নির্যাতন বন্ধ না হলে জবাবের ইঙ্গিত
দলীয় কর্মীদের নির্যাতন নিয়ে ক্ষোভ, বিএনপিকে সতর্ক করলেন বাহাউদ্দিন বাহার
বিএনপির ভাইদের উদ্দেশে বার্তা: ‘নেতাকর্মীদের নির্যাতন বন্ধ করুন’ — আ ক ম বাহাউদ্দিন। ছবি : আজকের কথা
কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টারে তিনি দাবি করেন, তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করা হোক।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ওই পোস্টারে বাহাউদ্দিন বাহারকে বলতে দেখা যায়, “বিএনপির ভাইদের উদ্দেশে বলতে চাই, যা করেছেন করেছেন। আজ থেকে আমার কোনো নেতাকর্মীর ওপর নির্যাতন করা বন্ধ করে দেন।”
বিএনপির ভাইদের উদ্দেশে বার্তা: ‘নেতাকর্মীদের নির্যাতন বন্ধ করুন’
— আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার
পোস্টারে আরও উল্লেখ করা হয়, “আর আজকের পর যারা করবেন, আমাদের নেতাকর্মীরা মনে মনে নোট করে রাখবেন।”
এ বক্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।
তবে পোস্টারে উল্লিখিত বার্তার বিষয়ে বাহাউদ্দিন বাহারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বিবৃতি বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে বক্তব্যটি কোন নির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ের সংঘাত, মামলা-মোকদ্দমা ও দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ-প্রতিআরোপের মধ্যেই এমন বার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
সাফদারপুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় স্থবিরতা
ঝিনাইদহে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর রেলস্টেশন এলাকায় তেলবাহী একটি মালগাড়ির তিনটি ট্যাংকার লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার (৭ জুন) সকাল ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সাফদারপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার নয়ন হোসেন জানান, খুলনা থেকে পার্বতীপুরগামী তেলবাহী মালগাড়িটি সাফদারপুর স্টেশনের কাছে পৌঁছালে ট্রেনটির পেছনের তিনটি ট্যাংকারের মোট নয়টি চাকা রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে। এতে খুলনার সঙ্গে রাজশাহী ও উত্তরবঙ্গমুখী সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লাইনচ্যুত ট্যাংকারগুলো উদ্ধার এবং রেলপথ সচল করতে খুলনা থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। উদ্ধারকারী ট্রেন পৌঁছানোর পর মূল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্টেশন মাস্টার।
এ ঘটনায় যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইন সচল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে একই এলাকায় একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই স্থানে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নোয়াখালীতে উত্তপ্ত আ.লীগ-ছাত্রদল
এবার মাইকে ঘোষণা দিয়ে ‘মব’ রাজনীতির পাল্টা জবাব, নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আ.লীগ সংঘর্ষে জ্বলল মোটরসাইকেল-কার্যালয়
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং পরে একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের অন্তত ছয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে ছাত্রদল সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।
কর্মসূচি শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে দেখতে পান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার অভিযোগ প্রচার করা হলে আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়সহ অন্তত ছয়জন আহত হন বলে জানা গেছে।
পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল দাবি করেন, “ছাত্রলীগের সমর্থকরা আগে থেকে জড়ো হয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।”
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন এবং একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।”
আইভীকে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যায়িত করলেন টোকাই ডার্বি নাসির
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখ্য সমন্বয়ক টোকাই খ্যাত মব মাস্টার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী-কে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এনসিপি আয়োজিত ফল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
টোকাই ডার্বি নাসির বলেন, “আপনারা দেখেছেন, নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে বলা হয়েছিল আওয়ামী লীগের বিচার হবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছিল গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে। বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ রায় দেওয়ার পরও সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা এখন বলে আমাদের গোনার সময় নেই, আগামী উপজেলা নির্বাচনে জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে।”
এর আগে গত ৩ জুন গভীর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে নিজ এলাকা নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে নিজ বাসভবনে ফেরেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে ভোরে দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একাধিক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
প্রসঙ্গত, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-এর তিনটি নির্বাচনে টানা বিজয়ী হয়ে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।


















