মাদক দমনে জিরো টলারেন্স
সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময়ে কঠোর বার্তা নবাগত এসপির

ঝিনাইদহে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন নবাগত পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান। ছবি : আজকের কথা
মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা নবাগত পুলিশ সুপারের
ঝিনাইদহকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জেলা গড়ার প্রত্যয়
ঝিনাইদহে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভায় মাদক, চাঁদাবাজি, সাইবার অপরাধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান। তিনি বলেছেন, অপরাধ দমনে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং ঝিনাইদহকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত জেলায় পরিণত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবে।
রোববার (২১ জুন) বেলা ১১টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নবাগত পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেছেন,
“মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। শিশু নির্যাতন, সাইবার ক্রাইম,
অনলাইন জুয়া ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।
অপরাধীর কোনো পরিচয় নেই—অপরাধই হবে পুলিশের একমাত্র বিবেচ্য বিষয়।”
পুলিশ সুপার বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে জিরো টলারেন্স। মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে, যুবসমাজকে বিপথগামী করছে। ঝিনাইদহকে মাদকমুক্ত করতে যা যা করণীয়, পুলিশ বিভাগ তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেবে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিশু নির্যাতন, সাইবার ক্রাইম, অনলাইন জুয়া, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ আরও তৎপর থাকবে। কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান নয়—পুলিশের কাছে অপরাধই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়। কেউ অপরাধ করলে তাকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে।”
দায়িত্ব পালনে নিজের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি এখানে দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। যদি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে না পারি, তাহলে পদে বসে থাকার কোনো অর্থ নেই। প্রয়োজন হলে দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাব, কিন্তু দায়িত্বহীনতা মেনে নেব না।”
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেমন জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারেন, তেমনি অপরাধ দমনে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহায়তাও করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন আরও সহজ হয়। আমরা চাই সাংবাদিকরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরবেন এবং জেলার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে আমাদের সহযোগিতা করবেন।”
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক বিস্তার, চাঁদাবাজি, সাইবার অপরাধ এবং জননিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তুলে ধরেন। নবাগত পুলিশ সুপার সেসব বিষয়ে সাংবাদিকদের মতামত মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাবেক সভাপতি আসিফ কাজল, দৈনিক নবচিত্র পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার বিমল সাহা, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এম. রায়হান ও মিজানুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান টিপু, সহ-সভাপতি এম. রবিউল ইসলাম রবি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাজিব হাসান, প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম মন্টু, মিরাজ জামান রাজ, শাহজাহান নবীন, বাংলাদেশ বেতারের সংবাদদাতা আহসান কবিরসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা।
সভার শেষে সাংবাদিক ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নবাগত পুলিশ সুপার বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
এবার জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান চৌধুরী

ডিবিসি নিউজ কার্যালয় থেকে আটক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে যাত্রাবাড়ীর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে
জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হত্যা মামলায় সাংবাদিক নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাটি জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট।
এদিকে একই ঘটনায় ডিবির হেফাজতে নেওয়া ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবিপ্রধান।
এর আগে বুধবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁদের সহকর্মী ও ডিবি কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তখন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মো. আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, একটি প্রতিবেদন প্রকাশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির পর তাঁদের দুজনকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের সঙ্গে কথা বলছিলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে ডিবিসি নিউজের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুকতাদির আনিক জানিয়েছিলেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের প্রতিবাদে পুলক ঘটকের ক্ষোভ, ‘মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে ভয় দেখাচ্ছে সরকার’

সাংবাদিক নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে সংগঠনটি। একই ঘটনায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব পুলক ঘটক।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে নিজ কার্যালয় থেকে আটক করার ঘটনা দুঃখজনক ও নজিরবিহীন। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত এবং মৌলিক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তাঁরা অবিলম্বে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর মুক্তি দাবি করেন।
এদিকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পুলক ঘটক বলেন, গণমাধ্যমের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান এবং একজন সম্পাদককে আটক করা গণতন্ত্র ও সভ্যতার সঙ্গে চরম বৈরিতার শামিল।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগবিহীন একতরফা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের ভাগাভাগির ভোটে ক্ষমতায় আসা সরকার নিজেদের বৈধতার সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের সরকার এখন নার্ভাস। এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।
পুলক ঘটক আরও বলেন, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের শীর্ষ নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে সাংবাদিক সমাজকে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে—ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইন প্রয়োগের ধরন নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘আইনের মধ্যে হত্যার অধিকার পুলিশের আছে, যদি প্রেক্ষাপট তৈরি হয়’—উপদেষ্টা জাহিদের এমন বক্তব্য মানুষকে ভীত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে সবাইকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।
পুলক ঘটক বলেন, অনৈতিক ও দুর্বল সরকার ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। হত্যা, নির্যাতন ও নিবর্তনমূলক আটকের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর মুক্তি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক এবং ডিবিসি নিউজের প্রধান সম্পাদক।
কুমিল্লা নির্বাচন অফিসে সেবা গ্রহীতাকে পিটিয়ে আহত, ভিডিও ভাইরাল

নতুন ভোটার নিবন্ধনে বারবার হয়রানির অভিযোগ করতে গিয়ে মারধরের শিকার; কর্মকর্তা বলছেন, ঘটেছে ধস্তাধস্তি
কুমিল্লা জেলা নির্বাচন অফিসে এক কর্মকর্তার কক্ষে সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটেছে।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, সেখানে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে, এর বাইরে কিছু হয়নি।
অভিযোগকারী রবিউল ইসলাম রবিন সদর উপজেলার পাঁচথুবী এলাকার বাসিন্দা। তার বোন মোসা. সুমাইয়া আক্তার স্বপ্নাকে নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করানোর জন্য তিনি সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। বুধবার সকালে বোনকে নিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে গেলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
রবিউল ইসলামের অভিযোগ, বোনের নতুন ভোটার নিবন্ধন করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন তিনি। প্রতিবার নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে নতুন নতুন ভুলের কথা জানানো হতো। সব ভুল একসঙ্গে জানাতে বারবার অনুরোধ করেও কোনো সমাধান পাননি।
তিনি বলেন, “আমি মানলাম, আমার সব কাজে ভুল আছে। কিন্তু কী কী ভুল আছে, তারা সব একসঙ্গে বলেনি। একেক দিন গেলে পরে একেকটি ভুলের কথা বলে। আমার বোন গেলে তাকে দাঁড় করিয়ে রাখে। আমি বারবার অনুরোধ করেছি, সব ভুল একসঙ্গে বলেন, সব ঠিক করে নিয়ে আসব।”
রবিউলের ভাষ্য, বুধবার সকালে আবারও কাগজপত্রে একটি ভুল ধরিয়ে দেওয়া হলে এ নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে কার্যালয়ের কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ধরে একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করেন।
তার দাবি, ঘটনার সময় সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলামও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কার্যালয়ে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অন্তত চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি রবিউলকে কিল-ঘুষি মারছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সেবা নিতে আসা ব্যক্তিকে এভাবে কক্ষে আটকে মারধরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভিডিও ধারণ করতে গেলে অন্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্যসচিব নাসির উদ্দিন। পরে তিনি একটি ভিডিওতে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
অন্যদিকে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, রবিউল নিজেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছিলেন। তার বোনের আবেদন করা কাগজপত্র যাচাই করে বাবার ওয়ারিশ সনদ, জন্মসনদসহ বিভিন্ন নথিতে অন্তত তিনটি অসংগতি পাওয়া যায়। সেগুলো সংশোধন করে আনতে বলা হলেও তিনি তা না করে কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেন।
ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। একজন সেবা গ্রহীতাকে মারধর করা যেমন ঠিক হয়নি, তেমনি অভিযোগকারীর আচরণও সঠিক ছিল না।
তিনি আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার জন্য কারা দায়ী, তা খতিয়ে দেখা হবে।




























