প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

দেবীদ্বারে ঝুঁকিপূর্ণ কালিকাপুর সেতু: মরণফাঁদে চলছে শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষের জীবন

IMG 20250713 WA0009
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

দেবীদ্বারে ঝুঁকিপূর্ণ কালিকাপুর সেতু এখন দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে ঝুলে আছে। অথচ প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে পার হচ্ছে হাজারো মানুষ ও শত শত যানবাহন। যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

দেবীদ্বারে ঝুঁকিপূর্ণ কালিকাপুর সেতু—এটি এখন যেন মরণফাঁদ। কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার গোমতী নদীর ওপর প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত এই স্টিলের সেতু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আজ ভাঙাচোরা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ঙ্কর শব্দ করে কাঁপতে কাঁপতে প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে চলছে শত শত যানবাহন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়ে এ সেতু পার হতে হচ্ছে তাঁদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, অনেক স্টিল প্লেট ফেটে গেছে এবং নাট–বল্টু খুলে পড়েছে। ভারী যান চলাচলের সময় সেতুতে এতটাই কম্পন হয় যে, মনে হয় যেকোনো মুহূর্তেই ধসে পড়বে।

দেবীদ্বারে ঝুঁকিপূর্ণ
দেবীদ্বারে ঝুঁকিপূর্ণ কালিকাপুর সেতু প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষের চলাচলে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

সিএনজি চালক মনির হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন ৫০০-এর বেশি গাড়ি এই সেতু দিয়ে চলাচল করে। আমরা বহুবার ভারী ট্রাকচালকদের নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা কারও কথা শোনে না। প্রভাবশালী কিছু চালক ও মালিক জোরপূর্বক এই সেতু ব্যবহার করছেন, যার ফলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. বাবুল মিয়া জানান, দেবীদ্বারের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এই সেতুটি নির্মাণ করেন প্রায় ৩০ বছর আগে। তখন এর ব্যবহার সীমিত ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ভারী মালবাহী যান চলাচলের কারণে সেতুটি আজ ভয়াবহ দুর্বল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এই দীর্ঘ সময়ে কেউ একটা নাটও টাইট দেয়নি।’

স্থানীয় প্রবাসী মো. জালাল বলেন, ‘এই সেতু না থাকলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অথচ দুঃখজনকভাবে, আজ পর্যন্ত সেতুটি সংস্কার করা হয়নি।’

ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে প্রায় ২৫-৩০ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী—সবাই আতঙ্কে আছেন। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দেবীদ্বারে ঝুঁকিপূর্ণ কালিকাপুর সেতু এখন শুধু একটি ভাঙাচোরা সেতু নয়—এটি হাজারো মানুষের জীবনের আশঙ্কা, যেখানে প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলছে মানুষ ও যানবাহন। সেতুটি সংস্কারের বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে খুব শিগগিরই ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

প্রিন্ট করুন