শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

“৪৭তম জন্মদিনে জয়নাল খোকন: মুরাদনগরবাসীর মানবিক হৃদয়ের প্রিয় নেতা”

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৩৯ এএম
“৪৭তম জন্মদিনে জয়নাল খোকন: মুরাদনগরবাসীর মানবিক হৃদয়ের প্রিয় নেতা”
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

“জয়নাল আবেদীন খোকন: ৪৭তম জন্মদিনে মুরাদনগরবাসীর প্রেরণার উৎস”

জয়নাল আবেদীন খোকন। এই নামটি মুরাদনগরের মানুষদের কাছে শুধুই পরিচয় নয়, বরং অনুভূতি, বিশ্বাস ও মানবিকতার প্রতীক। ২১ নভেম্বর ১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া এই কৃতি সন্তান ২০২৫ সালে তার ৪৭তম জন্মদিন পা রাখলেন। জন্মদিনের এই দিনে মুরাদনগরবাসী শুধু আনন্দ নয়, বরং ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার স্রোত নিয়ে তাকে ঘিরে রেখেছেন।

মুরাদনগরের ১৭ নং জাহাপুর ইউনিয়নের বড়িয়াকুড়ি গ্রামের এই সন্তান সমাজসেবা ও মানবিকতার জন্য সুপরিচিত। তার জন্মদিন উপলক্ষে তার শুভাকাঙ্খীরা বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে নানা আয়োজন করছেন—ছোট্ট শিশু থেকে বৃদ্ধ, গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী সবাই তার অবদানকে সম্মান জানিয়েছেন। জন্মদিন শুধু তার ব্যক্তিগত আনন্দ নয়, বরং মুরাদনগরের মানুষের হৃদয়ে মানবিকতার শক্তিকে উদযাপন করার দিন।

জয়নাল আবেদীন খোকন
২১ নভেম্বর চলে গেলেও—উপজেলার মানুষ ভুলতে পারেনি এক মানবিক আলোর মানুষ জয়নাল আবেদীন খোকনকে ————ছবি : সংগৃহিত।

সমাজসেবায় নিবেদিত জীবন

জনাব জয়নাল আবেদীন খোকন শুধু একজন ব্যবসায়ী নন, তিনি একজন প্রকৃত সমাজসেবক। অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, বিপদে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়া, আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান—এসব কারণে মানুষের চোখে তিনি একজন আস্থা ও প্রেরণার প্রতীক। গ্রামের মানুষের কথায়, “খোকনের জন্মদিন মানেই আমাদের হৃদয়ে মানবিকতার নতুন আলো জ্বলে।”

তিনি বিপদে, দুর্যোগে বা সামাজিক সমস্যায় সর্বদা প্রথম সারিতে দাঁড়ান। করোনার সময়ে তিনি অসহায় পরিবারের জন্য ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছিলেন, বর্ষা মৌসুমে বন্যা আক্রান্তদের পাশে ছিলেন, আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্যোগী পদক্ষেপ নিয়েছেন। জন্মদিনে এই কার্যক্রমগুলো নতুন আলোকে উজ্জীবিত করে।

ব্যবসায়িক দক্ষতা ও উদ্ভাবনীতা

জনাব খোকন একজন প্রতিষ্ঠিত স্বর্ণ ও ডায়মন্ড জুয়েলারি ব্যবসায়ী। তার ব্যবসার পরিচয় হলো সততা, মান এবং আধুনিক ডিজাইন। ব্যবসার সঙ্গে তিনি কখনোই সমাজসেবা বিসর্জন দেননি। বরং ব্যবসার সফলতা তাকে আরও বড় পরিসরে সমাজসেবা করার সুযোগ দিয়েছে।

বাজুসের সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি শিল্পের স্বচ্ছতা ও উদ্যোক্তাদের অধিকার রক্ষায় অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশ পোদ্দার সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার নেতৃত্বে নতুন উদ্যোগ ও সামাজিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জন্মদিনের এই দিনে তার ব্যবসায়িক সফলতা এবং সমাজসেবার মিলনে গ্রামের মানুষরা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

জনাব খোকন জুয়েলারি শিল্পের একজন পরিচিত এবং অভিজ্ঞ মুখ। তার দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব, নীতি নির্ধারণে সক্রিয়তা এবং সমাজসেবামূলক মনোভাব তাকে এই পদে নির্বাচিত করায় উৎসাহ এবং আশা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ পোদ্দার সমিতি—শিল্প ও উদ্যোক্তাদের প্ল্যাটফর্ম

বাংলাদেশ পোদ্দার সমিতি দেশের জুয়েলারি শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। এটি স্বর্ণ ও ডায়মন্ড খাতের ব্যবসায়ী, কারিগর এবং উদ্যোক্তাদের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জনাব খোকনের নেতৃত্বে সদস্যরা আশা করছেন—

শিল্পের স্বচ্ছতা ও নীতি সংস্কারে সহায়তা

উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধান ও সমর্থন

আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে খাতের সামঞ্জস্য ও উন্নয়ন

জুয়েলারি শিল্পে জনাব খোকনের অবদান

বাজুসের সহ-সভাপতি হিসেবে তার অবদান ইতিমধ্যেই লক্ষ্যণীয়। তিনি—

উদ্যোক্তাদের অধিকার রক্ষা এবং ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন

স্বর্ণ ও ডায়মন্ড ব্যবসায় মানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড অনুযায়ী শিল্পকে আধুনিকায়নের পথ দেখিয়েছেন

তার নেতৃত্বে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জুয়েলারি শিল্পের মান ও পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার প্রত্যাশা রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজুসের পক্ষ থেকে অভিনন্দন

বাজুসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,

“জনাব মোঃ জয়নাল আবেদীন খোকনকে বাংলাদেশ পোদ্দার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় আমরা এর আগেও অভিনন্দন জানিয়েছি এবং জন্মদিনেও অভিনন্দন জানাচ্ছি। তার নেতৃত্ব শিল্পের মান, স্বচ্ছতা এবং উদ্যোক্তাদের কল্যাণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শুভ হোক তার জন্মদিন”

বাংলাদেশের জুয়েলারি খাতের বিভিন্ন স্তরের মানুষ আশা করছেন, এই নতুন নেতৃত্ব তাদের ব্যবসার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং খাতের প্রতিযোগিতামূলক ও আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মানবিকতা ও প্রেরণার উৎস

মুরাদনগর উপজেলার একাধিক গ্রামের মানুষ বলেন, “খোকন আমাদের হৃদয়ের কাছাকাছি। জন্মদিন মানে শুধু পারিবারিক আনন্দ নয়, বরং তার মানবিকতায়, সহানুভূতিতে, সমাজসেবায় এক নতুন আলো জ্বলে।” তিনি শুধু সমাজসেবক নন, বরং প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার জন্মদিনে যুবকরা বলেন, “আমরা চাই তার মতো মানুষ হয়ে উঠতে।”

দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামের হাফেজ শুয়াইবুল হোসেন মুন্সীসহ সুধন চন্দ্র নমঃ, অঞ্জনারানী এবং অন্যান্য গ্রামের বাসিন্দারা জানান, খোকনের সাহায্য পেয়ে কত পরিবার স্বপ্ন দেখেছে, কত শিশু শিক্ষা অর্জন করেছে। জন্মদিনে এই মানবিক কর্মকাণ্ডের কথা মনে করে সবাই আনন্দিত।

জয়নাল আবেদীন খোকন। জন্মদিন ২১ নভেম্বর মানেই মুরাদনগরবাসীর হৃদয়ে মানবিকতা, ভালোবাসা ও প্রেরণার ছোঁয়া। ৪৭তম জন্মদিনে তার নেতৃত্ব, সমাজসেবা ও মানবিকতার ছাপ যেন চিরকাল অম্লান থাকে। মুরাদনগরবাসী চাইছেন, খোকনের আলোর ছোঁয়া তাদের পাশে আরও দীর্ঘদিন থাকবে, যেন প্রতিটি দিন জন্মদিনের মতো উৎসবে পরিণত হয়।

এলাকার খবর

৪০ দিন বন্ধ উৎপাদন

গ্যাস সংকটে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
গ্যাস সংকটে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার

গ্যাস সংকটের কারণে চলতি অর্থবছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি দেশের বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা। টানা ৪০ দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন কম সার উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

  প্রতিবেদনের হাইলাইটস

  • গ্যাস সংকটে টানা ৪০ দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা।
  • ৮.৫০ লাখ মেট্রিক টনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৭,৬৪,৫৩৫ মেট্রিক টন
  • লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কম উৎপাদিত হয়েছে।
  • ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯.৪০ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে গ্যাসের সংকটের কারণে দীর্ঘ ৪০ দিন উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অর্থবছর শেষে মোট উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল ইসলাম।

তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব এই আধুনিক কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন এবং বছরে প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জিত হলেও চলতি অর্থবছরে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উৎপাদন কমে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টনে নেমে আসে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কম উৎপাদিত হয়েছে।

তবে এ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নতুন অর্থবছরের জন্য উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ এবং যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, এমনকি অতিক্রম করাও সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, উৎপাদন শুরুর প্রথম বছরেই ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা ২৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে এটিই ছিল একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান।

এর আগে দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা দৈনিক ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষম ঘোড়াশাল সার কারখানা এবং ৩০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষম পলাশ সার কারখানা ভেঙে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একীভূত ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণ করা হয়।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীনে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১০ একর জমির ওপর নির্মিত কারখানাটির উদ্বোধন করা হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে। পরে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন, যা দেশের সার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বন্যপ্রাণী সেবার উদ্ধার অভিযান

চা পাতা তুলতে গিয়ে অজগর, শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে আতঙ্ক

জালালুর রহমান | মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
চা পাতা তুলতে গিয়ে অজগর, শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে আতঙ্ক

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি চা বাগানে চা পাতা সংগ্রহের সময় একটি অজগর সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করেন।

চা পাতা তুলতে গিয়ে শ্রমিকদের সামনে অজগর সাপ।
আতঙ্কে কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান শ্রমিকরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায় বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন।
উদ্ধারের পর অজগরটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ভুরভুরিয়া চা বাগানের সেক্টর-৯ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে চা পাতা সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় ঝোপের মধ্যে একটি বড় আকৃতির অজগর সাপ দেখতে পেয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা দ্রুত কাজ বন্ধ করে বাগান কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে চা বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে অজগর সাপটি উদ্ধার করেন।

উদ্ধারকৃত অজগরটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর অভিযান

দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে ২টি ড্রেজার ধ্বংস, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে ২টি ড্রেজার ধ্বংস, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

কৃষিজমি, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথমে উপজেলার তুলাগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। পরে রামের দিঘিরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার দায়ে মো. আব্দুস ছামাদকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত আরও একটি ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে কৃষিজমির মাটি কাটার কারণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ছিল। নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, কৃষিজমি ধ্বংস, খাল-বিল ও জলাশয়ের ক্ষতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

×
CLOSE X