রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে সেনাসদস্যের রহস্যজনক আত্মহত্যা, ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে এক সেনা সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আজ রোববার (৯ জুন) ভোর ৫টার দিকে সেনানিবাসের নির্মাণাধীন ৯০২ সেন্ট্রাল ওয়ার্কশপ সৈনিক লাইনের একটি ভবন থেকে রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে সেনা সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, পাইপে গামছা ও রশি পেঁচানো অবস্থায় মৃতদেহটি ঝুলছিল। নিহতের পরনে ছিল সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম ও বুট। সৌরভ হোসেন ১১ এমপি ইউনিটের সদস্য ছিলেন এবং তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ গ্রামে। তিনি স্ত্রী, এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রেখে গেছেন।
যদিও প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে ঘটনার গভীরে রয়েছে রহস্য। একটি সূত্র জানায়, সৌরভ আত্মহত্যার আগে একটি লিখিত জবানবন্দি রেখে গেছেন, যাতে আত্মহত্যার সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ রয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই চিঠির বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি।
ওসি আব্দুল হালিম বলেন, “মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার তদন্তে কাজ করছে। সৈনিকের এই রহস্যজনক মৃত্যু সেনানিবাসের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
সেনাবাহিনীর একজন সদস্যের এমন রহস্যজনক মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক। এস এম সৌরভ হোসেন একজন প্রশিক্ষিত ও নিয়মানুবর্তী বাহিনীর সদস্য ছিলেন, যার এই ধরনের পরিণতি আত্মহত্যা বলেই মেনে নেওয়া কি যথেষ্ট, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কিছু লুকিয়ে আছে? বাহিনীর ভেতরের মানসিক চাপ, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা ক্ষমতার অপব্যবহার কি এর সঙ্গে সম্পর্কিত? এই মৃত্যু কেবল একজন সৈনিকের মৃত্যু নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরকার পরিস্থিতির একটি অজানা সংকেতও হতে পারে। সৌরভ হোসেনের মৃত্যু আমাদের আরো স্বচ্ছ তদন্ত ও মানবিক মনোভাবের আহ্বান জানায়।
সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে এই ধরনের মৃত্যুর ঘটনা কেবল একটি পরিবারকে শোকস্তব্ধ করে না, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের ভেতরকার অজানা চাপ ও সংকটের দিকেও ইঙ্গিত দিয়ে থাকে। রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে সেনা সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর জন্য জবাবদিহির একটি কঠিন প্রশ্ন হয়ে উঠেছে তা বলা স্বাভাবিক।
জটলা সৃষ্টি করে মোবাইল চুরি
ট্রেনে যাত্রীদের মোবাইল ছিনতাই: ভৈরবে ৫ ছিনতাইকারীকে কারাদণ্ড
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশনে ট্রেনে ওঠার সময় কৃত্রিম জটলা সৃষ্টি করে যাত্রীদের মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগে পাঁচ সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হকের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সাজা দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ভৈরব পৌর শহরের পঞ্চবটী এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (২৮), নরসিংদীর পলাশ উপজেলার উত্তর চন্দন এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে সবুজ মিয়া (২২), কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এতরায়পুর এলাকার মবিন মিয়ার ছেলে হাসান (২০), কুমিল্লা সদর কোতোয়ালি এলাকার মুরাপাড়া গ্রামের বাতেন মিয়ার ছেলে নুর আলম (২০) এবং শুভপুর এলাকার আবু তাহের মিয়ার ছেলে বিপ্লব আহসান (২৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৬ জুন) রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম আউটার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রী ওঠার মুহূর্তে কৃত্রিম ভিড় ও জটলা সৃষ্টি করে মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায় একটি চক্র। গোপন নজরদারির মাধ্যমে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশ।
এদিকে রবিবার দুপুরের দিকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এক যাত্রীর মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে বাবুল মিয়াকে হাতেনাতে ধরে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধভাবে মোবাইল ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল একটি চক্র। যাত্রীদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে তারা ট্রেনে ওঠা-নামার সময় জটলা সৃষ্টি করে মোবাইল ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিত।
তিনি বলেন, “বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে। এরপর আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।”
আদালতের রায়ে নুর আলম ও বিপ্লব আহসানকে তিন মাস করে কারাদণ্ড, সবুজ মিয়া ও হাসান মিয়াকে দুই মাস করে কারাদণ্ড এবং বাবুল মিয়াকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ওসি আরও জানান, রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় যাত্রী হয়রানি, চুরি ও ছিনতাই রোধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
শেরপুর সীমান্তে ৫টি ভারতীয় গরু জব্দ
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী বাবেলাকোনা এলাকা থেকে মালিকবিহীন ৫টি ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণঝোড়া বিওপির টহল কমান্ডার নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি অভিযানিক দল বাবেলাকোনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মালিকবিহীন ৫টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়। এসময়
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা গরুগুলো ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
৩৯ বিজিবি ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের কর্ণঝোড়া বিওপির ইনচার্জ নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমান গরু জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জব্দকৃত ৫টি ভারতীয় গরুর আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা। তিনি আরও জানান, জব্দকৃত গরুগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রায়হান শেখের উপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
সিরাজগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রায়হান শেখের উপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) সকাল ১০ টায় সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রায়হান শেখ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন – গত ২ জুন অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় যাবার পথে রিকসা ঠেকিয়ে আমার পথ রোধ করে সমন্বয়ক ও শিবির নেতাসহ কতিপয় দলবাজ।
এ সময় বহিস্কৃত শিবির নেতা জুয়েল রানা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মুনতাসির মেহেদী হাসান ও তাজসহ পৌর ছাত্রদলের নেতৃত্বে ১০/১২ জন রড হকিস্টিক ও পাইপ দ্বারা আমার উপর হামলা চালিয়ে এলোপাথারী মারপিট শুরু করে। এসময় জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি আলীম ভাই এর সহযোগীতায় প্রাণে রক্ষা পাই। ইতিপুর্বে মুনতাসির মেহেদী হাসান এর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেবার কারনে আমার উপর হামলা চালানো হয়।
বহিস্কৃত শিবির নেতা জুয়েল রানা ও সাবেক সমন্বয়ক মুনতাসির মেহেদী হাসান এর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাংগঠনিক শাস্তির দাবী জানান ছাত্রদলের আংশিক নেতৃবৃন্দরা। সংবাদ সম্মেলনে পৌর ছাত্রদলের একাংশ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।















