বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

গোমতী নদীর পানিবৃদ্ধি ও বিপদসীমার আশঙ্কা: কুমিল্লায় জরুরি সতর্কতা জারি

Mohammad Shariful Alam Chowdhury প্রকাশিত: বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫, ২:৪৫ পিএম
গোমতী নদীর পানিবৃদ্ধি ও বিপদসীমার আশঙ্কা: কুমিল্লায় জরুরি সতর্কতা জারি

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দ্রুত বাড়ছে গোমতী নদীর পানি। এতে কুমিল্লা জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং ফসলি চরসমূহ প্লাবিত হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ফের বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দুদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দ্রুত বাড়ছে গোমতী নদীর পানি, বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থানে গোমতী; বন্যা সতর্কতায় প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন

গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি ও বন্যা সতর্কতায়

গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে কুমিল্লায়। টানা দুদিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা সতর্কতায় পদক্ষেপের জন্য বুধবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টায় গোমতীর পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৩০ মিটার, যা বিপদসীমা থেকে মাত্র ৩ মিটার নিচে রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, গোমতীর পানি দ্রুতগতিতে বাড়ছে। “পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে,” তিনি জানান। নদীর পানি বর্তমানে ৮.৩০ মিটারে অবস্থান করছে, যেখানে বিপদসীমা ১১.৩০ মিটার।

প্রশাসনের সতর্ক বার্তা : কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, গোমতীর আশেপাশের বসবাসকারী মানুষ, বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল ও ভাঙনপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধার দল, শুকনো খাবার এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র।

পুরাতন গোমতী: মৃতপ্রায় নদীর কান্না : পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ষাটের দশকে শহর রক্ষায় গোমতীর গতিপথ পরিবর্তন করে প্রায় ৬ কিমি দীর্ঘ অংশ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই অংশ এখন ‘পুরাতন গোমতী’ বা ‘মরা নদী’ নামে পরিচিত, যা অবৈধ দখল ও দূষণে মৃতপ্রায়। সেখানে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, ঘরবাড়ি আর ময়লার স্তুপ।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, “২০২১ সালে একনেক সভায় গোমতী উন্নয়ন প্রকল্পে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু দখলদার উচ্ছেদে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।”

গোমতী শুধু একটি নদী নয়, এটি কুমিল্লা শহরের প্রাণ। তবে আজ সেই প্রাণের অস্তিত্ব হুমকিতে। প্রতি বর্ষায় শহরবাসী আতঙ্কে থাকে—কখন গোমতীর পানি বাঁধ উপচে জীবন-সম্পদ ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। দখলদার উচ্ছেদ, নদী পুনরুদ্ধার এবং নিরবচ্ছিন্ন পানি ব্যবস্থাপনার জন্য এখনই চাই কার্যকর এবং সাহসী উদ্যোগ। নইলে গোমতীর মৃত্যু হবে আমাদের অবহেলার প্রতিচ্ছবি।

গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি এখন শুধু একটি মৌসুমি খবর নয়—এটি একটি চলমান দুর্যোগ সংকেত। প্রশাসনের সতর্কতা প্রশংসনীয়, তবে জনগণের সচেতনতাও জরুরি। নদীর জীবন্ত ধারা রক্ষা করতে না পারলে একদিন গোমতী কেবল মানচিত্রে থাকবে, বাস্তবে নয়।

👉 “Stay alert, stay aware!”

👉 আপনি কি গোমতী নদীপাড়ে বা নিম্নাঞ্চলে বাস করছেন? এখনই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিন।
👉 পরিস্থিতি জানুন, অন্যকেও জানান—এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন।
👉 প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলুন, জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ অথবা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

✅ পরিবেশ রক্ষায় আমাদের অংশগ্রহণই পারে নদীকে বাঁচাতে।
📢 গোমতীকে বাঁচাতে এখনই আওয়াজ তুলুন!

এলাকার খবর

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী পদের ২৯ ও ৩০ জুলাইয়ের ভাইভা স্থগিত, নতুন তারিখ ঘোষণা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৯ এএম
মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী পদের ২৯ ও ৩০ জুলাইয়ের ভাইভা স্থগিত, নতুন তারিখ ঘোষণা

কুমিল্লার মুরাদনগরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্য ভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহকারী পদে ২৯ ও ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষাটি আয়োজনের জন্য নতুন পরিবর্তিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (২৯ জুলাই) মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড অফিসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক জরুরী ঘোষণার মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ইস্যুকৃত স্মারক অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্য ভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে আবেদনকারীদের শিক্ষা সনদ ও অন্যান্য দলিলাদি যাচাই-বাছাই শেষে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী:

  • ২ আগস্ট (রবিবার): মুরাদনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহকারীদের মৌখিক পরীক্ষা সকাল ১০:০০ টা হতে উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হবে।
  • ৩ আগস্ট (সোমবার): বাংগরা উপজেলার মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ তথ্যসংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন কমিটির সদস্য-সচিব বরুণ চন্দ্র দে স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ: সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৪৪ এএম
বিশ্ব বাঘ দিবস আজ: সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস। একসময় চোরা শিকারি, বনদস্যু ও মানুষের হামলায় সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়েছিল। তবে কঠোর আইন প্রয়োগ, স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ, ড্রোন নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলেছে। বাঘ হত্যা ও মানুষ-বাঘের সংঘাত কমলেও জলবায়ু পরিবর্তন, চোরা শিকার, পাচার এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।

আজ (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ শুধু একটি বিপন্ন প্রাণীকে রক্ষা নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াই।

বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে বাঘ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে বাঘ হত্যা, পাচার ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত হয়। এরপর থেকেই প্রযুক্তিনির্ভর সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করে বন বিভাগ।

বন বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুমারিতে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টি। ২০১৪ সালে যেখানে ছিল ১০৬টি, ২০১৮ সালে ছিল ১১৪টি। ধারাবাহিক এই বৃদ্ধি সংরক্ষণ কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে গত প্রায় আড়াই দশকে পূর্ব সুন্দরবনে অন্তত ৯১টি বাঘের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে চোরা শিকারিদের হাতে ২৬টি, বনদস্যুদের হাতে ১৮টি, গ্রামবাসীর পিটুনিতে ১৪টি, বার্ধক্যে ২১টি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনটি বাঘ মারা গেছে। একই সময়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪২৫ জন বনজীবী।

বন বিভাগের দাবি, স্মার্ট পেট্রোলিং, নিয়মিত টহল, ক্যামেরা ট্র্যাপ, ড্রোন নজরদারি ও বন অপরাধ দমনের ফলে ২০২৪ সালের পর থেকে সুন্দরবনে কোনো বাঘ হত্যা বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনী। প্রায় ছয় মাস চিকিৎসার পর গত ১২ জুলাই সেটিকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়। বাঘিনীর চলাচল পর্যবেক্ষণে বনাঞ্চলের প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় ২০টি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্ব বাঘ দিবসের আগেই পূর্ব সুন্দরবনে তিন দিনের ব্যবধানে দুই দফা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা মেলে। চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র এবং শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী টাইগার পয়েন্ট এলাকায় বাঘের চলাচলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, নদী-খাল পেরিয়ে সাঁতার কেটে চলাচল করা বাঘের স্বাভাবিক আচরণের অংশ। তবে এত কাছ থেকে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সরকার সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ, বন অপরাধ দমন ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ফলে বাঘ-মানুষের সংঘাত কমেছে। সম্প্রতি ক্যামেরা ট্র্যাপে নতুন তিনটি বাঘের ছবিও ধরা পড়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় বন অনেকটাই মানব কোলাহলমুক্ত। ফলে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী স্বাভাবিক পরিবেশে বিচরণ করছে এবং বন অপরাধও কমেছে।

পরিবেশ সংগঠন ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’-এর প্রধান সমন্বয়কারী ড. নূর আলম শেখ বলেন, বন বিভাগ, স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে। কারণ বাঘ বাঁচলে সুন্দরবন বাঁচবে, আর সুন্দরবন বাঁচলে উপকূলও নিরাপদ থাকবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. এ. আজিজ বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, বাঘ রক্ষায় হরিণসহ পুরো খাদ্যশৃঙ্খল সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ মানে শুধু একটি প্রাণী রক্ষা নয়; বরং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, তার জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় পরিবেশকে টিকিয়ে রাখার লড়াই। তাই বিশ্ব বাঘ দিবসে তাদের আহ্বান—চোরা শিকার ও পাচার বন্ধ, বন ধ্বংস রোধ, খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

কুমিল্লায় প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম
কুমিল্লায় প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

কুমিল্লায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত বিজিবি ১০ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে এ মাদক ধ্বংস কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সরাইল রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।

বিজিবি সূত্র জানায়, কুমিল্লা ১০ বিজিবি এবং সুলতানপুর ৬০ বিজিবি গত তিন থেকে চার বছরে সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করে। জব্দকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা।

অনুষ্ঠানে বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সীমান্তজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও জানান তারা।

মাদক ধ্বংস কার্যক্রমে কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রাকিবুল হাসান, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ, র‌্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলমসহ বিজিবি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
CLOSE X