সচিবালয় ও যমুনার আশপাশে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা
থানা অবকাঠামো সংকটে ঢাকা মহানগরী—৫০ থানার মধ্যে মাত্র ২৭টিরই নিজস্ব জমি ও ভবন থাকলেও বাকিগুলো অন্যের জায়গায় ভাড়া বা অস্থায়ী ভবনে বসে সেবা দিচ্ছে।
সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), যা ৯ জুন সোমবার থেকে বাংলাদেশ সচিবালয়, যমুনা ভবন ও আশপাশের এলাকায় কার্যকর হবে। এই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী কোনো ধরনের গণজমায়েত, মিছিল, শোভাযাত্রা কিংবা রাজনৈতিক সমাবেশ করা যাবে না। জনশৃঙ্খলা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি, যা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রবিবার (৮ জুন) ডিএমপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, “জনশৃঙ্খলা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার স্বার্থে” এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
কোন কোন এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সচিবালয় ও যমুনা ভবনের আশপাশের যেসব এলাকাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে, তা হলো:
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়
কাকরাইল মসজিদ মোড়
অফিসার্স ক্লাব মোড়
মিন্টু রোড এলাকা
এইসব এলাকায় কোনো রকম মিছিল, শোভাযাত্রা বা সমাবেশ করা যাবে না।

সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে সিদ্ধান্তটি
সরকারি পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাখ্যা হিসেবে ‘নিরাপত্তা’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজ এটিকে একতরফা ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে।
সম্প্রতি দেখা গেছে, এনসিপি (NCP) নামক নতুন রাজনৈতিক দল ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি করতে পারছে, যেখানে গরমের মধ্যেও তাদের সহায়তায় কৃত্রিম বৃষ্টি, খাবার, পানীয় ও চিকিৎসাসেবা সরবরাহ করা হয়েছে। অপরদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটা, জলকামান ব্যবহার এবং গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার রাজনৈতিক অর্থ কি?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার এই ধরণের সিদ্ধান্ত আসলে সরকারের পক্ষপাতমূলক মনোভাবেরই প্রকাশ। নির্দিষ্ট দলকে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে সুবিধা দেওয়া হয়, সেখানে অন্যদের দমন করা হয় নিরাপত্তার অজুহাতে।
এছাড়া এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা সংবিধানসম্মত নাগরিক অধিকার তথা মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলেও দাবি করছেন অনেকে।
🧭 বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও সভা-সমাবেশের অধিকার। কিন্তু বারবার দেখা যাচ্ছে, এই অধিকারকে রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
একদিকে গরমে যেন নেতাকর্মীরা কষ্ট না পান, সেজন্য কৃত্রিম বৃষ্টির মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়, অন্যদিকে যারা সরকারের সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই ধরণের বৈষম্যমূলক আচরণ নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলছে।
সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সাংবিধানিক অধিকার ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন একটি দলকে সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, আর অপর দলকে বাধা ও দমননীতি অনুসরণ করা হয়, তখন তা গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। নাগরিক সমাজ ও বিশ্লেষকদের মতে, এমন নিষেধাজ্ঞা শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেই নয়, বরং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও সংকুচিত করে তোলে।
বীরত্বের স্বীকৃতি বিশ্বমঞ্চে
ড্রোন হামলায় শহীদ ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পাচ্ছেন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা
মরণোত্তর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
আফ্রিকার আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করা হবে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের সর্বোচ্চ এ সম্মাননা আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তুলে দেবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
জাতিসংঘের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং সান্ত মণ্ডল।
তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আফ্রিকার আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-তে দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র ড্রোন হামলায় নিহত হন। দায়িত্ব পালনের সময় তাদের আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
এবারের অনুষ্ঠানে গত এক বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের ছয় বীর শান্তিরক্ষী।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। বর্তমানে শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অবদানকারী দেশ। আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারাসহ বিভিন্ন মিশনে ২৭৭ জন নারী সদস্যসহ চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষী কর্মরত রয়েছেন। ১১৮টি দেশ জাতিসংঘের ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল সরবরাহ করছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০২ সালে ২৯ মে-কে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সালে প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস ট্রুস সুপারভিশন অর্গানাইজেশন (UNTSO)’ প্রতিষ্ঠার স্মরণে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ (Investing in Peace)।
ভাইরাল চিঠি ঘিরে তোলপাড়
কুমিল্লা পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের ‘ভুয়া চিঠি’ ভাইরাল, অপপ্রচারের অভিযোগ
কুমিল্লা পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের দাবি সম্বলিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চিঠিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। পুলিশ সদর দপ্তরের নাম ও সিল ব্যবহার করে তৈরি এই চিঠিটিকে জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ‘শতভাগ ভুয়া’ বলে নিশ্চিত করেছেন। এই বিষয়ে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন যে, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে এই ভুয়া বিজ্ঞপ্তিটি ছড়াচ্ছে। বর্তমানে এই জাল চিঠি তৈরির সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে—এমন দাবি করে পুলিশ সদর দপ্তরের নামে একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চিঠিটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে দাবি করেছেন। পুলিশ সুপার নিজেও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এটি একটি অপপ্রচারমূলক প্রচেষ্টা।
রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই চিঠিতে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন)-এর নাম ও সিল ব্যবহার করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে অনুষ্ঠিত একটি মিছিল এবং প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানকে অবিলম্বে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চিঠির ভাষা, কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেই এটি ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তাদের ভাষ্য, এ ধরনের সরকারি আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, যথাযথ রেফারেন্স নম্বর এবং অনুলিপি প্রাপকদের তালিকা বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ থাকে। কিন্তু ভাইরাল হওয়া চিঠিতে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।
জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার কারণে একটি অসাধু চক্র বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। ইতোমধ্যে ভুয়া চিঠি তৈরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “অনেকেই আমাকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বিজ্ঞপ্তি বা চিঠির সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুয়া। একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর উদ্দেশ্যে এটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করছি।”
উল্লেখ্য, বিসিএস ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান গত বছরের ২৯ নভেম্বর কুমিল্লার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া একই বছরের ১ মে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএসএ) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
ভাইরাল হওয়া ভুয়া চিঠির ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রিয় নবী মন্তব্যে বিতর্ক
এবার মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলেই ভাইরাল বিএনপি নেতা খালেক
পরিবেশ মন্ত্রীকে খুশি করতে গিয়ে ‘প্রিয় নবী’ বলে সম্বোধন করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া এই বক্তব্যের কারণে ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে সাধারণ মানুষ এবং নেটিজেনরা এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেকের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির এক অনুষ্ঠানে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে ‘প্রিয় নবী’ বলে উল্লেখ করার পর তার বক্তব্যটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়।
শনিবার (৩১ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে এম এ খালেক এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আমার, আপনার, সবার প্রিয় নবী, প্রিয় মানুষ।”
তার এই বক্তব্যের পরপরই উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিসফাস ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে বক্তব্যটির ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
বক্তব্যটি নিয়ে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে আপত্তি জানিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন। কেউ কেউ এটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বহীন মন্তব্য বলে অভিহিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলেম বলেন, “ইসলামে নবী-রাসুলদের মর্যাদা স্বতন্ত্র ও অনন্য। কোনো সাধারণ মানুষকে নবীর সঙ্গে তুলনা করা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের বক্তব্য পরিহার করা উচিত।”
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির একাধিক নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত বক্তব্যের দায় দল নেবে না। তারা মনে করেন, জনসম্মুখে দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক এম এ খালেক এর আগেও বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় এসেছেন। গত ১৬ এপ্রিল একটি বিদ্যালয়ের ক্রীড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ভিআইপি প্রটোকল গ্রহণের ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এছাড়া অতীতেও তার কিছু বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
সর্বশেষ ‘প্রিয় নবী’ মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এম এ খালেকের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



















