

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকের পরে সংবাদমাধ্যমে যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ হয়েছে, তার মাধ্যমেই তিনিও বিষয়টি জেনেছেন। তবে ওই বিবৃতিতে কারও স্বাক্ষর ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা কিছু জানি না। আমি যা জেনেছি, তা আপনাদের মতো সংবাদপত্র থেকেই।’
এর আগে গত শুক্রবার লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেড় ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, যদি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যায়, তবে আগামী বছরের রমজানের আগেই অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।
ড. ইউনূস এর আগে ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ এর মধ্যে নির্বাচনের ইঙ্গিত দিলেও বিএনপি শুরু থেকেই ডিসেম্বর মাসেই নির্বাচন চেয়েছিল। পরে ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা এগিয়ে এনে এপ্রিলের প্রথমার্ধে ভোট আয়োজনের প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিএনপি এপ্রিলে নির্বাচন চায়নি, কারণ ওই সময় পাবলিক পরীক্ষা ও রমজান থাকায় নির্বাচনী প্রচার চালানো কঠিন হবে বলে জানায় তারা।

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন? নির্বাচন কমিশন এখনো জানে না কিছুই: সিইসি নাসির।
এর পরপরই যুক্তরাজ্যে সফরকালে ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধকে লক্ষ্য রেখে নির্বাচনের প্রস্তাব আসে। তবে এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত আছি এবং প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও মাঠ সমান রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রেফারির মতো ভূমিকা পালন করব।’
ভোট-সন্ত্রাসের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে সিইসি বলেন, ‘যাঁরা সন্ত্রাস করে ভোটকেন্দ্র দখল করতে চান, তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ আছে। আমরা কোনো ছাড় দেব না। ভোট-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স থাকবে।’
সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার আস্থা রয়েছে বর্তমান কমিশনের ওপর। কর্মকর্তাদের ঈদের পরপরই প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—
‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের আলোচনা হলেও এখনো নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সরকার।’