

গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন ছিল হঠাৎ নয়—বরং পরিকল্পিত ‘ভিতরের খেলায়’ নিশ্চিত হওয়া এক চূড়ান্ত পরিণতি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজ-এ প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সামরিক ও গোয়েন্দা শীর্ষ মহলের সূক্ষ্ম কৌশলে প্রথমে শেখ হাসিনাকে পুরোপুরি নির্ভরশীল করে তোলা হয়, এরপর তাকে কার্যত ‘ঘেরাও’ করে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়।
সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে ৫ আগস্ট—উত্তরায় কারফিউর ব্যারিকেড হঠাৎ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশেই খুলে যায় ঢাকামুখী জনস্রোতের দরজা। সেনাদের মাইকে ঘোষণা—“কারফিউ নেই”—ছিল পতনের প্রকাশ্য সংকেত।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনাপ্রধানের ভাষণের ঘোষণা স্পষ্ট করে দেয়, ক্ষমতার পালাবদল আর ঠেকানো যাবে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল ছিল সামরিক বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। রাজনৈতিকভাবে সংকট মোকাবিলার সুযোগ থাকলেও, সেই পথ এড়িয়ে যাওয়াই তাকে চূড়ান্ত বিপদে ফেলে।
অন্যদিকে, ৬ সমন্বয়ককে আটকে রেখে জোরপূর্বক আন্দোলন থামানোর চেষ্টা ছিল একেবারেই ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’, যা জনরোষ আরও বাড়িয়ে পতন ত্বরান্বিত করে।
চাঞ্চল্যকর দাবি অনুযায়ী, ৫ আগস্ট গণভবনে একটি ‘যুদ্ধপরিস্থিতি’ তৈরি করে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার পরিকল্পনাও ছিল। তবে ভারতীয় এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়।
শেষ পর্যন্ত, শেখ হাসিনাকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। কুর্মিটোলা পৌঁছে তিনি বুঝতে পারেন—ক্ষমতা তার হাতছাড়া হয়ে গেছে।
সরকার পতনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর ‘বাছাইকৃত নিষ্ক্রিয়তায়’ বাড়ে অরাজকতা, অনেক নেতা-কর্মী ও কর্মকর্তার নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
সব মিলিয়ে, এই প্রতিবেদন একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—পতনটি ছিল শুধু গণআন্দোলনের ফল নয়, বরং ভেতরের বিশ্বাসঘাতকতা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং কৌশলী শক্তির সমন্বয়ে তৈরি এক নাটকীয় পরিণতি।