শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

দুই যুগেও উচ্ছেদ নয়, গোমতী এখন দুর্গন্ধযুক্ত ‘মরা নদী’!

Mohammad Shariful Alam Chowdhury প্রকাশিত: শনিবার, ৫ জুলাই, ২০২৫, ১০:৩৬ পিএম
দুই যুগেও উচ্ছেদ নয়, গোমতী এখন দুর্গন্ধযুক্ত ‘মরা নদী’!

DCIM101MEDIADJI_0256.JPG

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • দুই যুগেও উচ্ছেদ নয়, গোমতী এখন দুর্গন্ধযুক্ত ‘মরা নদী’!
  • দখল-দূষণে মৃত্যুপ্রায় কুমিল্লার গর্বিত গোমতী, ৭৭২ দখলদার চিহ্নিত, নেই কার্যকর পদক্ষেপ দখল আর দূষণে মৃত্যুপ্রায় কুমিল্লার এক সময়ের গর্ব গোমতী নদী এখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে।
  • শহরের বুক চিরে প্রবাহিত এই নদী আজ ‘মরা নদী’ নামে পরিচিত।

দুই যুগেও উচ্ছেদ নয়, গোমতী এখন দুর্গন্ধযুক্ত ‘মরা নদী’! দখল-দূষণে মৃত্যুপ্রায় কুমিল্লার গর্বিত গোমতী, ৭৭২ দখলদার চিহ্নিত, নেই কার্যকর পদক্ষেপ

দখল আর দূষণে মৃত্যুপ্রায় কুমিল্লার এক সময়ের গর্ব গোমতী নদী এখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। শহরের বুক চিরে প্রবাহিত এই নদী আজ ‘মরা নদী’ নামে পরিচিত। দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ স্থাপনা। দুর্গন্ধ, পচা পানি, মরা প্রাণী আর আবর্জনায় পূর্ণ এই নদী এখন স্থানীয়দের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। অথচ ২০০৩ সালে শুরু হওয়া উচ্ছেদ পরিকল্পনা দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পানি পচে গিয়ে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। দুই পাড়ের বাসিন্দারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছে মরা গরু, ছাগল, প্লাস্টিক ও মাদকের বোতল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

দূষণে মৃত্যুপ্রায়
দূষণে মৃত্যুপ্রায় কুমিল্লার গর্বিত গোমতী, ৭৭২ দখলদার চিহ্নিত, নেই কার্যকর পদক্ষেপ। ছবি : সংগৃহিত।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ষাটের দশকে শহর রক্ষায় গোমতী নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অংশ বিচ্ছিন্ন করা হয়, যা বর্তমানে ‘পুরাতন গোমতী’ বা ‘মরা নদী’ নামে পরিচিত। এই নদীর দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে ঘনবসতি ও অবৈধ দোকানপাট। কচুরিপানা, আবর্জনা আর দখলের ফলে নদীটি খালে পরিণত হয়েছে।

থানা রোড, চাঁনপুর, গাংচরসহ বিভিন্ন এলাকায় কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনায় নদীর অস্তিত্বই বিলীন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও মাছ চাষের জন্য জোর করে কচুরিপানা পরিষ্কার করা হলেও তা সাময়িক।

নদীপাড়ের বাসিন্দা জালাল সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি নদীতে মরা গরু, কুকুর আর আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। গন্ধে টেকা যায় না। অথচ কেউ কিছু বলছে না।”

পাউবো কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান জানান, “৭৭২ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা করা হয়েছে। তবে লোকবল সংকটে অভিযান চালানো যাচ্ছে না। প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে শিগগিরই উচ্ছেদ শুরু হবে।”

আদর্শ সদর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সাল থেকে একাধিকবার উচ্ছেদ নোটিশ দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০১৬ সালে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটিও বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়। স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে দখলদারের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

চাঁনপুর এলাকার এক ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা বলেন, “সরকার যদি পুনর্বাসন করে উচ্ছেদ করে, তাহলে আমরা আপত্তি করবো না। কিন্তু হুট করে উচ্ছেদ করলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাবো?”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা শাখার সভাপতি ডা. মো. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “গোমতী নদীকে ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে গড়ে তুললে এটি কুমিল্লার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হতে পারে।”

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, “২০২১ সালে একনেক সভায় গোমতী উন্নয়ন প্রকল্পে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু দখলদার উচ্ছেদ না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। কাজ চলমান রয়েছে।”

দখল-দূষণে মৃত্যুপ্রায় কুমিল্লার গোমতী নদী আজ কাঁদছে। দুই যুগ ধরে চলা ‘উচ্ছেদ পরিকল্পনা’ যেন ক্ষমতার দড়ি টানাটানির খেলায় বন্দি। গোমতী বাঁচাতে হলে এখনই চাই সাহসী ও কঠোর পদক্ষেপ।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

“১০ বছরেও মিলেনি তনুর বিচার”

তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৯ পিএম
তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর

আদালতের নির্দেশ অমান্য, কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে আটক

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার (৮ আগস্ট) পিবিআইয়ের এক বার্তায় জানানো হয়, ঢাকার কেরানীগঞ্জে তাঁর নিজ বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকায় পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি। তাঁকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ হাফিজুর রহমানকে জামিন দেন। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের ওই জামিনাদেশে রাষ্ট্রপক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। বৃহস্পতিবার আপিল আদালত হাফিজুর রহমানের জামিন বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আদালতের নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হলেও হাফিজুর রহমান আত্মসমর্পণ করেননি। এর কয়েক ঘণ্টা পরই পিবিআই তাঁকে ফের গ্রেপ্তার করে।

সোহাগী জাহান তনু আমার উপজেলা মুরাদনগরের মেয়ে। বর্তমানে তাঁর গ্রামের বাড়ি বাঙ্গরা উপজেলার পশ্চিম বাঙ্গরা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে। তনুর মতো একটি সম্ভাবনাময় তরুণীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘ ১০ বছরেও সম্পন্ন না হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তনু হত্যা মামলায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আত্মসমর্পণ না করায় হাফিজুর রহমানকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এটি মামলার তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আমরা চাই, তদন্ত দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে তনুর পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। মুরাদনগরের সন্তান হিসেবে তনুর হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই বিচারপ্রত্যাশা থেকে সরে যাব না।
— এ কে এম সৈয়দ কায়েস মীর
সমাজসেবক ও বিখ্যাত শিক্ষানুরাগী মুরাদনগর, কুমিল্লা

এপ্রিলেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন হাফিজুর

তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে হাফিজুর রহমানের বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর মামলাটিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন তাঁকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই। শুনানি শেষে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারের পর হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে ডিএনএ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে তনু হত্যাকাণ্ড

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন ২১ মার্চ তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

স্মরণসভায় দলীয় ঐক্যের আহ্বান

‘বিএনপির পতাকা লাগিয়ে এনসিপির নির্বাচন করা ব্যক্তিদের দলে থাকার অধিকার নেই’— অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
‘বিএনপির পতাকা লাগিয়ে এনসিপির নির্বাচন করা ব্যক্তিদের দলে থাকার অধিকার নেই’— অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি

আমাদের দল কখনো এনসিপিকে সমর্থন করেনি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল নির্বাচনে তাদের সমর্থন দিয়েছে। যারা বিএনপির পতাকা লাগিয়ে এনসিপির নির্বাচন করেছে, তাদের বিএনপি করার কোনো অধিকার নেই।

এমন মন্তব্য করেছেন কুমিল্লার হোমনা-তিতাস আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি।

আব্দুল আউয়াল খান ছিলেন ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শিক রাজনীতিক। দলের জন্য তাঁর অবদান বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ ধারণ করে দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
— অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, এমপি
সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএনপি (কুমিল্লা বিভাগ) ও সংসদ সদস্য, কুমিল্লা-২৫০ (হোমনা-তিতাস)

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ হলরুমে আ. আউয়াল খান স্মৃতি সংসদ আয়োজিত ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় (কুমিল্লা বিভাগ) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল আউয়াল খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, প্রয়াত আব্দুল আউয়াল খান কখনো নিজের পরিবার নিয়ে ভাবেননি; রাজনীতিই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান কর্ম। করোনা মহামারির সময় যখন মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পেত, তখনও তিনি ঘরে বসে থাকেননি; দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি বিএনপির জন্য যা করেছেন, তার বিনিময়ে বিএনপি তাঁর জন্য তেমন কিছুই করতে পারেনি। এটি দলের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়।

দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য তিন মাস সময় নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এনসিপির কমিটি দিয়ে তো আর বিএনপি চলবে না। তাই দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করলে প্রতিপক্ষেরই লাভ হয়। তাই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে সবাইকে দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, “আপনারা যদি ব্যর্থ হন, তাহলে বিএনপির পতাকার আড়ালে যারা এনসিপির নির্বাচন করেছে, তারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। আর কেউ যদি টাকা দিয়ে নেতৃত্ব কিনতে চায়, সেই খবর পেলে তার পদ বাতিল করা হবে।”

দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং যুবদল নেতা আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন তিতুমীর কলেজের সাবেক ভিপি ও গুলশান থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম. এ. আউয়াল খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একরামুল হক বিপ্লব, অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, ওমর ফারুক সাফিন ও সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম, রেজভিউল আহসান মুন্সী, সুফিয়া বেগম এবং দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়া প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল খানের পুত্র, কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতা আসাদুজ্জামান খানসহ কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রয়াত নেতা আ. আউয়াল খানের রাজনৈতিক জীবন, দলীয় অবদান ও কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভার আগে প্রয়াত আব্দুল আউয়াল খানের নিজ গ্রামে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে স্বস্তি এলাকাবাসীর

জনদুর্ভোগ লাঘবে নিজ উদ্যোগে সড়ক সংস্কারে তরুণ ব্যবসায়ী সাকিব

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৭ পিএম
জনদুর্ভোগ লাঘবে নিজ উদ্যোগে সড়ক সংস্কারে তরুণ ব্যবসায়ী সাকিব

কুমিল্লার দেবীদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার বহুল আলোচিত জনদুর্ভোগের সড়ক মধুমুড়া-খুরুইল সংযোগ সড়ক নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. সাকিব হাসান। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা সড়কটি দুই উপজেলার সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সংস্কারবঞ্চিত থাকায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি।

মুরাদনগর উপজেলার খুরুইল নোয়াব মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. আল আমিন বলেন, এই সড়কটি দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দেবীদ্বার উপজেলার পদ্মকোট, বল্লভপুর, উজানীজোড়া, উজানীকান্দী, নোয়াখোলা, গাংচর ও বুটিয়াকান্দী এবং মুরাদনগর উপজেলার খুরুইল, কৃষ্ণপুর, সিদ্ধেশ্বরী, বাঁশকাইট, উড়িষ্যা, পাহাড়পুর ও পান্তিসহ অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন।

দেবীদ্বার-মুরাদনগর উপজেলার সংযোগস্থল মধুমুড়া-খুরুইল সড়ক নিজ উদ্যোগে সংস্কার করছেন তরুণ ব্যবসায়ী মো. সাকিব হাসান। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
দেবীদ্বার-মুরাদনগর উপজেলার সংযোগস্থল মধুমুড়া-খুরুইল সড়ক নিজ উদ্যোগে সংস্কার করছেন তরুণ ব্যবসায়ী মো. সাকিব হাসান। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কেউ এই রাস্তার দিকে নজর দেয়নি। এখন একজন তরুণ নিজের অর্থে ইট-বালু ফেলে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করেছেন। আমরা তাঁর জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করি। আমাদের বিশ্বাস, এ ধরনের মানুষ জনপ্রতিনিধি হলে সাধারণ মানুষ প্রকৃত সেবা পাবে।”

স্থানীয় সিএনজি চালক আব্দুর রশিদ বলেন, আগে যাত্রী পারাপারে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হতো। সাকিব ভাই ইট-বালু ফেলে রাস্তার বড় বড় খানাখন্দ ভরাট করায় এখন চলাচল অনেক সহজ হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারিভাবে দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সাকিব হাসান এর আগেও এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাঙাচোরা সড়ক নিজ উদ্যোগে সংস্কার করেছেন।

পিকআপ ভ্যানচালক আলী হোসেন বলেন, ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের কারণে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ হতো। মাটির রাস্তা হওয়ায় প্রায়ই ছোট যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটত। স্থানীয় মানুষের এই দুর্ভোগ দেখে সাকিব হাসান নিজ উদ্যোগে কংক্রিট, ইট ও বালু ব্যবহার করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তুলেছেন।

আমি কোনো জনপ্রতিনিধি নই, একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। মানুষের কষ্ট-দুর্ভোগ দেখে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দীর্ঘদিন ধরে মধুমুড়া-খুরুইল সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে হাজারো মানুষ ভোগান্তিতে ছিলেন। তাই নিজ অর্থায়নে ইট, বালু ও কংক্রিট দিয়ে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করেছি। আমার এই উদ্যোগে যদি মানুষের কিছুটা কষ্ট লাঘব হয়, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি স্থায়ীভাবে নির্মাণ করবে। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে জনহিতকর কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখব।
— মো. সাকিব হাসান
ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক, গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন, দেবীদ্বার, কুমিল্লা

তিনি আরও বলেন, “সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি আমি যৌতুক, বাল্যবিয়ে ও মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনেও কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের জনহিতকর কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।”

স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী সংস্কারে আপাতত দুর্ভোগ কমলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারিভাবে দ্রুত মধুমুড়া-খুরুইল সংযোগ সড়কটি পাকাকরণ করা প্রয়োজন।

×
CLOSE X
ENG