সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫: অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দলে শুরু বড় ধরণের ঝাঁপাঝাঁপি

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫, ১২:৩৫ পিএম
বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫: অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দলে শুরু বড় ধরণের ঝাঁপাঝাঁপি
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ নিয়ে বড়সড় ঘোষণা এলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনো দলীয় দুর্বৃত্তদের লাগাম টানতে হিমশিম খাচ্ছে। নেতারা বারবার সতর্কতা ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের কথা বললেও, তৃণমূলের চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও সহিংসতা থেমে নেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এই অভিযান আদৌ কতটা ফলপ্রসূ?

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দলকে “পরিষ্কার” রাখতে দুর্বৃত্তদের বাদ দিয়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে বিএনপি। যদিও অনেক ঘটনায় বিএনপি নেতারা দাবী করছেন, তাদের নাম অন্যায়ভাবে জড়ানো হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা আসকের হিসাব অনুযায়ী, গত ১১ মাসে ৩৪৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ৮৭ জন নিহত ও ৩৯২৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩২৩টি ঘটনায় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন জড়িত ছিল বলে তথ্য উঠে এসেছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৭৭ জন এবং আহতদের মধ্যে ৩৬৫৩ জন বিএনপি কর্মী।

বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫
বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ নিয়ে বড়সড় ঘোষণা এলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনো দলীয় দুর্বৃত্তদের লাগাম টানতে হিমশিম খাচ্ছে। ছবি: সংগৃহিত।

এই ধরনের পরিস্থিতিতে, সম্প্রতি বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল তাদের পাঁচ সদস্যকে বহিষ্কার করেছে। অভিযোগ, তারা ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ব্যবসা ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধ থেকেই এই খুন।

এই ঘটনাটি সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করে। সন্দেহভাজন পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া লালমনিরহাটে থানায় হামলা, ভোলায় ধর্ষণ, ঢাকার রেস্তোরাঁয় নারী লাঞ্ছনা, এমনকি সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হেনস্তার মতো ঘটনায় বিএনপির নাম জড়িয়েছে। এসব ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

লালমনিরহাটের ঘটনায় বিএনপি কর্মীরা মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত দুইজনকে থানায় হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেয়। এর পর যুবদল ও বিএনপির দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বীকার করেন—“এত বড় দলে সবাই ভালো হবে, এটা আশা করা যায় না।”

ভোলার ধর্ষণকাণ্ডের ক্ষেত্রেও দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বলেন, “একটি বড় দলে কিছু খারাপ লোক থাকবেই। তাদের অপরাধের দায় পুরো দলের ওপর চাপানো উচিত নয়।”

🔎 সাংগঠনিক ব্যর্থতা?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে বিএনপি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন—“আমরা শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের শুধু বহিষ্কারই নয়, প্রয়োজনে আইনের হাতে তুলে দিচ্ছি। একই সঙ্গে সরকারকেও কঠোর হতে বলেছি।”

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর, স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বারবার সহিংসতায় জড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইতোমধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি-জুন ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে ৫২৯টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭৯ জন নিহত ও ৪১২৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০২টি ঘটনাই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলজনিত, যেখানে আহত হয়েছেন ২৮৩৪ জন এবং নিহত ৫৪ জন।

এই সহিংসতাগুলোর মূল কারণ হিসেবে বলা হয়েছে—দলীয় আধিপত্য, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, জমি দখল এবং চাঁদাবাজি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন—“এটা শুধু বিএনপির সমস্যা নয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থাও দায়ী।” তিনি আরও বলেন—“যারা সরাসরি অপরাধে জড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, উপস্থিত নেতাদের ছাড় দেওয়া হয়।”

লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ একমত হয়ে বলেন—“সব বড় দলেই দুর্বৃত্ত থাকে। ক্ষমতা বা ক্ষমতার সম্ভাবনা থাকলে দুর্বৃত্তরা ভিড় করে। এটা এখন আর গোপন কিছু নয়।”

🔧 তারেক রহমানের নির্দেশ কাজে আসছে না?

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বহুবার বলেছেন—তাদের দলই একমাত্র যারা অন্যায়ের দায় স্বীকার করে এবং ব্যবস্থা নেয়। লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল ভাষণে তিনি নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি ১০৫ জন নেতা স্বীকার করেছেন—দলের ভেতরেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখলের মতো অপরাধ চলছে।

তবু, এই সতর্কবার্তা বাস্তব মাঠপর্যায়ে খুব একটা কাজ করছে না।

আসকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুন—মাত্র চার মাসে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ৪০৯টি সংঘর্ষে ৩৫ জন নিহত এবং ১১০৫ জন আহত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব তথ্য ইঙ্গিত দেয়—দলটির ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন—“তারেক রহমান দূর থেকে দল চালাচ্ছেন, কিন্তু সরাসরি যোগাযোগের অভাব শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। তিনি দেশে থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।”

তিনি আরও বলেন—“এত বড় সংগঠন পরিচালনা সহজ নয়, তবে নেতৃত্ব ও শাস্তির মধ্যে দূরত্ব থাকলে তা কার্যকারিতা হারায়।”

🔍 বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫: মুখে না কাজে?

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন দাবি করেন, তারা তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করেছে। যারা অপরাধে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ শাসনামলে সমাজে ভয় আর দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। এটা বিএনপিকেও ছুঁয়ে গেছে। রাতারাতি বদল সম্ভব নয়। তাই নিচ থেকে জরিপ করে যাচাই করা হচ্ছে।”

একইসাথে তিনি অভিযোগ করেন, “যা-ই হোক না কেন, প্রথমেই বিএনপির নাম টানা হয়। অথচ অনেক অভিযোগ পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি মুরাদনগরের ঘটনায় বলেন, “প্রথমে বলা হয় বিএনপি জড়িত। পরে দেখা যায় দুই ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধ, এক ভাই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত।”

বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ এখন দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। যদি এই অভিযান কার্যকর না হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ফিরবে না। আর শৃঙ্খলা ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে জনআস্থা অর্জন কঠিন হবে। তাই সময় এখনই—বিএনপির শুদ্ধি অভিযান ২০২৫ বাস্তবায়নে কথার চেয়ে কাজে জোর দেওয়ার।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

শোকে স্তব্ধ পরিবার-এলাকা

ডাব পাড়তে গিয়ে প্রাণ গেল সাংবাদিকপুত্রের, পলাশবাড়ীতে কলেজছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

সিরাজুল ইসলাম রতন, গাইবান্ধা থেকে : প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৮:৪৪ এএম
ডাব পাড়তে গিয়ে প্রাণ গেল সাংবাদিকপুত্রের, পলাশবাড়ীতে কলেজছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

পলাশবাড়ীতে নারিকেল গাছ থেকে পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু, সাংবাদিক মহলে শোক

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ডাব পাড়তে গিয়ে নারিকেল গাছ থেকে পড়ে মাসুদ সরকার (২২) নামে এক কলেজছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে তিনি স্থানীয় এক সাংবাদিকের ছেলে হওয়ায় সাংবাদিক মহলেও গভীর শোক বিরাজ করছে।

রোববার (৩১ মে) সকাল প্রায় ১১টার দিকে পলাশবাড়ী পৌর শহরের রাইগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মাসুদ সরকার পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাংবাদিক শাহ আলম সরকারের কনিষ্ঠ ছেলে। তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে একটি নারিকেল গাছে ডাব পাড়ার জন্য ওঠেন মাসুদ। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তার হাত ফসকে যায় এবং তিনি গাছ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

পলাশবাড়ী মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নিহতের নিকটাত্মীয় রবিউল হোসেন পাতা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স তার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

এদিকে তরুণ শিক্ষার্থী মাসুদের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে। একই সঙ্গে পলাশবাড়ীতে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যেও গভীর শোক নেমে এসেছে।

পলাশবাড়ীর সাংবাদিক নেতারা শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

তেহরানে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে

ইরানের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি, রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৭:২৪ এএম
ইরানের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি, রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা

ইরানে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চরমে! পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান—দাবি প্রতিবেদনের

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেছে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। তবে এ বিষয়ে এখনো ইরান সরকার কিংবা দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

রোববার (৩১ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে জানায়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পদত্যাগপত্রে পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে সরকার ও প্রেসিডেন্টের কার্যালয়কে কার্যত দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর কট্টরপন্থি অংশ রাষ্ট্র পরিচালনায় অধিক প্রভাব বিস্তার করছে।

সূত্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং কার্যকরভাবে সরকার পরিচালনা করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই তিনি পদত্যাগের অনুমোদন চেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে কি না, কিংবা এ বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—সেসব বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কার্যালয়ও বিষয়টি নিয়ে নীরব রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সরকার ও সামরিক-নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছিল, এই খবর তারই একটি প্রতিফলন হতে পারে। ইরান ইন্টারন্যাশনাল এর আগেও দাবি করেছিল, আইআরজিসি ধীরে ধীরে প্রেসিডেন্টের কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত করেছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে পেজেশকিয়ান প্রশাসন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এতে সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, মন্ত্রিসভার কার্যক্রম এবং কূটনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হয়। এরপর নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে আইআরজিসির প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

তবে প্রেসিডেন্টের কথিত পদত্যাগ নিয়ে এখনো কোনো স্বাধীন বা সরকারি সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা বাড়লেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

বীরত্বের স্বীকৃতি বিশ্বমঞ্চে

ড্রোন হামলায় শহীদ ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পাচ্ছেন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৩:৩১ এএম
ড্রোন হামলায় শহীদ ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পাচ্ছেন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা

মরণোত্তর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

আফ্রিকার আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করা হবে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের সর্বোচ্চ এ সম্মাননা আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তুলে দেবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

জাতিসংঘের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং সান্ত মণ্ডল।

তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আফ্রিকার আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-তে দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র ড্রোন হামলায় নিহত হন। দায়িত্ব পালনের সময় তাদের আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

এবারের অনুষ্ঠানে গত এক বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের ছয় বীর শান্তিরক্ষী।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। বর্তমানে শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অবদানকারী দেশ। আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারাসহ বিভিন্ন মিশনে ২৭৭ জন নারী সদস্যসহ চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষী কর্মরত রয়েছেন। ১১৮টি দেশ জাতিসংঘের ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল সরবরাহ করছে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০২ সালে ২৯ মে-কে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সালে প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস ট্রুস সুপারভিশন অর্গানাইজেশন (UNTSO)’ প্রতিষ্ঠার স্মরণে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ (Investing in Peace)।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×