প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তীব্র হচ্ছে বন্যা, জরুরি নির্দেশনায় মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন
রোমানা আক্তার
অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মুরাদনগরে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধে বালির বস্তা
অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। এ অবস্থায় বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহে বালির বস্তা ফেলে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর। ছবি : আজকের কথা।
বিশেষভাবে, রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের বেড়িবাঁধে তাৎক্ষণিক মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য উপজেলা কার্যালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে বলে জানানো হয়।
দুর্যোগ সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য দ্রুত জানাতে নিচের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে:
জহিরুল ইসলাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মুঠোফোন – ০১৮১৯-৯৪৫২৬৩, হান্নান শেখ উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পিআইও অফিস)- মুঠোফোন ০১৭৪৪-৩৬১২৩৩, মো. মঞ্জুর আলম খান অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মুঠোফোন- ০১৮১৪-৪৩০৮৮৯, আসাদুজ্জামান (সুমন) কার্য-সহকারী- মুঠোফোন- ০১৭২২-৫৬০২২৩।
এছাড়া, জেলা প্রশাসক, ত্রাণ কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগ: মো. আবদুর রহমান
উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মুরাদনগর
ফোন: ০২৩৩৪৪-০৮৯২০
ইমেইল: unomuradnagarl@gmail.com
টানা ভারী বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে ও অতি বৃষ্টির কারনে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছবি: আজকের কথা।
পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে গোমতী নদীর পানি, কুমিল্লায় বন্যার শঙ্কা
টানা ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হু হু করে বাড়ছে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি। ফলে জেলার কয়েকটি উপজেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে গোমতী নদীর পানি ৮ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। যা বিপৎসীমার ৩ মিটার নিচে। গোমতী নদীর বিপৎসীমা ১১ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে গত ২৪ ঘণ্টায় গোমতীর পানি ৫ মিটারের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। কুমিল্লা অঞ্চলের পাশাপাশি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ওই রাজ্যের পানি গোমতী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুমিল্লা অংশের দিকে নামছে।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. ওয়ালিউজ্জামান বলেন, টানা ভারী বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে ও অতি বৃষ্টির কারনে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টি থেমে গেলে এবং উজানের ঢল বন্ধ হলে বিপদ কাটতে পারে। নতুবা বন্যার শঙ্কা রয়ে যাবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।