বিএনপি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি: কোম্পানিগঞ্জে বাস ধর্মঘট ও আন্দোলনের হুমকি
বিএনপি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি ও শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রতিবাদে কুমিল্লার মুরাদনগরের কোম্পানিগঞ্জে সকাল-সন্ধ্যা সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রাখে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও শ্রমিক ইউনিয়ন। তারা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে প্রশাসনের প্রতি ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
গতকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দূর পাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে যাত্রীদের সুবিধার্থে রাস্তা খোলা রেখে সিএনজি চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়।
বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, কোম্পানিগঞ্জ শাখা শ্রমিক ইউনিয়নের আহবায়ক হাজী ইদ্রিস, জেলা শ্রমিক দল নেতা মো. জাকির হোসেন বিএসএস, বাবুল সরকার, জাকির হোসেন, মাইনুদ্দীন, ওয়াশিম ও মো. শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ মুরাদনগর থানায় হামলা এবং ছাত্র সমন্বয়ক ওবায়দুল হকের ওপর হামলার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ ৩২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে পুলিশ ও উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের চাচাতো ভাই। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়। ১৩ জনকে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। সেখানে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পদত্যাগ দাবি করা হয়।
বক্তব্যে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, উপদেষ্টার প্ররোচনায় থানার ওসি জাহিদুর রহমান মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরপরাধ নেতাকর্মীদের জেল খাটাচ্ছেন। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি না দিলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।
বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন বলেন, “আমরা থানা পাহারা দিয়েছি, খাবার সরবরাহ করেছি। তারপরও ওসি আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। মুরাদনগরে প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। উপদেষ্টার চাচাতো ভাই সরকারি বরাদ্দ নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে, ইউএনও নীরব।”
তিনি আরও বলেন, “ওসি পালাতে পারবেন না। একদিন তিনিও জবানবন্দি দেবেন, যেমন সাবেক আইজিপি দিয়েছেন। প্রয়োজনে উপজেলা ঘেরাও করা হবে।”
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে আমরা থানা পাহারা দিয়েছি। এখন আমাদের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট স্টাইলে নির্যাতন চলছে।”
বিএনপি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি নিয়ে চলমান এই আন্দোলন প্রশাসন ও সরকারবিরোধী রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী