সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

“দেহ তল্লাশি থেকে চিঠি নিষিদ্ধ : নকল ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর”

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৬ পিএম
“দেহ তল্লাশি থেকে চিঠি নিষিদ্ধ : নকল ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর”

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • “এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম বন্ধে কঠোর বার্তা, কুমিল্লা থেকেই আবার অভিযান শুরুর ঘোষণা” নকল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক বলেছেন, “দেহ তল্লাশি থেকে শুরু করে সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
  • এবার কোনো পরীক্ষার্থী মায়ের লেখা চিঠিও সঙ্গে নিতে পারবে না—নকল বন্ধ করেই ছাড়ব।” শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
  • সভায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্র সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

“এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম বন্ধে কঠোর বার্তা, কুমিল্লা থেকেই আবার অভিযান শুরুর ঘোষণা”

নকল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক বলেছেন, “দেহ তল্লাশি থেকে শুরু করে সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবার কোনো পরীক্ষার্থী মায়ের লেখা চিঠিও সঙ্গে নিতে পারবে না—নকল বন্ধ করেই ছাড়ব।”

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। সভায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্র সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, “২০০১ সালে কুমিল্লা থেকেই নকলবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছিল। আবারও সেই কুমিল্লা থেকেই কঠোর বার্তা দিচ্ছি—নকলের কোনো সুযোগ থাকবে না।”

নকল প্রসঙ্গে তিনি অতীত তুলে ধরে বলেন, “১৯৭২ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নকলের পেছনে শিক্ষকদেরও ভূমিকা ছিল। কিন্তু পরে তারাই নকলবিরোধী আন্দোলনে সহায়তা করেছেন। সরকার যেভাবে চায়, আপনারাও সেভাবেই কাজ করবেন—এবার আমরা নকলমুক্ত শিক্ষা চাই।”

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে শিক্ষার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য একটি—আগামীর বাংলাদেশ গড়া। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয়ের মতো নয়, এটি একটি পবিত্র জায়গা—এখানে অসৎ কাজের সুযোগ নেই।”

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সত্যিকারের শিক্ষা দিলে এটি সদকায়ে জারিয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আমি ইবাদতখানা মনে করি—এখানে দায়িত্ব পালনে সততা অপরিহার্য।”

তিনি জানান, অতীতে শিক্ষকদের সুরক্ষায় নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, আহত শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, “২০২৬ সালের পরীক্ষায় কোনো প্রতিষ্ঠানে পাশের হার শূন্য হলেও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না”—যা উপস্থিতদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শামসুল ইসলাম, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মো. নূরুল হক, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

কুমিল্লায় ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

এবাদুল্লাহ ভূঁইয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম
কুমিল্লায় ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

সীমান্তের ১০০ গজ ভেতরে বিজিবির অভিযান, জব্দ শাড়ির মূল্য ৭৪ লাখ ২০ হাজার টাকা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর আমানগন্ডা বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব শাড়ি জব্দ করে। পরে দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানায় বিজিবি।

বিজিবি জানায়, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আমানগন্ডা বিওপির টহল দল সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১০০ গজ দূরে সোনাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়।

জব্দ করা শাড়িগুলোর আনুমানিক মূল্য ৭৪ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জব্দ করা মালামালের বিষয়ে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামায়াতের চিঠিতে গাজী নজরুলের এমপি পদ শূন্যের সুযোগ নেই: ইসি সচিব

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৭ পিএম
জামায়াতের চিঠিতে গাজী নজরুলের এমপি পদ শূন্যের সুযোগ নেই: ইসি সচিব

সংসদ সচিবালয় থেকে চিঠি পেলেই আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে দলটির পাঠানো চিঠি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে শুধু ওই চিঠির ভিত্তিতে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ শূন্য করার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে ইসি।

কমিশনের মতে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা। সংসদ সচিবালয় বা স্পিকারের কাছ থেকে এ-সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা রেফারেন্স পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, সম্মানিত সংসদ সদস্যের বিষয়ে স্পিকারের কাছ থেকে এখনো কোনো চিঠি নির্বাচন কমিশনে আসেনি।

জামায়াতের পাঠানো চিঠির বিষয়ে তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাদের প্যাডে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

ওই চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন নিজ উদ্যোগে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব স্পষ্টভাবে জানান, এর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সরাসরি কিছু করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে জানানোর বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব নির্বাচন ব্যবস্থাপনা করা। আর পরবর্তী আইনগত বিষয় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আওতাধীন।

ইসি সচিব আরও বলেন, স্পিকার বা সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া গেলে সেটির ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে আগামী নভেম্বর মাসে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব জানান, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কমিশন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

হত্যা মামলার আসামি ফাহাদ, দুই সপ্তাহ আগেও ছিল অপ্রতিমের বাবার কর্মচারী

ফাহিমা বেগম প্রিয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৪ পিএম
হত্যা মামলার আসামি ফাহাদ, দুই সপ্তাহ আগেও ছিল অপ্রতিমের বাবার কর্মচারী

“আইফোন ছিনতাইয়ের সময় হত্যার অভিযোগ, আদালতে তিন আসামির স্বীকারোক্তি”

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও অপ্রতিমের বাবার মোবাইল সরঞ্জামাদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করতেন। চলতি মাসের ২ সেপ্টেম্বর মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতনে তাকে ওই কাজে নেওয়া হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের আগে তার সঙ্গে কোনো লিখিত চুক্তি হয়নি।

অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট মার্কেটে তার মোবাইল সরঞ্জামাদির শোরুম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ইয়েসটেক’। ফাহাদ অপ্রতিমদের কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা অটোচালক।

ফাহাদের বাবা-মায়ের অনুরোধেই তাকে ডেলিভারিম্যানের চাকরি দেওয়া হয়েছিল বলে জানান কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার। মাস শেষে তার সঙ্গে চুক্তিপত্র করার পরিকল্পনাও ছিল। অপ্রতিমের সঙ্গে ফাহাদের তেমন কোনো ঘনিষ্ঠতা বা বিরোধ ছিল না বলেও জানান তিনি।

অপ্রতিমের বাবা বলেন, অপ্রতিমও ফাহাদকে খারাপ মনে করত না। কয়েক দিনের কর্মজীবনে তাদের মধ্যে কোনো খারাপ সম্পর্কের তথ্যও তিনি পাননি।

তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)। পুলিশের দাবি, সেখানে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় অপ্রতিম বাধা দিলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

দৈনিক আজকের কথা
আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে বাধা দিলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
— মো. আনিসুজ্জামান
পুলিশ সুপার, কুমিল্লা।

এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়।

তবে তদন্তে আইফোনের পাশাপাশি আরও একটি বিরোধের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ফাহাদ অপ্রতিমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি অপ্রতিম ওই টাকা ফেরত চাইছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফাহাদ অপ্রতিমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারে, এমন তথ্যও তদন্তকারীরা পেয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের দিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে অপ্রতিম আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয়। এর আগে জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরে বাবার সঙ্গে খাবার খায়। পরে তুহিন মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে নেয় বলে জানান তার বাবা।

সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও অপ্রতিম বাসায় না ফেরায় তার বাবা ফাহাদকে ফোন করে ডেকে আনেন। অপ্রতিম কোথায় গেছে, তা খুঁজে বের করার জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল। ফাহাদ তখন তাদের ইন্টারনেট গ্রুপে অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানায়।

এর মধ্যে পরিবারের হাতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ আসে। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে দেখিয়ে দেওয়া হলে ফাহাদ তাকে চিনতে পারেন। পরে ফাহাদকে তুহিনকে ফোন করে অপ্রতিমকে দেখেছে কি না জানতে বলা হয়। রাত ১০টার দিকে ফোনে তুহিন অপ্রতিম তার কাছে আসেনি বলে জানায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যেই অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

পরদিন শনিবার সকালে তুহিন ও সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সিয়াম মোটরসাইকেলে করে অপ্রতিমদের বাসায় আসে। তারা অপ্রতিমের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে এবং সান্ত্বনাও দেয়। পুলিশের ধারণা, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়।

অপ্রতিমের বাবা জানান, শনিবার সকালে তুহিন স্বাভাবিক আচরণ করলেও বিভিন্ন প্রশ্নের সময় তার সঙ্গে থাকা সিয়াম কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছিল।

শনিবার দুপুরে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর ফাহাদকে পরিবারের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়। তখন সে শরীর খারাপ লাগছে জানিয়ে চলে যায়।

অপ্রতিমের বাবা আরও জানান, কামরুলকে তিনি আগে চিনতেন না এবং হত্যাকাণ্ডের আগে কখনো দেখেননি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কামরুল তুহিনের বন্ধু এবং হত্যাকাণ্ডের আগে তুহিন তাকে ফাহাদের মতোই সঙ্গে নিয়েছিল।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন, সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ, মো. কামরুল হাসান এবং সিয়াম (১৯)। সিয়ামকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বয়স কম হওয়ায় ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও ২০২৫ সালে অকৃতকার্য হওয়ার পর পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। কামরুল কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া-কালিবাজার এলাকার বাসিন্দা। আর সিয়াম সদর দক্ষিণ উপজেলার এলাহীপুর এলাকার বাসিন্দা এবং কুমিল্লার দৌলতপুর এলাকার আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়।

মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যাওয়ায় তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে আটক করা হয়। পরে তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপর তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার আইফোন নিয়ে তিনজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

×
ENG