শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

“বিপ্লব কি ছেলের হাতের ময়া?” — দ্বিতীয় বিপ্লবের নামে ক্ষমতার খেলা ফাঁস করলেন গোলাম মাওলা রনি

রোমানা আক্তার প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫, ১২:৫৯ পিএম
“বিপ্লব কি ছেলের হাতের ময়া?” — দ্বিতীয় বিপ্লবের নামে ক্ষমতার খেলা ফাঁস করলেন গোলাম মাওলা রনি

গোলাম মাওলা রনির বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা আজ মব সন্ত্রাসকে বৈধতা দিচ্ছে। যেখানে সেনাপ্রধান, আইজি বা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল এই উগ্র শক্তিকে দমন করা, সেখানে তারা কার্যত নিরব দর্শক। বরং অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, মবকারীরা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এই অপরাধ করছে। সরকারের ব্যর্থতা এখানেই—তারা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে অপরাধীদের অঘোষিত মিত্র হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, আর জনগণের আস্থা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাবে।

দ্বিতীয় বিপ্লব কি ছেলের হাতের ময়া, ডাক দিলেই হবে? সাবেক এমপি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি এই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন ঠিক তখন, যখন দেশের রাজনীতিতে কথিত ‘নতুন বিপ্লব’-এর নামে বিভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার নতুন হিসাব-নিকাশ চলছে। তার মতে, বিপ্লব এখন রাজনৈতিক মার্কেটিংয়ের পণ্যে রূপ নিয়েছে, যেখানে আগুন জ্বালিয়ে পেছন থেকে বসে আছে কুশীলবরা—যাদের ইতিহাসে কোনো ত্যাগ নেই, শুধু ষড়যন্ত্রের দক্ষতা আছে।


গোলাম মাওলা রনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন রাজনৈতিক সুবিধাবাদীদের দিকে—যারা নিজেদের “বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড” সাজিয়ে কথিত গণ-আন্দোলনকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাদের অতিবুদ্ধির জ্বালায় আজ ছাত্ররা বিভ্রান্ত, আন্দোলন পথহারা, আর সমাজে বিরোধের আগুন ছড়াচ্ছে।

রনি বলেন, “গত আগস্টের ৫ তারিখের পর হঠাৎ করে এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক বিপ্লবের পুরোধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, যেন ২০০৯ সাল থেকে বিরোধী রাজনীতির ধ্বজাধারী তারাই। অথচ বাস্তবতা হলো, এদের অধিকাংশই বিগত এক যুগে নানা সময় ক্ষমতার ছায়ায় থেকেছেন, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগের সাথেই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সমঝোতায় ছিলেন।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন—“একজন মানুষ, যিনি নিজে জীবনে আন্দোলন করেননি, যিনি কোনো কষ্ট করেননি, তিনিই আজ নতুন প্রজন্মের কাঁধে বিপ্লব চাপিয়ে দিচ্ছেন? কোমলমতি ছাত্রদের বিভ্রান্ত করে, ভুল তথ্য দিয়ে মাঠে নামিয়ে তাদের জীবনের সর্বনাশ করছেন?”

তার মতে, বিপ্লব এখন রাজনৈতিক রিটেল মার্কেট—যেখানে মুখে আদর্শ, পেছনে চুক্তি; সামনে ব্যানার, পেছনে ডিল। এই ডিল-মেইকিং রাজনীতির শিকার আজ ছাত্র সমাজ, শিকার আদর্শিক বিপ্লবের আত্মা।

রনি বলেন, “আন্দোলনের নামে এখন বিভেদ, দ্বন্দ্ব আর স্বার্থপরতা ছড়িয়ে পড়েছে। গণঅভ্যুত্থানের যে স্বপ্ন ছিল—সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার বলা হচ্ছে দ্বিতীয় বিপ্লব দরকার। যারা প্রথমটাকে নষ্ট করল, তারাই এখন নতুন বিপ্লবের ঠিকাদার! এটা জাতির সাথে প্রতারণা নয় তো কী?”

তিনি ১৯৮৯ সালের গণ-আন্দোলনের কথা টেনে বলেন, “গণঅভ্যুত্থান একদিনে হয় না। ৩৫ বছরেও হয়নি। আর আজ হুট করে বলা হচ্ছে, ‘বিপ্লব দরকার।’ এটা কি মুরগির ডিম, না যাদুর কাঠি?”


গোলাম মাওলা রনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্বিতীয় বিপ্লব নিয়ে যারা আজ মুখ খুলছেন, তারা নিজেরাই সমাজে বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা এবং আদর্শহীন রাজনীতির বীজ বপন করেছেন। দ্বিতীয় বিপ্লবের নামে নতুন করে ছেলেখেলা করলে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ভয়ংকর অনিশ্চয়তায় পড়বে। “এই বিপ্লব একান্ত হৃদয়ের বিষয়। এটি কন্টেন্ট লেখা বা ফেসবুক লাইভের খেলা না। যদি আত্মসমালোচনা না হয়, তবে এই বিপ্লবের আগুনে কারও পিঠের চামড়াও থাকবে না,”—জোরালো সাবধানবাণী রনির।


রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব গোলাম মাওলা রনির ফেসবুক থেকে


বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে “দ্বিতীয় বিপ্লব” শব্দটি এখন অনেকটাই রাজনৈতিক পুঁজি। রনি যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলো মূলত সেই অংশকে বিদ্ধ করে যারা কেবল বক্তব্যে বীর বাহাদুর কিন্তু বাস্তবে সুবিধাবাদী। দ্বিতীয় এ ডাক এখন আদর্শের নয়, বরং পরবর্তী নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার অপকৌশল। জনগণ যদি বুঝে না ওঠে, তাহলে এ বিপ্লব হবে এক গোষ্ঠীর হাতে নতুন প্রজন্মের আত্মাহুতি।


0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা

সেতু সচিবের পরিদর্শন, সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণে নতুন আশার আলো

গাজী গিয়াস উদ্দিন বশির | ঝালকাঠি প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১:২৩ পিএম
সেতু সচিবের পরিদর্শন, সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণে নতুন আশার আলো

সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে সচিবের পরিদর্শন

সেতু সচিবের পরিদর্শন ঘিরে আশার আলো দেখছে ঝালকাঠিবাসী। দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর ওপর সম্ভাব্য সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব মো. আবদুর রউফ।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঝালকাঠি কলেজ খেয়াঘাট থেকে স্পিডবোটে নদীপথে পরিদর্শনে বের হন সচিব ও তাঁর সফরসঙ্গী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে তারা নলছিটি উপজেলার ষাইটপাকিয়া, সুতালড়ী এবং ঝালকাঠি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন সুগন্ধা নদীর তিনটি সম্ভাব্য স্থান ঘুরে দেখেন।

এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সেতুর অবস্থান, নদীর প্রবাহ, সংযোগ সড়ক, ভূমি পরিস্থিতি এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে সচিবকে অবহিত করেন। সচিবও বিভিন্ন দিক নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুগন্ধা নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে ঝালকাঠি, নলছিটিসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং নদীর দুই তীরের জনপদে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত সুগন্ধা সেতু বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।

স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণরক্ষা

ঝালকাঠিতে শিশুকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ মায়ের, স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল দুজন

গাজী গিয়াস উদ্দিন বশির | ঝালকাঠি প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৪ এএম
ঝালকাঠিতে শিশুকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ মায়ের, স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল দুজন

ঝালকাঠির নলছিটিতে পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন এক নারী। তবে স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা দুজনই নিরাপদ রয়েছেন।

 প্রতিবেদনের হাইলাইটস


  • শুক্রবার রাতে ঝালকাঠির নলছিটি ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

  • পাঁচ বছর বয়সী কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন এক নারী।

  • স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

  • উদ্ধারের পর দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তারা নিরাপদ রয়েছেন।

  • ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ; অভিযোগের বিষয়ে অপর পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নলছিটি ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

উদ্ধার হওয়া নারীর নাম লাকি আক্তার। তিনি নলছিটি শহরের বাসিন্দা আদম আলীর ছেলে সাইদুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাকি আক্তার তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে হঠাৎ সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

লাকি আক্তারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ চলছিল। কিছুদিন আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর সাবেক স্বামীর পক্ষ থেকে মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এ কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং আবেগপ্রবণ হয়ে এমন পদক্ষেপ নেন বলে জানান।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মা ও শিশু বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা সাইদুল ইসলামের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেবীদ্বারে ১৫০ জনের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ৩০ রোগীকে ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম
দেবীদ্বারে ১৫০ জনের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ৩০ রোগীকে ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং চক্ষুরোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনে প্রায় ১৫০ জন চক্ষুরোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছানি আক্রান্ত ৩০ জন রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য নিজস্ব পরিবহনে কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 প্রতিবেদনের হাইলাইটস

  • 👁️ দেবীদ্বারের বাকসার উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা শিবির।
  • 💊 প্রায় ১৫০ জন চক্ষুরোগীকে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
  • 🏥 ছানি আক্রান্ত ৩০ জন রোগীকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
  • 🤝 বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতাল এবং সমাজসেবক মো. আবুল কালাম আজাদের সহযোগিতায় কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
  • 🌿 সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় ৯ নম্বর গুনাইঘর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে এ ধরনের চক্ষু চিকিৎসা শিবির পর্যায়ক্রমে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন আয়োজক।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেবীদ্বার উপজেলার বাকসার উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালের আয়োজনে এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দেবীদ্বার গ্রীণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল কালাম আজাদের সহযোগিতায় এ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি (বিআইসিও) এবং কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালের অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রোগীদের চোখ পরীক্ষা, ছানি রোগী শনাক্তকরণ, বিনামূল্যে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি যাদের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ছিল, তাদের মধ্যে ৩০ জনকে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেন ডা. মো. রায়হান মাহমুদ আশিক, শাহাদাৎ হোসেন, সমীর রঞ্জন দাস, আব্দুর রায়হান, আব্দুল হান্নান, মো. আবির ও দুলাল মিয়াসহ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কর্মসূচির প্রোগ্রাম অফিসার মো. শাহজাহান।

আয়োজক ও সমাজসেবক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এলাকার অসচ্ছল ও বয়স্ক মানুষের অনেকেই অর্থাভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাদের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ৯ নম্বর গুনাইঘর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রামে কুমিল্লা চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় সফলভাবে এ ধরনের চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

×
CLOSE X