বিএনপির চীন সফর ঘিরে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। শীর্ষ নেতাদের এই ঘন ঘন কূটনৈতিক তৎপরতাকে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক পর্যবেক্ষণে তিনি স্পষ্টতই এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “বিএনপি নেতাদের ঘন ঘন চীন সফরে আতঙ্ক অনুভব করছি।” তার মতে, নির্বাচনকেন্দ্রিক ক্ষমতার লড়াইয়ে যে রাজনৈতিক “দম” বা মনোবল থাকা প্রয়োজন, তা দলটির মধ্যে ধীরে ধীরে কমে আসছে।
গোলাম মাওলা রনি তার বিশ্লেষণে বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতির দুটি প্রধান পথের কথা উল্লেখ করেন—এক, রাজপথের গণআন্দোলন এবং দুই, যুদ্ধ বা সরাসরি সংঘাত। তিনি ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৭১ সালে ভারতের সশস্ত্র সহায়তা যেমন দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপও রাজনীতির ময়দানে একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।

তিনি মনে করেন, এই ঐতিহাসিক বাস্তবতাগুলো প্রমাণ করে যে, দেশের ক্ষমতায় টিকে থাকা বা যাওয়ার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং ক্ষেত্রবিশেষে প্রভাবশালী বিদেশি শক্তির কৌশলগত ভূমিকা থাকে, যা সাধারণ কূটনৈতিক সফরের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়।
বিএনপির চীন সফর এবং এ ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে গোলাম মাওলা রনি চূড়ান্তভাবে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, চীন, জাপান, ভারত বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলকে সরাসরি ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়নি। বরং ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই দেশগুলোর ভূমিকা প্রায়শই কোনো পক্ষকে ক্ষমতা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। রনির এই মন্তব্য বিএনপির বর্তমান কৌশলকে এক ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করার সুযোগ তৈরি করেছে, যা দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপির চীন সফর এবং এ ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে গোলাম মাওলা রনি চূড়ান্তভাবে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, চীন, জাপান, ভারত বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলকে সরাসরি ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়নি। বরং ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এসব দেশ নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকেই গুরুত্ব দেয় এবং কোনো দুর্বল বা জনবিচ্ছিন্ন দলকে সমর্থন দিয়ে তারা নিজেদের অবস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলে না। রনির এই মন্তব্য বিএনপির বর্তমান কৌশলকে এক ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করার সুযোগ তৈরি করেছে, যা দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী