
জামায়াতের পরিবারতন্ত্র: সুসময়ের রাজনীতি, দুঃসময়ে নিখোঁজ—কারা চালায় দলটি?
জামায়াতের পরিবারতন্ত্র—এই শব্দটাই তাদের রাজনীতির বর্তমান পরিচয়। বাইরে থেকে তারা যতই পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে বাণী ছড়াক না কেন, ভেতরে তারা তৈরি করেছে সম্পূর্ণ পারিবারিক গোডাউন-সিস্টেম। এই দলটিতে নেতৃত্ব এখন আর যোগ্যতার হাত ধরে আসে না; বরং আসে ঘরের ভেতরের সূত্রে, স্বজনপ্রীতি আর ‘কৌটা-রাজনীতি’র মাধ্যমে।
জামায়াতের বর্তমান আমির জীবনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন ১২ হাজারের মতো। কিন্তু সেই সীমিত জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের স্ত্রী আমিনা শফিককে পারিবারিক কৌটায় বানিয়েছেন সংরক্ষিত আসনের এমপি এবং এখন তিনি কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য।
এটা কি জনগণের ভোটে রাজনীতি—নাকি সংসারভিত্তিক দল পরিচালনা?
একই চিত্র দেখা যায় আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের পরিবারের ক্ষেত্রেও। তার স্ত্রী হাবিবা আক্তার সুইট—যিনি কখনো রাজপথে দাঁড়াননি, কখনো কোনো মামলার মুখোমুখি হননি—তিনি আজ মহিলা জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য।
এ কি ত্যাগের পুরস্কার, নাকি পরিবারের প্রতি রাজনীতির উপহার?
টারজান মাসুদ নামে পরিচিত শফিকুল ইসলাম মাসুদের স্ত্রী জাকিয়া ফারহানাও হঠাৎ নেতৃত্বে। পটুয়াখালীতে এমন নেতা বা নেত্রীকে কেউ চিনতেও না—কিন্তু সময়টা সুসময়, তাই নেতৃত্বে নাম ওঠার জন্য এটাই যথেষ্ট।
নুরুল ইসলাম বুলবুল—তার স্ত্রী কোহিনূর আক্তার সীমাও এখন রাজনীতির মাঠে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচন পরিচালনায় ব্যস্ত। কিভাবে? কেন? জনগণের পরিচয় নয়—পরিবারের পরিচয়ই যথেষ্ট ছিল।
এর আগেও আমরা দেখেছি—
• আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের স্ত্রী সাদিয়া খাতুন
• কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ারা জাহান
—সবাই জামায়াতের রাজনীতিতে নেতৃত্বে ছিলেন।
জনগণের কারণে নয়, পারিবারিক লাইসেন্স থাকার কারণে।
এসব উদাহরণ কাকতালীয় নয়—এটাই জামায়াতের রাজনৈতিক কাঠামো।
বিএনপি বনাম জামায়াত: মাঠের রাজনীতি বনাম লুকিয়ে থাকা রাজনীতি
জামায়াতের পেইড এক্টিভিস্টরা যখন পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে বুলি ছোড়েন, তখন হাসি পায়। কারণ একই সময়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী সাংসদ সেলিমা রহমান, সৈয়দ আশরাফী পাপিয়া কিংবা রেহানা আক্তার রানুরা—
মামলা খেয়েছেন, জেলে গেছেন, রাজপথে রক্ত পার করেছেন।
অথচ জামায়াতের সংরক্ষিত সাংসদরা—
• সুলতানা রাজিয়া
• আমিনা শফিক
• আসমা খাতুন
—জীবনে কখনো রাজপথে দাঁড়াননি। মামলা তো দূরের কথা—রাজপথের বাতাসও এঁদের শরীরে লাগেনি।
হাসিনা আমলে জামালপুরের সুলতানা রাজিয়া যখন আন্ডারগ্রাউন্ডে লুকিয়ে ছিলেন, তখন একই জেলার বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি জেলে গেছেন, মার খেয়েছেন, তবুও আপোষ করেননি।
এই ত্যাগই রাজনীতির পরিচয়।
আর জামায়াতের নেত্রীরা?
সুসময়ে নেতৃত্বে, দুঃসময়ে অধরা।
সুসময়ের মধু বনাম দুঃসময়ের গা ঢাকা
আজ যখন সামান্য রাজনৈতিক সুসময় এসেছে, তখনই জামায়াতের এসব সুসময়ের নেত্রীরা আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বের হয়ে আসছেন। সেটা আন্দোলনের স্বার্থে নয়—
বরং সুসময়ের মধু খাওয়ার জন্য।
অন্যদের পরিবারতন্ত্রের সমালোচনা করে নিজেরাই পরিবারতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন হয়ে বসে থাকা—
এটাই জামায়াতের সবচেয়ে বড় দ্বিচারিতা।
জামায়াতের পরিবারতন্ত্র: ভোটের সামনে বীর জনতার করণীয়
জামায়াতের পরিবারতন্ত্র শুধু রাজনৈতিক সমস্যা নয়—এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।
যোগ্যতা নয়, ত্যাগ নয়, আন্দোলন নয়—
শুধু পরিবারই নেতৃত্ব নির্ধারণ করে।
এ দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে
আগামী নির্বাচনে ব্যালট বক্সে গর্জে ওঠাই
বীর জনতার রাজনৈতিক দায়িত্ব।

