নিবন্ধন ফিরে পেতে জামায়াতের আপিলের রায় রোববার

বাংলাদেশ জামায়াতের নিবন্ধন রায় ঘোষণা হবে আগামীকাল, যা দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে যাচ্ছে। হাইকোর্টের দেওয়া নিবন্ধন বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের রায় ঘোষণার জন্য রোববার (১ জুন) দিন ধার্য করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ, প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে, রোববার সকালে এ রায় ঘোষণা করবেন। মামলাটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
শনিবার (৩১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জামায়াতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, “ইনশাল্লাহ আগামীকাল সকালে জামায়াতের নিবন্ধন মামলার রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ।”
এর আগে, ১৪ মে চতুর্থ দিনের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। মামলার শুনানি শুরু হয়েছিল ১২ মার্চ।
প্রসঙ্গত, হাইকোর্ট ২০১৩ সালের ১ আগস্ট এক রিটের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দলটির নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
২০১৩ সালের হাইকোর্টের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হলেও, আপিল বিভাগের আগের আদেশ পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে আইনি লড়াই নতুন গতি পায়। এখন জামায়াতের নিবন্ধন রায় যদি ইতিবাচক হয়, তবে দলটি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকসহ নির্বাচন কমিশনে ফিরে আসার সুযোগ পাবে।
গোরস্তানে প্রতিবাদে হামলা
দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে হামলার শিকার বৃদ্ধ, কিশোর গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে গোরস্তানে এক কিশোরী ও দুই কিশোরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করার জেরে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের মজিব কমিশনার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কর্মরত শহিদুর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। সেই উদ্দেশ্যে স্বজন সফিকুল ইসলাম (৭০) কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরস্থানের এক পাশে এক কিশোরী ও দুই কিশোরকে দেখতে পান। তিনি তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বললে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় দেবীদ্বারের কথিত ‘রেড ৯৯৯’ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত রামিম (১৭) সফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে আহত সফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক তাঁর হাতে ছয়টি সেলাই দিয়েছেন।
আহত সফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি কবর খুঁড়তে গিয়ে কয়েকজনকে কবরস্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থায় দেখে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর এক কিশোর তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে থাকা কিশোরীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয়।
দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভির জানান, অভিযুক্ত রামিমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানেও তাঁর এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আহত ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ বা মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উপকূলে বাড়ছে জনদুর্ভোগ
টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

টানা বৃষ্টি কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিনমজুর পরিবারগুলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা ইউনিয়নে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ। এসব এলাকার অসংখ্য বসতঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক এবং মাছের ঘের পানির নিচে চলে গেছে।
শুধু মূল ভূখণ্ড নয়, নিঝুম দ্বীপসহ দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চরেও জোয়ারের পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক কৃষক ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন আলো বলেন, একদিকে অস্বাভাবিক জোয়ার, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে পুরো এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘরে পানি ওঠায় গত দুই দিন ধরে চুলা জ্বলেনি। এখন পর্যন্ত তাঁরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি বলেও দাবি করেন।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা জলাবদ্ধতা ও প্লাবন পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের ১১টি দল মাঠে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ও ধ্বংস ২ ড্রেজার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় এক ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি দুটি ড্রেজার মেশিন এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে উপজেলার ধামতি দক্ষিণ ইউনিয়নের তুলাগাঁও গ্রামের রহিম ভূঁইয়ার বাড়ির পাশ থেকে একটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ১ হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়।
এদিকে রামের দিঘিরপাড় এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার দায়ে ড্রেজার মালিক মো. আব্দুস ছামাদ (৬০)-কে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত একটি ড্রেজার এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট পাইপও ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, কৃষিজমি নষ্ট ও পরিবেশের ক্ষতি রোধে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন।






















