
হোমনা থানায় মৃত্যু: নারী ও শিশু ডেস্কে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
হোমনা থানায় মৃত্যু—কুমিল্লার হোমনা উপজেলা থানার হেফাজতে থাকা হামিদা ওরফে ববিতা (৩৫) নামে এক নারী আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে থানার নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হামিদা উপজেলার ঘনিয়ারচর গ্রামের খলিল মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে হামিদা তার সতীনের ছেলে সায়মনকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেন। এতে শিশুটির পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা হামিদাকে আটক করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার বিকেল ৫টার দিকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। একই দিন রাতে আহত সায়মনের চাচা স্বপন মিয়া বাদী হয়ে হামিদার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
হোমনা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আবদুল করিম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে হামিদাকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল। তার সঙ্গে চার বছরের একটি শিশু থাকায় তাকে হাজতখানায় না রেখে থানার নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক কক্ষে রাখা হয়। সেখানে অন্য এক নারী আসামি ও একজন নারী গ্রাম পুলিশ পাহারায় ছিলেন।
তিনি আরও জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সবার অগোচরে নিজের ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে হামিদা আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করা হয়েছে।
হোমনা থানায় মৃত্যু ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন। এরপর ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

