ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওসিসহ ৬ পুলিশ প্রত্যাহার, তদন্তে কুমিল্লা রেঞ্জ

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওসিসহ ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার: কাভার্ড ভ্যান থেকে আদায় করা হয় ৮০ হাজার টাকা
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওসিসহ ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার দায়িত্ব থেকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—সড়কে পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে ঘুষ আদায় করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন: ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিপুল বড়ুয়া, কনস্টেবল মো. সাহাবুদ্দিন, মস্তু, সাকিবুল ও মো. জহির মিয়া।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মাসের ৩ তারিখ সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যান থামায় টহল পুলিশ। পরে অবৈধ পণ্যের অভিযোগ তুলে গাড়ি থেকে চালকের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। বিষয়টি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত হলে সেটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার ছয়জন পুলিশ সদস্যকে সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। বর্তমানে ওই থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সজীব মিয়া।
তিনি জানিয়েছেন, একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে একযোগে তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তিনি নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের জন্য একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কার কী সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওসিসহ ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার-এ ঘটনাটি শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং জনআস্থার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
📢 Call to Action (CTA):
👉 আপনার এলাকাতেও কি হাইওয়ে পুলিশদের বিরুদ্ধে ঘুষ বা হয়রানির অভিযোগ আছে? নিচের মন্তব্যে লিখুন বা আমাদের ইনবক্সে জানান। আপনি চাইলে নাম গোপন রাখা হবে। জবাবদিহিতার জন্য আপনার তথ্যই হতে পারে ভবিষ্যতের হাতিয়ার।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
মুরাদনগরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার ২

মুরাদনগরে আগে আটক, পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
স্বজনদের দাবি, মামলার খবরই জানতেন না তারা
কুমিল্লার মুরাদনগরে ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস ও মো. দেলোয়ার হোসেনকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটকের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে স্বজনদের অভিযোগ, তাদের আটক করার আগে বা পরে মামলা সম্পর্কে তারা কিছুই জানতেন না।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের দিলালপুর ও নাগেরকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ইদ্রিস মেম্বার (৪৫) মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য এবং দিলালপুর গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। অন্যদিকে দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নাগেরকান্দি গ্রামের বেদন মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, ভোররাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয় এবং ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার দুজনের স্বজনদের অভিযোগ, ভোররাতে পুলিশ বাড়িতে এসে তাদের ধরে নিয়ে যায়। তখন কোনো মামলার কথা জানানো হয়নি। পরে তারা জানতে পারেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাটি সম্পর্কে আটকের আগে তারা কিছুই জানতেন না বলেও দাবি করেন স্বজনরা।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তার দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে মামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, ধারাসহ বিস্তারিত তথ্য পুলিশ জানায়নি।
অপ্রতিম হত্যার পর মায়ের ফেসবুকে ধারাবাহিক পোস্ট, আইডি চালাচ্ছেন কে?

অপ্রতিম হত্যার পর মায়ের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন প্রশ্ন, সামনে এলো ৫ হাজার টাকা ও আইফোনের তথ্য
ছেলের শোকে কাতর মা, তবু ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট; হত্যার নেপথ্য নিয়ে নিজেই দিলেন নতুন তথ্য
কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর তার মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত এই মায়ের ব্যক্তিগত ফেসবুক কার্যক্রমও এখন আলোচনায় এসেছে।
‘নাদিদা নাহিদ’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে নিয়মিত পোস্ট ও অপ্রতিমকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে। সর্বশেষ, এই প্রতিবেদনের প্রস্তুতির সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগেও ওই আইডি থেকে অপ্রতিমের হত্যা নিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টের সঙ্গে অপ্রতিম ও আইফোনসহ চারটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে অপ্রতিমের মা দাবি করেছেন, শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাই নয়, অপ্রতিমের কাছ থেকে ধার নেওয়া ৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।
পোস্টে তিনি লেখেন, অপ্রতিম মায়ের আইফোন নিয়ে টিকটক ভিডিও বানাতে বের হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যরা আগে থেকেই ফোনটি নেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছিল এবং তাদের পরিকল্পনা ছিল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া। এ পরিকল্পনার সঙ্গে ‘তুহিন’ নামের একজন জড়িত ছিলেন বলেও পোস্টে দাবি করা হয়।
পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী, তুহিন অপ্রতিমকে নিয়ে পাহাড়ের প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে চলে যায়। পরে আরও দুজন সেখানে যোগ দেয়। তিনজন মিলে অপ্রতিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তার মাথায় আঘাত করে। সেখানেই অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হয় বলে দাবি করেছেন তার মা।
তবে পোস্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে—অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোরকে অপ্রতিম ৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। সম্প্রতি অপ্রতিম সেই টাকা ফেরত চাইছিল। এতে ওই কিশোর বিরক্ত হয়ে পড়েছিল এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করতে পারে বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
পোস্টে আরও বলা হয়, তুহিনকে আটক করার পরও সে অন্যদের বিষয়ে তথ্য দেয়নি। ওই সময় তুহিনের মোবাইলে বারবার ফোন আসছিল। পোস্টদাতার দাবি, ফোনগুলো করছিল সেই কিশোর—যে অপ্রতিমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল।
অপ্রতিমের মা আরও দাবি করেন, ওই কিশোর পাহাড়ে যাওয়ার সময় নিজের মোবাইল সঙ্গে নেয়নি, যাতে তার অবস্থান শনাক্ত করা না যায়। পোস্টে তার বয়স ১৫ বছর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে অপ্রতিমের মায়ের দাবি, অপ্রতিমের বন্ধুদের অধিকাংশই তার চেয়ে বয়সে বড় ছিল। একই সঙ্গে অপ্রতিম নিজে কোথা থেকে ৫ হাজার টাকা পেয়েছিল এবং কেন অন্য একজনকে সেই টাকা ধার দিয়েছিল—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এর আগে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে তার সহকর্মী সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার জানান, ফাহাদ ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে কাজ শুরু করেছিলেন।
এ ছাড়া ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলেও মানববন্ধনে জানানো হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মামলার আরেক আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অপ্রতিমের মা মনে করেন, অতীতে ওই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তার ছেলেকে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের প্রকৃত বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার মা। তিনি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স-সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের একটি ফেসবুক পোস্টও অপ্রতিমের মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় আসে। কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ওই পোস্ট করেছিলেন ড. নাহিদা বেগম। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার চেষ্টা করার কথা জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার মা জানিয়েছিলেন, “ওই ছিল আমাদের সব। ওকে ঘিরেই আমাদের কত স্বপ্ন ছিল, কত পরিকল্পনা ছিল। ওর হাসি, ওর কথা, ওর ছোট ছোট আবদারেই আমাদের ঘরটা ভরে থাকত। আজ সেই ঘরেই ও নেই, ওর বই-খাতা আছে, বিছানায় ওর জিনিসপত্র আছে, কিন্তু ও নেই।”
অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারও ছেলের হত্যার উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।
অপ্রতিম ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, কারা কীভাবে জড়িত এবং ফেসবুক পোস্টে উঠে আসা নতুন তথ্যগুলোর সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না—তা তদন্তের বিষয়।

অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও তিনি আমাকে কয়েকটি দাবি জানাতে বলেছেন। তার পক্ষ হয়ে আমি এসব দাবি জানিয়েছি।
অপ্রতিম হত্যায় নতুন প্রশ্ন: আসামিরা সত্যিই কিশোর তো? ডিএনএ টেস্ট চান মা

কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে পুরোনো বিরোধের যোগসূত্র খতিয়ে দেখার দাবি, প্রয়োজনে আইন সংশোধনেরও আহ্বান
কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন তথ্য ও তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তার মা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তারা প্রকৃতপক্ষে কিশোর কি না—তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য ও দাবি তুলে ধরা হয়। অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে তার সহকর্মী বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে কুবি শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামীমা নাসরিন, ইউট্যাব কুবি ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও হলের প্রভোস্টরা।
মানববন্ধনে ড. কামরুন নাহার জানান, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে (১৬) ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মামলার আরেক আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
অপ্রতিমের মা মনে করছেন, অতীতে ওই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তার ছেলেকে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তার দ্বিতীয় দাবি, মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের প্রকৃত বয়স ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
এ ছাড়া অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

আমি অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও তিনি আমাকে কয়েকটি দাবি জানাতে বলেছেন। তার পক্ষ হয়ে আমি এসব দাবি জানিয়েছি।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, আসামিদের ভূমিকা এবং তাদের বয়স নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন অপ্রতিমের মা।























