“সেনাপ্রধান ওয়াকার মিডিয়ার সামনে নাটক করেন। কিন্তু বাস্তবে হামলার সহযোগী তিনিই। জুতার মালা পাবেন একদিন।”
— নবনীতা চৌধুরী, বিশ্লেষক ও সাংবাদিক

বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার এর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে জনগণ। একের পর এক মব হামলা, সাবেক নির্বাচন কমিশনারের উপর জুতার মালা পরানো, আদালতের আসামিদের উপর হামলা এবং পুলিশকে মারধরের ঘটনার পরও সেনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে।
এই প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার বিশ্লেষক ও সাংবাদিক নবনীতা চৌধুরী তার ভিডিও বার্তায় বলেন,
“মিডিয়ার সামনে সেনাপ্রধান শুধু মিথ্যা ডায়লগ দেন। বাস্তবে মবকে সহযোগিতা করছে সেনাবাহিনী। একদিন তাকেও জুতার মালা পরানো হবে।”
তার এই মন্তব্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ সব দেখছে, এবং এই সেনাপ্রধানকে ভবিষ্যতে কেউ রেহাই দেবে না।
সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে থেকেও প্রতিনিয়ত মব সহিংসতা ও হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকারুজ্জামান। বরং তার বারবার দেওয়া ‘মব সহিংসতা বরদাশত করা হবে না’ ধাঁচের বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বাস্তবচিত্রে।
সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী নবনীতা চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
“জুতার মালায় রেহাই পাবেন না ওয়াকার।”
নবনীতার অভিযোগ, ওয়াকারুজ্জামান প্রতিনিয়ত জনসাধারণ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে সংবেদনশীল ভাষায় শান্তির আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তিনি নিজ বাহিনীর মদদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী মতাবলম্বীদের ওপর সহিংসতা ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
🔥 নূরুল হুদাকে ঘিরে উত্তেজনা
রোববার উত্তরা এলাকায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নূরুল হুদাকে ৪০–৪৫ জনের একটি মব টেনে নামিয়ে, অপমান করে পুলিশে তুলে দেয়। অভিযোগ উঠেছে—এই মবের সাথে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন যুক্ত।
দারোয়ান ফেরদৌস বলেন:
“তারা গেট খোলা পেয়ে ঢুকে পড়ে। বলে, নিরাপত্তা দিতে এসেছি। এরপর স্যারকে টেনে নিচে নামিয়ে আনে।”
এই ঘটনায় কারও গ্রেফতার না হওয়া এবং পুলিশি নিরবতায় সেনাবাহিনীর পক্ষপাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
📊 মব সন্ত্রাসের ভয়াবহ চিত্র
১০ মাসে নিহত: ১৭৪ জন
আসক (ASK): ৮৩ জন শুধু ২০২৫ সালে
MSF: আহত হয়েছেন ৩৬৩ জন
পুলিশের ওপর হামলার মামলা: ৪৭৭টি
নবনীতা আরও বলেন, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ওপর জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা, আসামিদের ওপর আদালতের প্রাঙ্গণে ডিম নিক্ষেপ, হামলা, মারধরের ঘটনায় সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। অথচ এসব ঘটনা ঘটার পরও সেনাপ্রধান ওয়াকারুজ্জামান মুখে শুধু সংযমের বুলি আওড়িয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে আরও সমালোচনার জন্ম দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খানও। আদালত চত্বরে এক সাংবাদিককে বলেন,
“এটা ঠিক হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মব সৃষ্টি করে মারা হচ্ছে… এক মাঘে শীত যায় না, এর বিচার হবে।”
🛑 জনরোষ বাড়ছে, জবাবদিহি চায় মানুষ
নবেনীতা চৌধুরীর মতে,
“সেনাপ্রধানের চেহারা আর প্রতিশ্রুতি—দুটোই জনগণের সাথে তামাশা। একদিন তাকে জুতার মালা পরানো হবে। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রযন্ত্র যখন জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তখন এমন ঘৃণা সমাজে বিস্তৃত হওয়াটাই স্বাভাবিক।
সেনাপ্রধান ওয়াকার এর প্রতি মানুষের হতাশা এখন আর চাপা নেই। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা—এ সহিংসতা ও নেতৃত্বহীনতার শেষ কোথায় হয়।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী