কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ সজিব হত্যাকাণ্ড: কক্সবাজার থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার তিন

কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ সজিব হত্যাকাণ্ড: কক্সবাজার থেকে মরদেহ উদ্ধার, তিনজন গ্রেপ্তার
কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ সজিব হত্যাকাণ্ড: কক্সবাজার থেকে মরদেহ উদ্ধার, তিনজন গ্রেপ্তার
কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ সজিব হত্যাকাণ্ডের নতুন মোড় এসেছে। ছয়দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্র সৈকত থেকে সজিব হোসেন নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
নিহত সজিব কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ভাউকসার এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে। জানা গেছে, গত ১ আগস্ট সজিব ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের অনুসন্ধান ও পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরির পর অজ্ঞাত নম্বর থেকে মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়, যা পরিবার দিতে পারেনি।
বুধবার বিকেলে স্থানীয়রা কক্সবাজার ইনানী সমুদ্র সৈকতে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে অবহিত করেন। তদন্তে মরদেহটি সজিবের বলে শনাক্ত হয়। পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, আরও একজনকে পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, “এই কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ সজিব হত্যাকাণ্ড মুক্তিপণ নিতে অপহরণ ও পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। গ্রেপ্তারকৃতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না, তবে অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দীর্ঘ দুর্ভোগের অবসান শুরু
ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ ভার্চুয়ালি, সাকিব হাসানের উপস্থিতিতে বাঙ্গরার নৈরপাড়-এলখাল সড়কের সংস্কার

সাকিব হাসান খানের উপস্থিতিতে নৈরপাড়-এলখাল সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন
একসময় জমির আইলই ছিল বাঙ্গরার পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের নৈরপাড়-এলখাল এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ। সরু আইল দিয়ে হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হতো শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে পিছিয়ে ছিল এ অঞ্চলের মানুষ।
পরে ওই আইলকে সড়কে উন্নীত করা হয় এবং এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এতে নৈরপাড়-এলখালের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও শিক্ষার সংকট অনেকটাই দূর হয়। তবে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যক্তিগত অর্থায়নে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে দেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। একই সঙ্গে নির্বাচিত হলে সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় নৈরপাড়-এলখাল সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভার্চুয়ালি সড়ক সংস্কারকাজের শুভ উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ (এমপি)।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান। স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজসেবক মামুন মিয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া ও নাছির উদ্দিন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ শরীফ আহমেদ, নবীয়াবাদ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বদিউল আলম এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সেক্রেটারি জয়নাল মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া, মুখলেছুর রহমান হিরন, অবিদ হোসেন অবিদ, আনিছ খান, গোলাম মোস্তফাসহ অনেকে।
দীর্ঘ দুর্ভোগের অবসানের আশায় স্থানীয়রা
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সড়কটি ব্যবহারকারী ভ্যানচালকসহ সাধারণ মানুষ এতে উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

আমি এই সড়কে ভ্যানে করে হকারি করি। সারাদিন গাড়ি চালিয়ে রাতে কোমর ব্যথায় কষ্ট পাই। দাদা আইল থেকে এই রাস্তা করেছেন, আবার দাদাই সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।
সড়কটির উন্নয়নকাজ শেষ হলে নৈরপাড়-এলখাল এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমবে এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
তিনজনের কারও নেই পুলিশ রেকর্ড
অপ্রতিম হত্যা: আটক আনাসকে ছেড়ে দিল এসআরবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার ঘটনায় আটক শাহরিয়া আনাসকে ছেড়ে দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আনাসকে আটক করে হেফাজতে নেয় এসআরবি। তবে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। পরে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আটক হওয়া অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে আনাসের যোগাযোগের একটা তথ্য ছিল আমাদের কাছে। সেজন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তাই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডাকা হতে পারে।
এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২ অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, আটক অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে আনাসের যোগাযোগের একটি তথ্য তাদের কাছে ছিল। এ কারণে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আবারও ডাকা হতে পারে।
আনাস আটক হওয়ার পর তার একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই পোস্টে তিনি কিশোর অপ্রতিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।
এর আগে পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা আনাসকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশ তাকে আটক করেনি। পরে জানা যায়, এসআরবি তাকে হেফাজতে নিয়েছিল এবং রোববার সকালে ছেড়ে দিয়েছে।
এদিকে শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি এর উত্তর চাই। আমার একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আমরা কীভাবে বাঁচব? কেমনে আমার জীবন কাটাবো—কীভাবে এই ছেলেকে ছাড়া বাঁচব?
এর আগের দিন শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপ্রতিমের সঙ্গে ঘোরাফেরা করা প্রথম সন্দেহভাজন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়।
তুহিন আটকের পর সদর সার্কেল পুলিশের এএসপি মুস্তাইন বিল্লাহও জানিয়েছিলেন, আনাস হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সানন্দা এলাকার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), সালমানপুর এলাকার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকার ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোর।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের কারও বিরুদ্ধে এর আগে কোনো পুলিশ রেকর্ড (পিসিপিআর) নেই।
রহস্য ঘনীভূত
জামায়াত এমপির সঙ্গে হোটেলকাণ্ডে আলোচিত মরিয়ম, এবার লাশ পাওয়া গেল ন্যাম ভবনে

ন্যাম ভবনে এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার দিকে খবর পেয়ে ন্যাম ভবনে যায় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। পরে ভবনের একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ।
মরিয়ম খাতুনকে এর আগে একটি হোটেলকেন্দ্রিক ভিডিওকাণ্ড ঘিরে আলোচনায় আসা সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে তার মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে আমিসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছি। ভবনের একটি রুমের জানালা দিয়ে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। এরপর থানা পুলিশ রুমে প্রবেশ করবে। তবে কখন তিনি আত্মহত্যা করেছেন, এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ও থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেছেন। ভবনের একটি কক্ষের জানালা দিয়ে মরদেহটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
মরিয়ম খাতুন কখন মারা গেছেন এবং মৃত্যুর পেছনে কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।























