প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

উপদেষ্টা আসিফের বাবার গ্রেফতার দাবি, ট্রিপল মার্ডারের বিচার চান নিহতদের পরিবার

bvnews 24 Muradnagar 2508041006
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

উপদেষ্টা আসিফের বাবার গ্রেফতার দাবি, নিরাপত্তার অভাবে থানায় না গিয়ে ঢাকায় সম্মেলন, চাপে পরিবার

উপদেষ্টা আসিফের বাবার গ্রেফতার দাবি জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ট্রিপল মার্ডারের শিকার পরিবারের সদস্য রুমা আক্তার। তিনি বলেন, “আমার মা, ভাই, ও বোনকে হত্যার নেতৃত্বে ছিলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন। অথচ মামলায় তার নামই বাদ দেওয়া হয়েছে।”

উপদেষ্টা আসিফের বাবার গ্রেফতার দাবি
“স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দাপট এবং পুলিশের নির্লিপ্ততায় পরিবারটি মুরাদনগরে সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারেনি। নিরাপত্তার অভাবে ঢাকায় এসে জাতীয় প্রেসক্লাবে গণমাধ্যমের সামনে সব কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন রুমা আক্তার।”

সোমবার (৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান,
গত ৩ জুলাই ভোরে কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি গ্রামে তার মা, ভাই ও বোনকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও আহত হন এবং মাথায় ৭২টি সেলাই দিতে হয়।

🔶 হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কে ছিল?

রুমা আক্তার অভিযোগ করেন, তার মা সাবেক ইউপি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন এবং এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। এই জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বই ছিল হত্যার মূল প্ররোচনা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু মেম্বার, রবি, শরিফ, রফিক, আবু বক্কর, হারুনসহ প্রায় ১৫-২০ জন মিলে এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। হত্যার পরিকল্পনায় ছিলেন শিমুল চেয়ারম্যান, আনু মেম্বার এবং মূল সহায়তায় ছিলেন উপদেষ্টা আসিফের বাবা বিল্লাল হোসেন।

🔶 পুলিশি গাফিলতি ও মামলার অপচেষ্টা

রুমা বলেন, “হত্যার পর আমরা মামলা করলেও প্রধান আসামির নাম বাদ দেওয়া হয়। পুলিশ নিজেরাই আসামি নির্ধারণ করে, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যায় নিরাপদে।”
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের অনেকেই জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শিমুল চেয়ারম্যান এখনও উপদেষ্টা আসিফের ঢাকার বাসায় লুকিয়ে আছেন বলে তাদের বিশ্বাস।

🔶 সংবাদ সম্মেলনে দাবিসমূহ:

১. উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেনকে অবিলম্বে গ্রেফতার
২. শিমুল চেয়ারম্যান ও জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের পুনরায় গ্রেফতার
৩. মামলার পুনর্বিন্যাস ও নতুন তদন্ত কমিটি গঠন
৪. পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
৫. ভিন্নমত তুলে ধরার নামে সামাজিক মাধ্যমে জোরপূর্বক দেওয়া বিবৃতি বন্ধ করা

🔶 শেষ আবেদন:

রুমা বলেন, “আমরা তিনজনকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছি। আমাদের আর শেষ কইরেন না। আমরা শুধু বাঁচতে চাই।”

এই নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার না হলে আরও বড় অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

প্রিন্ট করুন