

কুমিল্লায় বিএনপির দু’পক্ষের উত্তেজনা বৃহস্পতিবার সকালে নতুন মাত্রা নেয় যখন টাউনহল মাঠে সমাবেশের অনুমতি হঠাৎ বাতিল করে দেয় জেলা প্রশাসন। শহরের কেন্দ্রস্থলে থমথমে পরিবেশ, গেইটে তালা, চারদিকে পুলিশি তৎপরতা—সব মিলিয়ে কুমিল্লা জুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ স্পষ্ট।
গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই পক্ষকে চিঠি দিয়ে মাঠ বরাদ্দ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান। ফলে আজ সকালে টাউনহল প্রায় পুরোপুরি নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
মাঠের মূল গেটে বড় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আশপাশের এলাকায় বসানো হয় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও নিরাপত্তা চৌকি।
দু’পক্ষই মাঠ হারালো, কিন্তু কর্মসূচি হারায়নি
টাউনহল মাঠ বন্ধ ঘোষণা হলেও বিএনপির দুই পক্ষই কর্মসূচি বাতিল করেনি। বরং ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় পাশাপাশি মাইক বসিয়ে প্রস্তুতি চালিয়েছে সকাল থেকেই।
পক্ষ–১: মনিরুল হক চৌধুরীর অনুসারীরা
কুমিল্লা-৬ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া মনিরুল হক চৌধুরী আগে থেকেই টাউনহলে বড় জনসভা ঘোষণায় ছিলেন। তার অনুসারীরা জানিয়েছেন—
বিকেলে কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে তাদের সমাবেশ হবে।
পক্ষ–২: আমিন উর রশিদ ইয়াছিন অনুসারীরা
একই দিনে একই মাঠে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন ইয়াছিন গ্রুপ।
বরাদ্দ বাতিলের পর তারা কর্মসূচি সরিয়ে নিচ্ছেন কান্দিরপাড় ভিক্টোরিয়া কলেজ সড়কের দলীয় কার্যালয়ে।
হাজী ইয়াছিন গ্রুপের পক্ষ থেকে আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম রায়হান বলেন—
“প্রশাসন বারবার অনুরোধ করেছে মাঠে না যেতে। আমরা সম্মান দেখিয়ে সময় ও স্থান পরিবর্তন করেছি।”
কেন বাতিল হলো মাঠের অনুমতি?
দুই পক্ষই একই মাঠে সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া—
• প্যান্ডেল তৈরি
• মঞ্চ সাজানো
• মাইক টাঙানো—
এসব কারণে এলাকায় উত্তেজনা বেড়ে যায়।
প্রশাসন পরিস্থিতি অসহনীয় হওয়ার আগেই হস্তক্ষেপ করে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাফর সাদিক চৌধুরী বলেন—
“দুই পক্ষের কেউই মাঠে কর্মসূচি করতে পারবে না। বিকল্প স্থানে করতে হবে। কেউ সিদ্ধান্ত অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেব।”
কুমিল্লার রাজনৈতিক বার্তা: ঐক্য নয়, বিভক্তিই বড় সংকট
এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো—
বিএনপির সংগঠন কাঠামোয় মাঠপর্যায়ে বিভক্তি এতটাই তীব্র যে প্রশাসনকেও শেষমেষ গেইটে তালা টাঙাতে হয়।
সমাবেশ নয়—দুই পক্ষ যেন প্রতিযোগিতায় নামছে ‘কার লোক বেশি দেখাতে পারে’।
এমন উত্তেজনাময় পরিবেশে কুমিল্লা শহরের মানুষও আছে আতঙ্কে, প্রশাসন আছে চাপে—আর বিএনপি আছে নিজেদের মধ্যকার দৃশ্যমান বিভাজন সামলাতে ব্যস্ত।