মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ভবন নেই, জমি নেই : ঢাকার ২৩ থানা চলছে ভাড়া ও ঘিঞ্জি ভবনে

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫, ৫:২২ এএম
ভবন নেই, জমি নেই : ঢাকার ২৩ থানা চলছে ভাড়া ও ঘিঞ্জি ভবনে

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • থানা অবকাঠামো সংকটে ঢাকা মহানগরী—৫০ থানার মধ্যে মাত্র ২৭টিরই নিজস্ব জমি ও ভবন থাকলেও বাকিগুলো অন্যের জায়গায় ভাড়া বা অস্থায়ী ভবনে বসে সেবা দিচ্ছে।
  • ভাড়া বাবদ ডিএমপি বছরে অন্তত ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছিল, আর জনসেবার মান প্রভাবিত হচ্ছে সরু–জটজট ও অনিয়ন্ত্রিত অবস্থার কারণে।
  • ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, ২৩টি থানা এখনও ভাড়া করা জমি ও ভবনে কাজ চালাচ্ছে।

থানা অবকাঠামো সংকটে ঢাকা মহানগরী—৫০ থানার মধ্যে মাত্র ২৭টিরই নিজস্ব জমি ও ভবন থাকলেও বাকিগুলো অন্যের জায়গায় ভাড়া বা অস্থায়ী ভবনে বসে সেবা দিচ্ছে। ভাড়া বাবদ ডিএমপি বছরে অন্তত ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছিল, আর জনসেবার মান প্রভাবিত হচ্ছে সরু–জটজট ও অনিয়ন্ত্রিত অবস্থার কারণে।


ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, ২৩টি থানা এখনও ভাড়া করা জমি ও ভবনে কাজ চালাচ্ছে। এর মধ্যে ১০ تھানায় জমি থাকলেও কোনো স্থায়ী ভবন নেই, আর ১৩ থানায় জমি-ভবন দু’টিই অনুপস্থিত। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, মতিঝিল, শাহআলী, বংশাল ও বিমানবন্দরসহ ওই ১৩ থানায় অস্থায়ী ছোট ঘর বা ভাড়া ভবনেই চালু আছে মামলা গ্রহণ, জিজ্ঞাসাবি ও হাজতখানা

এস্টেট বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, জমি না থাকার কারণে নতুন ভবন নির্মাণ আর দেড় বছর আটকে আছে—ফলে প্রশাসনিক কাজে বাধা, অস্ত্রাগারের অনির্দিষ্ট অবস্থান, আর অভিযুক্ত আটক রাখতে সংকীর্ণ জায়গা।

 থানা অবকাঠামো
থানা অবকাঠামো সংকটে ঢাকা মহানগরী—৫০ থানার মধ্যে মাত্র ২৭টিরই নিজস্ব জমি ও ভবন থাকলেও বাকিগুলো অন্যের জায়গায় ভাড়া বা অস্থায়ী ভবনে বসে সেবা দিচ্ছে।

আদাবর থানার উদাহরণ মুলতিই চোখে পড়ার মতো: ছয়তলা ভাড়া ভবন, নিচে দোকান, বাইরে খাড়া সিঁড়ি, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের পায়ে ঠেসে ওঠা ছাড়া উপায় নেই। মোহাম্মদপুর-শ্যামলী রিং রোডের ঠাসাঠাসি পার্কিংয়ে থানার গাড়ি রেখে পরিবারজন দাঁড়িয়ে থেকে মামলা করার মতো নাটকীয় দৃশ্য প্রতিদিন লেগেই আছে।

রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, মগবাজার ও নয়া বাজার থেকেও একই চিত্র—বাড়িঘর, বাণিজ্যিক প্লট বা ফুটপাতে ঝাঁপিয়ে থাকা স্যাটেলাইট করিডোরে ঠাসা থানার কার্যক্রম। অংসিক হলেও জায়গা থাকলেও, স্থায়ী অবকাঠামো না থাকায় থানা কর্মকর্তারা বহুবার সন্দিপ্ত চাপের মুখে পড়ে কাজ করতে হচ্ছে।

ডিএমপি ডিসি তালেবুর রহমান জানান, “বর্তমান পরিকল্পনায় বেশ কিছু থানার নিজস্ব ভবন দ্রুত নির্মাণ করা হবে। ধাপে ধাপে ভাড়া ভবন খালি করে পরিপূর্ণ নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর আশা করা যাচ্ছে।” তবে সংসদে বাজেট বরাদ্দ হলেও প্রকল্প শুরু হতে বিলম্ব—তাই সারা শহর জুড়ে নিরাপত্তা, তদন্ত ও জনসেবা নিশ্চিত করতে নড়বড়ে অবকাঠামোর দায়ে দমবন্ধ করছে সাধারণ মানুষ ও পুলিশ।

থানা অবকাঠামো উন্নয়নের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের সেবা পেতে হবে অস্থায়ী, সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থায়—যাতে আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে গ্রাহক সন্তুষ্টি সবই প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারের উপযুক্ত নজর ও বাস্তবায়ন ছাড়া রাজধানীর নিরাপত্তা ও সুশাসনের স্বপ্ন কেবল কাগজেই থমকে থাকবে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

অপ্রতিমের পর দেশজুড়ে আতঙ্ক

এবার দেবীদ্বারে নিখোঁজ স্কুলছাত্র, মিলছে না সন্ধান

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ এএম
এবার দেবীদ্বারে নিখোঁজ স্কুলছাত্র, মিলছে না সন্ধান

স্কুলে যাওয়ার পথে উধাও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী, দেবীদ্বারে উৎকণ্ঠা

সারাদিন নিখোঁজ, রাতে থানায় জিডি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে স্কুলে যাওয়ার পথে শাহরিয়ার নাফিজ (১৫) নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে রাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

নিখোঁজ শাহরিয়ার নাফিজ দেবীদ্বার উপজেলার সুবিল ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বুড়িপাড়া গ্রামের প্রবাসী মো. সুমন মিয়ার ছেলে। সে কুমিল্লার ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

দৈনিক আজকের কথা
সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার পর নাফিজ আর বাড়িতে ফেরেনি। আত্মীয়-স্বজনের বাসাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছি, কিন্তু তার সন্ধান পাইনি। রাত ১২টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। আমার ভাগিনা খুবই মেধাবী ছাত্র। তার সন্ধান পেলে আমাদের জানাবেন।
— মো. নজরুল ইসলাম বাপ্পি
নিখোঁজ শাহরিয়ার নাফিজের মামা

নাফিজের মামা মো. নজরুল ইসলাম বাপ্পি জানান, সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় নাফিজ। এরপর সারাদিন পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

তিনি বলেন, পরে রাত ১২টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। নাফিজের সন্ধানে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাফিজ অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। তার সন্ধান পাওয়া গেলে ০১৬১১০০৬০৮০ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে নাফিজের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন ব্যক্তি পোস্ট দিয়েছেন। কুমিল্লা আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া ও দেবীদ্বার উপজেলার ৪ নং সুবিল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক সোহেল নেয়ামতও নাফিজের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন।

নাফিজের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাকে দ্রুত খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সবার সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।

দেবীদ্বারে মা-ভাতিজি হত্যার দায় স্বীকার, ইমনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ এএম
দেবীদ্বারে মা-ভাতিজি হত্যার দায় স্বীকার, ইমনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি

‘আমি সর্বনাশ করেছি, তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না’

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মা ও ভাতিজিকে হত্যার ঘটনায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ইমন মিয়া (২৯)। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে ইমন বলেন, ‘আমি সর্বনাশ করেছি, তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না।’

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ইমন মিয়াকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪-এর বিচারক সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে হাজির করে। পরে আদালতে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জবানবন্দিতে ইমন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাতেই পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, পায়ের অসহ্য ব্যথার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় তাঁর মা পিয়ারা বেগম বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি দা দিয়ে মাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন। পরে তাঁর বড় ভাইয়ের ৮ মাস বয়সী মেয়ে ইসরাত জাহানকেও আছড়ে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে।

দৈনিক আজকের কথা
আদালতে ইমন হত্যার দায় স্বীকার করেছে। নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
— মো. মনিরুজ্জামান
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দেবীদ্বার থানা।

নিহত পিয়ারা বেগম (৬৫) ইমনের মা ও মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী। অপর নিহত ৮ মাস বয়সী ইসরাত জাহান ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে।

ঘটনার সময় ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম তাঁর মেয়েকে কোলে নিয়ে ছুটে এলে ইমন তাঁকেও কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় শিশুটির মাথায়ও আঘাত লাগে এবং সে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে। পরে শিশুটিকে তুলে এনে ইমন আছড়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৪-৫ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইমনের পায়ে আঘাত লাগে। ২-৩ বছর আগে তাঁর প্রথমবার অস্ত্রোপচার করা হলেও ব্যথা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গত এক সপ্তাহে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে তাঁর পায়ে আরেকটি অস্ত্রোপচার করা হয়। রোববার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তিনি বাড়িতে ফেরেন। তবে পায়ের ব্যথা তখনো ছিল বলে স্বজন ও স্থানীয়রা জানান।

সোমবার সকালে পায়ের ব্যথার কারণে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাঁর মা বাধা দেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। একপর্যায়ে ইমন মায়ের হাতে দা দিয়ে তাঁকে হত্যা করতে বলেন। পিয়ারা বেগম ছেলেকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘বাবা, তুই সুস্থ হয়ে যাবি।’ এরপর ইমন তাঁর মায়ের হাত থেকে দা ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন বলে অভিযোগ।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে।

ইমন মিয়া ওই গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা আহত রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় ইমনকে ঘরে আটকে রাখেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে দেবীদ্বার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সিনিয়র এএসপি) মো. শাহীন এবং দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেন।

এ ঘটনায় ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে ইমন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে দেবীদ্বার থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, আদালতে ইমন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মুরাদনগরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার ২

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ পিএম
মুরাদনগরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার ২

মুরাদনগরে আগে আটক, পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

স্বজনদের দাবি, মামলার খবরই জানতেন না তারা

কুমিল্লার মুরাদনগরে ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস ও মো. দেলোয়ার হোসেনকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটকের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে স্বজনদের অভিযোগ, তাদের আটক করার আগে বা পরে মামলা সম্পর্কে তারা কিছুই জানতেন না।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের দিলালপুর ও নাগেরকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ইদ্রিস মেম্বার (৪৫) মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য এবং দিলালপুর গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। অন্যদিকে দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নাগেরকান্দি গ্রামের বেদন মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, ভোররাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয় এবং ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
গ্রেপ্তার দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
— মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), মুরাদনগর থানা

তবে গ্রেপ্তার দুজনের স্বজনদের অভিযোগ, ভোররাতে পুলিশ বাড়িতে এসে তাদের ধরে নিয়ে যায়। তখন কোনো মামলার কথা জানানো হয়নি। পরে তারা জানতে পারেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাটি সম্পর্কে আটকের আগে তারা কিছুই জানতেন না বলেও দাবি করেন স্বজনরা।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তার দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তবে মামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, ধারাসহ বিস্তারিত তথ্য পুলিশ জানায়নি।

×
ENG