্নয়ন স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দারোরা বাজারের উন্নয়নেও প্রায় কোটি টাকার বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উভয় প্যাকেজের কাজ শেষ করতে ৫৪০ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বানের জন্য কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে অনুমোদিত দাপ্তরিক স্মারকে প্রকল্পগুলোর নির্দিষ্ট আর্থিক বরাদ্দ উল্লেখ করা হয়নি। প্রাক্কলন যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের পর দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ব্যয় নির্ধারিত হবে।

এদিকে সৈয়দ কায়েস আহমেদ মীরের প্রচেষ্টায় দারোরা ইউনিয়নে সড়ক, কালভার্ট ও বাজার উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ২০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইউনিয়নের গ্রামীণ যোগাযোগ, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনসাধারণের দৈনন্দিন চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সকালের স্নিগ্ধতায় চা-বিস্কুটের অমৃত ছোঁয়া: দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে একটু প্রশান্তি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
সকালের স্নিগ্ধতায় চা-বিস্কুটের অমৃত ছোঁয়া: দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে একটু প্রশান্তি

সোনালী টোস্টে চায়ের চুমুক: যান্ত্রিকতার ভিড়ে এক টুকরো স্নিগ্ধ সকাল

জীবনের যান্ত্রিকতা আর কর্মব্যস্ততার ভিড়ে আমরা অনেকেই নিজেদের জন্য একটু সময় বের করতে ভুলে যাই। অথচ সকালের স্নিগ্ধ আলোয় কিংবা একান্তে কাটানো কিছু মুহূর্ত পুরো দিনের জন্য আমাদের শক্তি জোগাতে পারে। আজ খুব ভোরে নিজ হাতে তৈরি এক কাপ গরম ধোঁয়া ওঠা চা আর মুচমুচে টোস্ট বিস্কুট দিয়ে এমনই এক সুন্দর ও প্রাণবন্ত সকালের শুরু হয়েছে।

বাঙালি সংস্কৃতিতে সকালের নাশতায় কিংবা আড্ডায় চা-বিস্কুট এক চিরচেনা ও আরামদায়ক নাম। ঘুম জড়ানো ভোরে চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার অনুভূতিটাই আলাদা। বিশেষ করে সোনালী রঙের মুচমুচে টোস্ট বিস্কুট যখন চায়ের ছোঁয়া পেয়ে নরম হয়ে আসে, তখন তা কেবল একটি খাবারই থাকে না, বরং এটি হয়ে ওঠে স্মৃতির পাতায় ডুব দেওয়ার এক জাদুকরি মাধ্যম।

ব্যস্ততম সাংবাদিকতা ও সংবাদ পরিচালনার নানা ঝক্কিঝামেলা আর খবরের অন্তহীন দুনিয়ায় ডুব দেওয়ার আগে এমন একটি গোছানো ও ঘরোয়া সকালের নাশতা মনকে সতেজ ও ফুরফুরে রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখে। কাচের বয়াম থেকে পছন্দের টোস্ট বিস্কুট তুলে নিয়ে চায়ের পেয়ালার পাশে সাজিয়ে রাখার এই ছোট আয়োজনটুকু আমাদের শিকড়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

আধুনিকতার ছোঁয়া যতই লাগুক না কেন, খাঁটি বাঙালিিয়ানার এই ছোট অভ্যাসগুলোই আমাদের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে তোলে। ব্যস্ত জীবনের হাজারো কাজের মাঝেও এমন ছোট্ট কিছু মুহূর্ত নিজের জন্য বাঁচিয়ে রাখাটাই আসল জীবনবোধ।

সাংবাদিক মেহেদী হাসান বাবুর বাবা নেওয়াজ আলী সর্দার আর নেই

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
সাংবাদিক মেহেদী হাসান বাবুর বাবা নেওয়াজ আলী সর্দার আর নেই

বুড়িচংয়ে জানাজা সম্পন্ন, বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাসিন্দা এবং দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশ ও ডেইলি বাংলাদেশ আপডেট পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক মেহেদী হাসান বাবুর বাবা নেওয়াজ আলী সর্দার আর নেই। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাদ আসর কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জরুইন গ্রামের বাড়ির ঈদগাহ মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদদীনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

নেওয়াজ আলী সর্দার জীবদ্দশায় এলাকায় শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাবার মৃত্যুতে শোকাহত সাংবাদিক মেহেদী হাসান বাবু মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এদিকে নেওয়াজ আলী সর্দারের মৃত্যুতে সাংবাদিক সহকর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

×
ENG