

দশ মাসে গ্রেপ্তার ৭৫০০—আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত ১০ মাসে দেশের বিভিন্ন মামলায় মোট ৭ হাজার ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার এবং পাঁচ শতাধিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করার তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি সাম্প্রতিক আলোচিত কয়েকটি অপরাধ ও অভিযানের চিত্র তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে।

র্যাব বিলুপ্তি বা ইউনিফর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শহিদুর রহমান বলেন, “এ নিয়ে চিন্তার সময় নেই। এখন আমাদের লক্ষ্য, কীভাবে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়া যায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত রাখা যায়।”
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার এবং চট্টগ্রামে স্ত্রীকে হত্যা করে ১১ খণ্ড করার ঘটনায় স্বামী সুমনকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আটক করার কথা জানানো হয়।
এছাড়া ঢাকা-কাঠমান্ডু ফ্লাইটে ‘বোমা রয়েছে’ বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেন তিনি। পরে জানা যায়, এক বিবাহিত ছেলে প্রেমিকা নিয়ে পালাতে চাইলে তার মা এই পরিকল্পনা করেন।
‘মব সন্ত্রাস’ দমনে র্যাবের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে শহিদুর রহমান বলেন, লালমনিরহাটে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজন এবং কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীর ওপর হামলার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে র্যাবের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে ১৭২ জন গ্রেপ্তার, ৫০০-র বেশি অস্ত্র এবং ১০ হাজারের বেশি গোলাবারুদ উদ্ধার।
এছাড়া জল ও বনদস্যু বিরোধী অভিযানে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার, মানবপাচার মামলায় ৪২ জনকে উদ্ধার এবং পাচারের অভিযোগে ৭৩ জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অপহরণ মামলায় ৫০০-র বেশি আসামিকে গ্রেপ্তার ও ৭৫০ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
দশ মাসে গ্রেপ্তার ৭৫০০—এই পরিসংখ্যানের পাশাপাশি র্যাবপ্রধান জানান, বাহিনীর পোশাক ব্যবহার করে প্রতারণা ও অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজন ভুয়া র্যাব সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাবের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।