
ইউনূস সরকারের অগণতান্ত্রিক খেলা, নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা কি রাষ্ট্রীয় অভ্যুত্থান নয়?
ইউনূস সরকারের অগণতান্ত্রিক খেলা আজ বাংলাদেশের রাজনীতিকে এক ভয়ংকর মোড়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সংবিধান লঙ্ঘন করে, নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা দখলের এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত ও অবৈধ ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রকল্প।
অস্থায়ী সরকারের নামে মোহাম্মদ ইউনূস ও তার সহযোগীরা যে শাসনব্যবস্থা চালু করেছেন, তা স্পষ্টভাবে সাংবিধানিক ব্যত্যয়। সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন না করেই তারা প্রধান উপদেষ্টার হাতে মন্ত্রীদের মতো ক্ষমতা তুলে দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ক্ষমতার উৎস কী? সংবিধানের কোন ধারায় এমন বৈধতা রয়েছে? উত্তর নেই।

এই সরকার এখন সময়ক্ষেপণ কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা বলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। উপরন্তু, নির্বাচন হবে কিনা সেটাও নির্ভর করছে তথাকথিত সংস্কারের ওপর, যার সংজ্ঞা একমাত্র ইউনূসই জানেন। অর্থাৎ এটি পুরোপুরি একনায়কতান্ত্রিক প্রতারণা।
বিএনপিকে ব্যবহার করে জনমত শান্ত রাখার পাশাপাশি ধীরে ধীরে দলটিকে নিশ্চিহ্ন করাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য। একদিকে নির্বাচনের আশ্বাস, অন্যদিকে মাঠে নামলে দমন—এই দ্বিমুখী কৌশলে সরকার মূলত একটা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাইছে যেখানে বিএনপি থাকবে দুর্বল ও বিভক্ত।
জামায়াত ও এনসিপির মতো গোষ্ঠীও এখন ইউনূস সরকারের ছত্রছায়ায় নিজেদের রাজনৈতিক বাঁচার রাস্তা খুঁজছে। বিএনপিকে বাদ দিয়ে চলা সমাবেশগুলোতেই তার প্রমাণ মেলে। এই জোটমূলক রাজনীতি আসলে জাতিকে আরেকটি দুঃস্বপ্নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
এক্সিট প্ল্যানের কথা বললেও বাস্তবে তারা চাইছে দায়মুক্তির আইন পাস করে, সকল অবৈধ কাজকে বৈধতা দিতে। এই প্রক্রিয়ায় তারা শুধু নিজেদের প্রভাব নিশ্চিত করতে চায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ইউনূস-পন্থী একটি রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়।
ইউনূস সরকারের অগণতান্ত্রিক খেলা যত দ্রুত বন্ধ হবে, ততই দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গল। না হলে এই সংকট আরও গভীর হবে, এবং জাতি আবারও এক অন্ধকার অধ্যায়ের মুখোমুখি হবে।

