দুই দিনে দুই হামলা
মুরাদনগরে কিশোর গ্যাংয়ের রক্তাক্ত তাণ্ডব: দুই দিনে দফায় দফায় হামলা, আহত ২০, থানায় পৃথক ২ অভিযোগ
মুরাদনগরে কিশোর গ্যাংয়ের রক্তাক্ত তাণ্ডব: দুই দিনে দফায় দফায় হামলার চিত্র। ছবি : আজকের কথা
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামে পূর্ব শত্রুতা ও মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে দুই দিনে দফায় দফায় সংঘটিত ভয়াবহ হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক পক্ষের ৯ জন ও প্রতিপক্ষের ২ জনসহ মোট ১১ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার ঘটনায় একই আসামিদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মুরাদনগর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কিশোর গ্যাং ও দাঙ্গাবাজ চক্র হিসেবে পরিচিত। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পান না। সর্বশেষ এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, গত ২৮ মে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কাজিয়াতল গ্রামের চাঁনগাজী মুন্সী বাড়িতে প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে সাইদুল (২০) বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে মেকানিক শহিদ মুন্সীর বাড়ির সীমানা বেড়ার ওপর উঠিয়ে দিলে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সাইদুল ও তার সহযোগীরা লোহার রড, লাঠি, বাঁশ এবং ধারালো দা নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে শহিদ মুন্সীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ির লোকজনকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শহিদ মুন্সী বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে মুরাদনগর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
কিন্তু প্রথম দিনের রক্তাক্ত হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন ২৯ মে শুক্রবার আবারও একই পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে কাজিয়াতল বাজার এলাকায় একা পেয়ে মোবারক হোসেনকে লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তার কাকা রাজীব মুন্সীকে একা পেয়ে নাক, মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। হামলার সময় তার পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং নগদ ১ হাজার ৫০০ টাকা ও প্রায় ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এই দ্বিতীয় হামলার ঘটনায় মৃত জলিল মুন্সীর ছেলে মোবারক মুন্সী বাদী হয়ে একই আসামিদের বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় আরও একটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
দুইটি অভিযোগে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন— মো. সায়মন (২০), পিতা রবিউল; মো. সুজন (২০), পিতা মোকবল হোসেন; মো. সাইদুল (২০), পিতা দুলাল মিয়া; আনোয়ার হোসেন (৩০); দেলোয়ার হোসেন (৩৫); সাইদুল ইসলাম (২৪); মো. জহির (২৮), পিতা রবিউল; মো. সেলিম (৩৫), পিতা মোকবল হোসেন; মো. শফিক (৪০), পিতা আব্দুল খালেক এবং রাসেল মিয়া (২৭), পিতা ফজলু মিয়া। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের দফায় দফায় সংঘটিত হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর জখম হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারের ৯ জন এবং প্রতিপক্ষের একই পরিবারের ২ জন সদস্য রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগ দায়েরের পরও অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। হামলার শিকার পরিবারটির সদস্যরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমনকি এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে শনিবার (৩০ মে) সকালে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে একই আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তদের একটি অংশ এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত। তারা প্রায়ই বিভিন্ন সংঘর্ষ, হামলা ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জেলা পরিষদের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন
জনগণকে খেজুরের অঙ্ক শিখানো সেই হাসনাতের পেটে ১০ কোটি টাকার হিসাব কেন আড়ালে?
৩৯ বক্স খেজুরের ‘অঙ্ক ক্লাস’ বনাম ১০ কোটির বৈষম্য: হাসনাতের স্বচ্ছতার আসল রূপ নিয়ে প্রশ্ন
৩৯ বক্স খেজুরের হিসাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে দিয়ে যারা নিজেদের স্বচ্ছতার ‘সস্তা বাহবা’ কুড়াতে চেয়েছিলেন, ক্ষমতার আবর্তে তাদেরই আসল রূপ এখন প্রকাশ্য। জেলা পরিষদ, ত্রাণ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে না জানিয়ে কোটি কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের নেপথ্য কাহিনি এবার চলে এসেছে জনসমক্ষে।
একদিকে নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের মন জয়ের জন্য ‘সরকার থেকে কোনো ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেবেন না’ বলে ঘোষণা দেওয়া, অন্যদিকে গোপনে সংসদ থেকে সরাসরি রাজস্বখাতের বিলাসবহুল গাড়ি দাবি করার মতো দ্বিমুখী নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক এই মুখ।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন।
খেজুরের সস্তা বাহবা বনাম ১০ কোটির বড় কোটা
রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ মানুষের মাঝে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যে হাসনাত আবদুল্লাহ ৩৯ বক্স খেজুরের হিসাব দিয়ে ফেসবুকে ‘খেজুরের অঙ্ক ক্লাস’ নিয়েছিলেন, তিনি জেলা পরিষদের কোটি কোটি টাকার হিসাব কেন আড়াল করলেন?
জেলা পরিষদের হিসাব বিভাগের সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশেষ বরাদ্দের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে গেছে মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলায়। যার মধ্যে দেবীদ্বার আসন থেকে নির্বাচিত বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ একাই বাগিয়ে নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। অথচ এই বিশাল বরাদ্দের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট সচিবের কোনো প্রকাশ্য হিসাব জনসমক্ষে আসেনি।
বক্তব্যের বিষয়ে পরবর্তীতে জানতে চাওয়া হলে জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি বলছি না ওই টাকা তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। তাঁরা দুজনেই নিজেদের উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ বা উন্নয়ন বরাদ্দের নামে বিপুল পরিমাণ ওই টাকা নিয়ে অন্যান্য উপজেলাগুলোকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত করেছেন। কারণ তাঁরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছিলেন, অথচ তাঁরাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে বাকি উপজেলাগুলোর সঙ্গে তীব্র বৈষম্য করলেন।”
তীব্র বৈষম্যের শিকার কুমিল্লার ১৫ উপজেলা
জেলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে কেবল মুরাদনগর (আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি) এবং দেবীদ্বার (হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি) উপজেলাতেই সিংহভাগ টাকা চলে যায়। এর বাইরে নামমাত্র ১ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ পেয়েছিল চৌদ্দগ্রাম উপজেলা। বাকি ১৪টি উপজেলা এই অর্থবছরে বলতে গেলে কোনো বরাদ্দই পায়নি। ‘বৈষম্যহীন’ রাজনীতির বুলি আউড়ে এসে এমন চরম আঞ্চলিক বৈষম্য তৈরি করায় জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মুখে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ির ত্যাগ, নেপথ্যে রাজস্বের গাড়ির আবদার
হাসনাত আবদুল্লাহর এই দ্বিমুখী আচরণ কেবল বরাদ্দের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি ও তার পরিবার সরকারের কোনো ‘ট্যাক্স ফ্রি’ গাড়ি সুবিধা গ্রহণ করবেন না বলে জনসভায় আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছিলেন। অথচ দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই পর্দার আড়ালে সরকার থেকে সরাসরি রাজস্বখাতের ব্যয়বহুল গাড়ি বরাদ্দ চেয়ে সংসদে জোর দাবি জানিয়েছেন, যা তার কথার ও কাজের বৈষম্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া আরও বলেন, “আজ বাংলাদেশ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান আজ দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ধ্বংস হওয়া অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য দিনরাত কাজ করছেন। কিন্তু যারা সমন্বয়ের রাজনীতির কথা বলে বৈষম্য তৈরি করেছে, তাদের জবাব জনগণকে দিতে হবে।”
মাত্র ৩৯ বক্স খেজুরের হিসাব দিয়ে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের বৈষম্য আড়াল করার এই চতুর রাজনীতিকে এখন স্থানীয় ভোটাররা দেখছেন ‘জনগণের সাথে প্রতারণা’ হিসেবে। দেবীদ্বারের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সস্তা বাহবা পাওয়ার এই নাটক আর কতদিন চলবে?
পরিচ্ছন্নতায় তরুণদের অনন্য উদ্যোগ
দেবীদ্বারে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, প্রশংসায় ভাসছে ‘আমার গ্রাম আমার দায়িত্ব’
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর রক্ত ও বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সামাজিক সংগঠন ‘আমার গ্রাম আমার দায়িত্ব’। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকরা ঈদের দিন সকাল থেকেই দেবীদ্বার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চাপানগর, সাইলচর ও বিজলীপাঞ্জার গ্রামে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এ উদ্যোগ। কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সংগঠনটি।
সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, কোরবানির পর পশুর রক্ত ও বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না করলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ রোধে তারা টানা তিন দিনব্যাপী বর্জ্য অপসারণ, জীবাণুনাশক ছিটানো এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তারা আরও জানান, কোরবানির পরপরই নির্ধারিত স্থান থেকে পশুর বর্জ্য সংগ্রহ করে সেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রক্তমাখা মাটিতে ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট গর্তে মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর মতে, তরুণদের এই স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের ফলে এবার গ্রামগুলোতে ঈদ-পরবর্তী সময়ের চিরচেনা দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়নি। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চাঁপানগর গ্রামের বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন হাজারী বলেন, “সাধারণত গ্রামের মানুষ দায়সারাভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করেন, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে যায়। কিন্তু ‘আমার গ্রাম আমার দায়িত্ব’ সংগঠনের সদস্যরা গত তিন দিন ধরে যেভাবে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বর্জ্য অপসারণ করেছে, তাতে রোগজীবাণুর বিস্তারের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমেছে।”
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাংবাদিক এ আর আহমেদ হোসাইন বলেন, “ঈদুল আজহার সময় কোরবানির পশুর রক্ত ও বর্জ্য যত্রতত্র পড়ে থাকলে পরিবেশ দূষিত হয় এবং দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এ সমস্যা সমাধান এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি আদর্শ ও পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতেই আমরা ঈদের দিন সকাল থেকে মাঠে কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের গ্রাম, আমাদের ওয়ার্ড ও আমাদের শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সবার আগে আমাদের নিজেদের। পবিত্র কোরবানির পর পশুর বর্জ্য যেন কোনোভাবেই মশা-মাছির উপদ্রব, দুর্গন্ধ বা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ না হয়, সে লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।”
সংগঠনটির এমন জনকল্যাণমুখী ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে পরিচালিত এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে এখন নতুন গালি 'বিশ্ব বাটপার ইউনূস'
হারিয়ে গেছে পুরোনো গালি মীরজাফর, সবার মুখে মুখে এখন নতুন গালি ‘বিশ্ব বাটপার ইউনূস’
ইতিহাসে বেইমানি বা বিশ্বাসঘাতকতার প্রাচীন প্রতীক বাংলাদেশের সেই মীরজাফরকেও পেছনে ফেলে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এখন তীব্র ক্ষোভের নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে ‘বিশ্বাবাটপার ইউনূস’ শব্দটি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ওঠা তীব্র জনরোষ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গুরুতর আইনি লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে এই নতুন সম্বোধনটি এখন মুখে মুখে ঘুরছে।
জাতীয় দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ’, ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘দৈনিক আজকের কথা’ এবং প্রবীণ সাংবাদিকদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই নজিরবিহীন গণঅসন্তুোষের চিত্রটি বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।
‘৮০ ভাগ মানুষের দাবি বিশ্ববাটপার ইউনুসের ফাঁসি চাই’
পত্রিকার একটি বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ড. ইউনূসের ফাঁসির শাস্তি কামনা করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ১৮ মাসের শাসনামলে মব সহিংসতা, শত শত মানুষের হত্যা, খুন এবং ধর্ষণের মতো চরম অপরাধে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, তাঁর আমলে দেশের স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নজিরবিহীন ধিক্কার: এক পোস্টে ৪,০০০ গালি
দৈনিক আজকের কথা পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ড. ইউনূসের একটি ঈদ শুভেচ্ছা পোস্টে নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
মন্তব্যের অনুপাত: পোস্টটিতে আসা মোট ৬,০০০টি মন্তব্যের মধ্যে ৪,০০০টিরও বেশি মন্তব্যই ছিল সরাসরি নেতিবাচক এবং আক্রমণাত্মক।
সাধারণ ব্যবহারকারীরা তাঁকে ‘বাটপার’, ‘চিটার’, ‘সুদখোর’ ‘বিশ্ব বাটপার ইউনুস’, ‘রাজাকার’ এবং ‘দেশ ধ্বংসকারী’ বলে আখ্যায়িত করে গালিগালাজ করেছেন।
নোবেল বিতর্ক: ফেসবুকের মন্তব্যগুলোতে অনেকেই লিখেছেন, ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারটি গ্রামীণ ব্যাংকের দরিদ্র নারীদের কিস্তির টাকায় কেনা, যা তিনি নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন।
সাংবাদিক আনিস আলমগীরের কড়া চাবুক: ‘ইউনূস একটি বিশ্ব বাটপার’
ড. ইউনূসের এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থেকে স্থায়ী জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এবং বিভিন্ন টকশোতে তিনি ইউনূসের ১৮ মাসের আমলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
‘দেশ বিক্রি ও ধ্বংসের’ অভিযোগ:
বার্তাবাজারের এক প্রতিবেদন অনুসারে আনিস আলমগীর সরাসরি অভিযোগ তোলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদায় নেওয়ার আগে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দিয়ে গেছেন। তিনি একজন ‘বিশ্ব বাটপার’।
ডাস্টবিন সংস্কৃতি ও বিভেদের রাজনীতি: একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের বরাতে বলা হয়, ইউনূস দেশে চরম প্রতিহিংসা এবং বিভক্তির রাজনীতি কায়েম করে সমাজকে টুকরো টুকরো করে দিয়েছেন এবং দেশে একটি ‘ডাস্টবিন সংস্কৃতি’ চালু করেছিলেন।
প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের উৎসব: আনিস আলমগীর আরও বলেন, বিশ্ব বাটপার ইউনুস ১৮ মাসে বাংলাদেশের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছেন এবং নিজে কীভাবে চুরিচামারি করে লাভবান হওয়া যায়, তা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এমনকি দেশে হামের টিকাদানে ব্যর্থতার কারণে শত শত শিশুর মৃত্যুর দায়ও তিনি ইউনূস প্রশাসনের ওপর চাপান।
সংবিধান লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গের অকাট্য প্রমাণ
জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর একটি সম্পাদকীয় বিশ্লেষণে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
১৪৭ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন: বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালীন লাভজনক কোনো পদের সুবিধা নিতে পারেন না।
ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ: ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা পদে থেকে তাঁর নিজের ইউনূস সেন্টার এবং গ্রামীণ কল্যাণ সংস্থাকে বিপুল পরিমাণ কর অব্যাহতি ও আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন, নিজ নামে নিয়েছেন বিটকয়েন ব্যবসার ওয়ালেট লাইসেন্স ও আদম বেপারীর লাইসেন্স যা সুস্পষ্টভাবে সংবিধান লঙ্ঘন এবং শপথ ভঙ্গের শামিল।
‘জাতীয় প্রতারণার ১৮ মাস’: রাজনীতি ও অর্থনীতি ধ্বংসের অভিযোগ
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কালের কণ্ঠে উল্লেখ করেছে, ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল ছিল মূলত ‘জাতীয় প্রতারণার এক দীর্ঘ দলিল’।
রাজনৈতিক বিভেদ: দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারের নাম করে ড. ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।
অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়: তাঁর সময়ে দেশ থেকে বিগত আমলের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে টকশো ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র দাবি উঠেছে।
শৈশবের চাতুরী থেকে বিশ্ব বাটপারির অভিযোগ
সমালোচকরা তাঁর অতীত জীবন ও আত্মজীবনীর তথ্য টেনে এনে বলছেন, ছোটবেলায় বিনামূল্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন পত্রিকা পাওয়ার জন্য কুইজ বিজয়ীদের নাম ভাঙিয়ে ঠিকানা বদলের যে চাতুরী তিনি করেছিলেন, সেই মানসিকতা তিনি আজও ধরে রেখেছেন। নোবেল পদকের লবিংয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ডলার সংগ্রহ এবং সর্বশেষ রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে কারাগার থেকে চিহ্নিত অপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে বিলিয়ন ডলার আয়ের যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে, তা তাঁকে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কিত করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে ড. ইউনূসের এজেন্ডা জনকল্যাণমূলক ছিল না, যার কারণে দেশ আজ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ‘আমও হারালো, ছালাও হারালো’র মতো অবস্থায় পড়েছে।


















