চট্টগ্রামে সাংবাদিক পরিচয়ে গেস্ট হাউসে কক্ষে কক্ষে তল্লাশি, সমালোচনার ঝড়
সাংবাদিক পরিচয়ে গেস্ট হাউসে কক্ষে কক্ষে তল্লাশির ঘটনাটি সামাজিকভাবে নিন্দিত হওয়ার পাশাপাশি আইনি প্রশ্নও তুলেছে—এই আচরণ শুধু অপসাংবাদিকতার নিদর্শনই নয়, বরং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের গুরুতর অপরাধ বলে অভিহিত করছেন বিশিষ্টজনেরা। ছবি- দৈনিক আজকের কথা।
চট্টগ্রামে সাংবাদিক পরিচয়ে গেস্ট হাউস-এ তল্লাশি চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বহদ্দারহাট এলাকার একটি গেস্ট হাউসে এ ঘটনা ঘটে। ‘হান্নান রহিম তালুকদার’ নামের এক ব্যক্তি ক্যামেরা হাতে গেস্ট হাউসে প্রবেশ করে একাধিক কক্ষ তল্লাশি চালান এবং অতিথিদের নানা প্রশ্ন করে ভিডিও করেন, যা পরে ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে হান্নান রহিম তালুকদার নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রায় ১৫ মিনিটের ভিডিও আপলোড করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে পরিচিতি দিয়ে গেস্ট হাউসের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে অতিথিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। একাধিক অতিথিকে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিচয়, এমনকি বিয়ের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
এক পর্যায়ে এক দম্পতি জানায়, তারা স্ত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসার জন্য এসেছেন। কিন্তু তবুও তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি। অন্য একটি কক্ষে তরুণ-তরুণী থাকার বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। ভিডিওর একাধিক স্থানে তাকে হোটেলের রেজিস্টার খাতা ঘাঁটতে ও অতিথিদের হয়রানিমূলকভাবে প্রশ্ন করতে দেখা যায়।

হান্নান রহিম তালুকদার নিজেকে দৈনিক চট্টগ্রাম সংবাদ-এর সম্পাদক ও সিএসটিভি২৪-এর চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিলেও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্য নন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলেও ফেসবুক পোস্ট ও ব্যানারে ইঙ্গিত রয়েছে।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ বলেন, “এই ব্যক্তি আমাদের কোনো সদস্য নন। সাংবাদিকতা কোনোভাবেই এমন তল্লাশির অনুমতি দেয় না। এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও অপরাধযোগ্য। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে চান্দগাঁও থানার ওসি আফতাব উদ্দিন জানান, “সাংবাদিক পরিচয়ে এমন তল্লাশি অননুমোদিত ও বেআইনি। কোনো অভিযোগ থাকলে পুলিশের মাধ্যমে তদন্ত হবে। ইতিমধ্যে গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মামলা না করলে পুলিশ নিজের পক্ষ থেকেই ব্যবস্থা নেবে।”
হান্নান রহিম তালুকদারের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি বলেন, “এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমি সরেজমিন প্রতিবেদন করেছি। তারা গেস্ট হাউসটির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করবে।” তবে সাংবাদিক হিসেবে সরাসরি তল্লাশি চালানোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সাড়া না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
সাংবাদিক পরিচয়ে গেস্ট হাউস তল্লাশি এরকম ঘটনাটি সামাজিকভাবে নিন্দিত হওয়ার পাশাপাশি আইনি প্রশ্নও তুলেছে—এই আচরণ শুধু অপসাংবাদিকতার নিদর্শনই নয়, বরং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের গুরুতর অপরাধ বলে অভিহিত করছেন বিশিষ্টজনেরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মিললেও, এখন নজর থাকছে ঘটনাটির পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে।





















