মুরাদনগরের গর্ব সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডয়চে ভেলে ও নিউইয়র্কের ‘ঠিকানা’ পর্যন্ত
সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন—এই নামটি কেবল কুমিল্লার মুরাদনগরের গর্ব নয়, বরং বাংলাদেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনে এক উজ্জ্বলতম পরিচিতি। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দরানীপাড়া গ্রামের খন্দকার বাড়ির সন্তান তিনি। তাঁর পৈত্রিক নিবাস খন্দকার বাড়ি, যেখানেই আজও তাঁর পূর্বপুরুষদের স্মৃতি রয়ে গেছে। ১৯৭৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্ম নেওয়া এই কৃতি পুরুষের শিকড় কিন্তু গাঁথা মাটি ও মানুষের স্নেহ-ভালোবাসায় পরিপূর্ণ মুরাদনগরের এই ছোট্ট গ্রামে।
খালেদ মুহিউদ্দীনের দাদা আবদুর রউফ খন্দকার কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুর থেকে মুরাদনগরে এসে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর বাবা মোজাম্মেল হক খন্দকার ছিলেন রেলওয়ের কর্মকর্তা। শিক্ষাজীবন শুরু হয় নৌবাহিনী স্কুল (বর্তমান নৌবাহিনী কলেজ, ঢাকা) থেকে। এরপর এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিনিস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের পেশাগত জীবন শুরু হয় সাংবাদিকতা দিয়ে। কিছু সময় বাংলাদেশ সরকারের সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি প্রথম আলোতে সিনিয়র রিপোর্টার ও নগর পাতার সম্পাদক ছিলেন। বিডিনিউজ২৪ডটকম, আমাদের অর্থনীতি, সাপ্তাহিক কাগজ, মিডিয়া ওয়াচ— প্রতিটি জায়গায় তাঁর সম্পাদনা ও নেতৃত্ব গুণে প্রতিষ্ঠানগুলো পেয়েছে আলোকিত দিকনির্দেশনা।
ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন। পাশাপাশি ৭ বছর ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে নির্বাহী সম্পাদক ও জনপ্রিয় টক শো ‘আজকের বাংলাদেশ’-এর উপস্থাপক হিসেবে ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি এডওয়ার্ড আর. মুরো ফেলো হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন এবং ২০০৮-০৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট তিনি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র ঠিকানা-তে প্রধান সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন, যা সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের সাংবাদিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
কলমে জাত চিনিয়েছেন তিনি—তিনি শুধু মুরাদনগরের অহংকার নয়, সমগ্র বাংলার অহংকার
লেখালেখিতেও তাঁর অবদান প্রশংসনীয়। তাঁর লেখা ৯টি বইয়ের মধ্যে যোগাযোগের ধারণা ও যোগাযোগের তত্ত্ব ঢাকা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও কয়েকজন আমি, এক মিলেনিয়াম আগের গল্প, মানুষী দুর্বলতা, তিষ্ঠ ক্ষণকাল ও কন্ট্রোল সি কন্ট্রোল ভি সহ আরও কয়েকটি বই তাঁকে একজন শক্তিশালী লেখক হিসেবেও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
পারিবারিক জীবনে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের স্ত্রী ফারহানা শাওন একজন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং তাঁদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। স্ত্রী তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে ছায়াসঙ্গী হয়ে পাশে থেকেছেন।
মুরাদনগরের মানুষ সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনকে নিয়ে গর্ব করেন। তাঁর সম্পর্কে ফুফাত ভাই ফজলুর রহমান বলেন, “খালেদ ভাইকে আমি প্রথম দেখি প্রায় ১০/১১ বছর আগে, তখন তিনি কুমিল্লা কোর্টে কর্মরত ছিলেন। আজ তিনি যেখানে পৌঁছেছেন, তা আমাদের গ্রামের জন্য এক বড় সম্মান।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশে ইয়েমেনের অনারারি কনসুলার জেনারেল ও টিএএস এভিয়েশন গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হক বলেন, “খালেদ মুহিউদ্দীনের মতো মেধাবী, নীতিবান ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক আমাদের সমাজের প্রেরণা। তিনি শুধু কুমিল্লার গর্ব নন, বাংলাদেশেরও একটি মূল্যবান সম্পদ।”
“সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন শুধু একজন পেশাজীবী নন, তিনি আমাদের সময়ের এক অনন্য চিন্তাবিদ ও জাতির বিবেক। তাঁর সাংবাদিকতা, লেখালেখি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান আমাদের পুরো মুরাদনগরের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি আমাদের প্রমাণ করে দিয়েছেন—একজন সাধারণ গ্রামের সন্তানও প্রতিভা, নিষ্ঠা ও শ্রমের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে পারেন। আমরা তাঁর সাফল্যে যেমন অনুপ্রাণিত, তেমনি কৃতজ্ঞ। সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের মতো ব্যক্তিত্ব মুরাদনগরের ইতিহাসে চিরভাস্মর হয়ে থাকবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও আরও সৃষ্টিশীল অর্জনের জন্য দোয়া করছি।” — বলেন মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আজকের কথা পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী