৩ দিনের মধ্যে বদলীর দাবি
কোটালীপাড়ায় শিক্ষকের স্থায়ী বদলীর দাবিতে মানববন্ধন, শিক্ষার্থী সরিয়ে নেওয়ার আল্টিমেটাম

কোটালীপাড়ায় শিক্ষকের স্থায়ী বদলী দাবিতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ৬ নং ঘাঘরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী অভিভাবকেরা। সহকারী শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার স্থায়ী বদলী ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।
রবিবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে শতাধিক অভিভাবক অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা জানান, তিন দিনের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বদলী না হলে বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।
অভিভাবক শাহানাজ বেগম বলেন, “আমার দুই সন্তান এই বিদ্যালয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও তার স্থায়ী বদলী না হওয়ায় আমরা আবার রাস্তায় নেমেছি।”
আরেক অভিভাবক বোরহান খান অভিযোগ করে বলেন, “তার বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বরং আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। তার কারণে ভালো শিক্ষকরা এখানে টিকতে পারেন না। দ্রুত স্থায়ী বদলী না হলে আমরা সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে রাখবো না।”
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি হোসেন মোল্লা বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বড় অংশই তাকে আর এখানে দেখতে চায় না। অথচ তিনি বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে এখানে থাকার চেষ্টা করছেন। এর আগেও সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।”
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্লাস ফাঁকি, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে তাকে সাময়িকভাবে অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তার বিরুদ্ধে লঘুদণ্ড ও স্থায়ী বদলীর সুপারিশ করেন।
তবে পরে ওই ডেপুটেশন বাতিলের দাবিতে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তপতী বাড়ৈ। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ে অভিভাবকদের মধ্যে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, “বিভাগীয় মামলার প্রেক্ষিতে স্থায়ী বদলীর জন্য জেলা অফিসে তিনটি শূন্য বিদ্যালয়ের তালিকা অনেক আগেই পাঠানো হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত জেলা অফিসের।”
কোটালীপাড়ায় শিক্ষকের স্থায়ী বদলী নিয়ে চলমান এ আন্দোলন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপকূলে বাড়ছে জনদুর্ভোগ
টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

টানা বৃষ্টি কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিনমজুর পরিবারগুলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা ইউনিয়নে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ। এসব এলাকার অসংখ্য বসতঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক এবং মাছের ঘের পানির নিচে চলে গেছে।
শুধু মূল ভূখণ্ড নয়, নিঝুম দ্বীপসহ দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চরেও জোয়ারের পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক কৃষক ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন আলো বলেন, একদিকে অস্বাভাবিক জোয়ার, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে পুরো এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘরে পানি ওঠায় গত দুই দিন ধরে চুলা জ্বলেনি। এখন পর্যন্ত তাঁরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি বলেও দাবি করেন।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা জলাবদ্ধতা ও প্লাবন পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের ১১টি দল মাঠে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ও ধ্বংস ২ ড্রেজার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় এক ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি দুটি ড্রেজার মেশিন এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে উপজেলার ধামতি দক্ষিণ ইউনিয়নের তুলাগাঁও গ্রামের রহিম ভূঁইয়ার বাড়ির পাশ থেকে একটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ১ হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়।
এদিকে রামের দিঘিরপাড় এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার দায়ে ড্রেজার মালিক মো. আব্দুস ছামাদ (৬০)-কে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত একটি ড্রেজার এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট পাইপও ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, কৃষিজমি নষ্ট ও পরিবেশের ক্ষতি রোধে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন।
মহাসড়কে পুলিশের অভিযান
দাউদকান্দিতে ১৬ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক, জব্দ প্রাইভেটকার

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।এক নজরে
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল পৌনে ১১টার দিকে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজার ঢাকামুখী লেনে নিয়মিত তল্লাশির সময় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটকরা হলেন চট্টগ্রাম জেলার ডবলমুরিং থানার পশ্চিম নাসিরাবাদ এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে মো. ফিরোজ (৪৬) এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার নয়ানগর গ্রামের মৃত দুলাল গাজীর ছেলে মো. মিলন গাজী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের একটি দল দক্ষিণ সতানন্দি এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এ সময় সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে টোল প্লাজার প্রায় ১০০ গজ পশ্চিমে একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারকে থামানোর সংকেত দেওয়া হয়।
পরে গাড়িটি তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা আটটি প্যাকেট থেকে মোট ১৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং মাদক বহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা, জব্দ করা প্রাইভেটকার এবং আটক দুই আসামিকে আদালতে পাঠানোর আইনগত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।























