জামায়াতের অকৃতজ্ঞতা নিয়ে কায়কোবাদের ক্ষোভ, নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা

জামায়াতের অকৃতজ্ঞতা নিয়ে কায়কোবাদের ক্ষোভ, নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, “জামায়াতের অকৃতজ্ঞতা আজ সবার সামনে স্পষ্ট।” তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে যারা নির্যাতিত, জেল খেটেছেন ও মামলা খেয়েছেন— সেই ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল সরকারি কলেজ মাঠে স্থানীয় বিএনপির আয়োজিত বিশাল জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই সকাল থেকে মিছিলের পর মিছিল এসে সমাবেশস্থলে ভিড় জমায়। “খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ”, “তারেক রহমান জিন্দাবাদ”, “কায়কোবাদ দাদাভাই জিন্দাবাদ”— এসব স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শ্রীকাইল। নারী-পুরুষ, কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল এক পর্যায়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
কায়কোবাদ বলেন, “আমরা যদি ক্ষমতায় আসতে পারি, যারা নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের সম্মান আমরা ফিরিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ। তাদের প্রতিদান আমরা দেব।”
তিনি আরও বলেন, “আমার কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেছে আজকের শ্রীকাইলের মানুষের উপস্থিতি দেখে। আমি আপনাদের কামলা। মুরাদনগরের গরিব মানুষই আমার নেতা। আমি তাদের কামলা হয়ে থাকতে চাই।”
🔹 জামায়াতের অকৃতজ্ঞতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ
কায়কোবাদ বলেন, “শেখ মুজিব যখন বাকশাল করে জামায়াতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করেছিলেন, তখন রাজনীতি করার সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। অথচ এখন আপনারা সেই বিএনপির সঙ্গেই মোনাফেকি করছেন। জামায়াতের অকৃতজ্ঞতা দেখে আমি বিস্মিত।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৯৬ সালে জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নিজেদের বিপদে ফেলেছিল। পরে ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া তাদের ১৮টি আসন দিয়েছিলেন। বিএনপি সরকারে তাদের দুইজনকে মন্ত্রী করা হয়েছিল। অথচ তারা সেই উপকার ভুলে অকৃতজ্ঞ আচরণ করছে।”
কায়কোবাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জামায়াতের অকৃতজ্ঞতা আমাদের রাজনীতির ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। যারা সুযোগ নিয়ে পরে উপকারীর বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা কখনও জনগণের সমর্থন পায় না।”
🔹 ত্যাগী কর্মীদের প্রতি প্রতিশ্রুতি
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়ে কায়কোবাদ বলেন,
“যারা দলের জন্য জীবন দিয়েছে, জেল খেটেছে, মামলার বোঝা বইছে— তাদের পাশে বিএনপি সরকার দাঁড়াবে। তাদের সম্মান ও অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন। সঞ্চালনায় ছিলেন শ্রীকাইল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নাজমুল হাসান ও শ্রীকাইল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. এনামুল হক।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার, সদস্য সচিব এ. এফ. এম. তারেক মুন্সী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী জুননুন বসরীসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
শেষে কায়কোবাদ বলেন, “জামায়াতের অকৃতজ্ঞতা ইতিহাসের শিক্ষা। বিএনপি জনগণের দল— ত্যাগী, নির্যাতিত কর্মীরাই আমাদের শক্তি। ইনশাআল্লাহ, আমরা তাদের সম্মান ফিরিয়ে দেব।”
সরকারি সার কালোবাজারির অভিযোগে শেরপুরে ২০ ডিলারের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা

সরকারি সার বরাদ্দের পর কালোবাজারে বিক্রি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সরকারের কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে শেরপুর সদর উপজেলার ২০ জন সার ডিলারের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দায়ের হওয়া এ মামলার বাদী শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, সরকারি সার বিতরণে অনিয়ম ও কৃষকদের হয়রানির অভিযোগে দীর্ঘ তদন্তের পর এ মামলা করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানকে সঙ্গে নিয়ে শেরপুর শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ডিলারদের বিক্রয় রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করলে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তদন্তে দেখা যায়, অভিযুক্ত ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের ৪ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৮২১ মেট্রিক টন ডিএপি, ১৩৪ মেট্রিক টন টিএসপিসহ বিভিন্ন ধরনের সার অধিক মুনাফার আশায় কালোবাজারে বিক্রি করেছেন। এসব সারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪ কোটি টাকারও বেশি।
এজাহারে আরও বলা হয়, সার কালোবাজারে বিক্রির ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়। এতে কৃষকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হতে হয়েছে এবং সরকারের কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন— মো. রাসেদুল ইসলাম, সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মীর দেলোয়ার হোসেন, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, ইলিয়াস আলী, তাপস নন্দী, কামরুন নাহার হাসেম, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, রেজাউল করিম, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া ও মো. বাদশা মিয়া।
শেরপুর সদর থানায় মামলা নং-২৫(১), তারিখ ২২ জুলাই ২০২৬ হিসেবে মামলাটি বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর আওতায় রুজু হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি বরাদ্দের সার বিতরণে অনিয়ম ও কালোবাজারির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপমহাদেশের গর্ব কানাই লাল শীল, অথচ জন্মভিটা আজও অবহেলায় ধুঁকছে

বাংলা লোকসংগীতের ইতিহাসে দোতারার সুরের কথা উঠলেই শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি দোতারা বাদক, লোকশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার কানাই লাল শীলের নাম। পল্লীকবি জসীমউদ্দীন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও লোকসংগীতশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের মতো গুণীজনদের সান্নিধ্যে থেকে তিনি বাংলা লোকসংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন অনন্য অবদানে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পীর জন্মভিটা আজও অবহেলা আর অযত্নে পড়ে আছে। নেই কোনো স্মৃতি জাদুঘর, সংগীতচর্চা কেন্দ্র কিংবা স্থায়ী সংরক্ষণ উদ্যোগ। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত অমূল্য নিদর্শন।
জন্মভিটায় নীরবতা, হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাস
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কানাই লাল শীলের বাড়ির পরিবেশে নেমে এসেছে নীরবতা। বাড়ির পাশে একটি জরাজীর্ণ সিমেন্টের স্মৃতিফলক ছাড়া তাঁর স্মৃতির তেমন কোনো চিহ্ন নেই। ধুলা-ময়লায় ঢাকা ফলকটি সংস্কারের অভাবে নষ্ট হওয়ার পথে।
যে তমাল গাছের নিচে বসে তিনি দোতারার সুরে মানুষকে মুগ্ধ করতেন, সেই গাছও আর নেই। ঘরের ভেতরে তাঁর একটি ছবি ও কয়েকটি বই থাকলেও সেগুলোও সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি ঝোঁক
১৮৯৫ সালের ১ ডিসেম্বর ফরিদপুরের লস্করপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কানাই লাল শীল। মাত্র আড়াই বছর বয়সে পিতাকে হারালেও ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল গভীর অনুরাগ। আট বছর বয়সে বেহালার হাতেখড়ি, পরে দোতারার প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে লোকসংগীতের কিংবদন্তিতে পরিণত করে।
দোতারার সুরে ছড়িয়ে পড়ে খ্যাতি
দরবেশ দাণ্ড শাহের মাজারে কিংবদন্তি দোতারা বাদক তরবন সরকারের পরিবেশনা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন কানাই লাল শীল। এরপর কবিগান, যাত্রাপালা, গাজীর গান, কীর্তনসহ বিভিন্ন ধারার লোকসংগীতে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন।
জসীমউদ্দীন, নজরুল ও আব্বাসউদ্দীনের ঘনিষ্ঠ সহচর
পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের হাত ধরেই কলকাতায় লোকসংগীতের বড় পরিসরে প্রবেশ করেন কানাই লাল শীল। সেখানে আব্বাসউদ্দীন আহমদের সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি গান লেখা ও সুর করা শুরু করেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গানেও নিয়মিত দোতারা বাজিয়েছেন তিনি।
পরে অল ইন্ডিয়া রেডিও কলকাতা এবং দেশভাগের পর ঢাকা বেতারে দীর্ঘদিন নিয়মিত শিল্পী হিসেবে কাজ করেন।
কালজয়ী গানের স্রষ্টা
দোতারা বাদক হওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন দক্ষ গীতিকার ও সুরকার। তাঁর লেখা ও সুর করা গান পরিবেশন করেছেন শচীন দেব বর্মন, আব্বাসউদ্দীন আহমদ, আব্দুল আলীম, ফেরদৌসী রহমানসহ বাংলা সংগীতের বহু কিংবদন্তি শিল্পী।
একুশে পদকে সম্মানিত
১৯৭৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন কানাই লাল শীল। বাংলা লোকসংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৭ সালে (মরণোত্তর) তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
নাতির ঘরে টিকে আছে স্মৃতির শেষ আশ্রয়
বর্তমানে তাঁর বড় ছেলে কুমোত কান্ত শীলের ছেলে বাদল চন্দ্র শীল পৈতৃক বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।
তিনি বলেন, “বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস পেয়েছি। প্রশাসনের অনেকেই আসার কথা বলেছিলেন, কিন্তু কেউ আসেননি। এখানে একটি সংগীতচর্চা কেন্দ্র, লাইব্রেরি ও স্মৃতি সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হলে নতুন প্রজন্ম উপকৃত হবে।”
তিনি আরও জানান, আর্থিক সংকটের কারণে গত দুই বছর ধরে কানাই লাল শীলের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানও আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের আক্ষেপ
বাদল চন্দ্র শীলের স্ত্রী মাধুরী শীল বলেন, “কেউ কখনো আমাদের খোঁজ নেয়নি। সরকারি কোনো উদ্যোগও নেই। শুধু আশ্বাসই শুনে যাচ্ছি।”
১৯৯৪ সালে নিজ গ্রামে পুনঃসমাধি
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর পর ঢাকার পোস্তখোলায় দাফন করা হলেও ১৯৯৪ সালে তাঁর দেহাবশেষ নিজ গ্রাম লস্করপুরে এনে পুনঃসমাধিস্থ করা হয়। বর্তমানে সেখানে একটি স্মৃতিফলক থাকলেও সেটিরও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নেই।
গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের দাবি
গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী ও স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মতে, কানাই লাল শীল শুধু ফরিদপুরের নন, পুরো উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তাঁর জন্মভিটাকে সংরক্ষণ করে স্মৃতি জাদুঘর, সংগীতচর্চা কেন্দ্র ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বহু মূল্যবান স্মৃতি চিরতরে হারিয়ে যাবে।
প্রশাসনের আশ্বাস
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানিয়েছেন, কানাই লাল শীলের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি পরিদর্শন করে সংরক্ষণের সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “কানাই লাল শীল শুধু বাংলাদেশের নয়, উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান শিল্পী। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
লোকসংগীতের এই কিংবদন্তি শিল্পীর সৃষ্টি আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। তবে তাঁর জন্মভিটা যদি অবহেলায় হারিয়ে যায়, তাহলে হারিয়ে যাবে বাংলা লোকসংগীতের ইতিহাসেরও এক অমূল্য অধ্যায়। তাই সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রত্যাশা—সরকার, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে কানাই লাল শীলের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িকে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত করা হোক।
মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী পদের ২৯ ও ৩০ জুলাইয়ের ভাইভা স্থগিত, নতুন তারিখ ঘোষণা

কুমিল্লার মুরাদনগরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্য ভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহকারী পদে ২৯ ও ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষাটি আয়োজনের জন্য নতুন পরিবর্তিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (২৯ জুলাই) মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড অফিসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক জরুরী ঘোষণার মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ইস্যুকৃত স্মারক অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্য ভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে আবেদনকারীদের শিক্ষা সনদ ও অন্যান্য দলিলাদি যাচাই-বাছাই শেষে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী:
- ২ আগস্ট (রবিবার): মুরাদনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহকারীদের মৌখিক পরীক্ষা সকাল ১০:০০ টা হতে উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হবে।
- ৩ আগস্ট (সোমবার): বাংগরা উপজেলার মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ তথ্যসংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন কমিটির সদস্য-সচিব বরুণ চন্দ্র দে স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।























