অনুমোদন ছাড়াই ল্যাব পরিচালনা, লাইসেন্স নবায়ন না করাসহ নানা অনিয়ম; অভিযানে বাধার অভিযোগও উঠেছে
লাইসেন্স নবায়ন না করা, অনুমোদনের বাইরে ল্যাব পরীক্ষা পরিচালনা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে কুমিল্লার পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানের সময় একাধিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ধরা পড়ে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে কিছু চিকিৎসকের বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
জানা গেছে, কুমিল্লা নগরীতে বর্তমানে নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৩২টি। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের হাসপাতালের নিবন্ধন থাকলেও প্যাথলজি বিভাগের অনুমোদন নেই। দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা, অনুমোদনের বাইরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভুল চিকিৎসা এবং অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিচালিত অভিযানে পাঁচটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অভিযানের সময় রেসকোর্স এলাকার মিশন হাসপাতালের লাইসেন্স দীর্ঘদিন নবায়ন না করা এবং সি-ক্যাটাগরির লাইসেন্সে বি-ক্যাটাগরির পরীক্ষা পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সময় এক চিকিৎসক সাংবাদিকদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে গণমাধ্যমকর্মীদের বেরিয়ে যেতে বলেন এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়মিত অভিযান নিয়েও মন্তব্য করেন।
মিশন হাসপাতালের প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. কামাল হোসেন বলেন, রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই করা উচিত। সি-ক্যাটাগরির অনুমোদন নিয়ে বি-ক্যাটাগরির পরীক্ষা পরিচালনা করা হলে তার জন্য শাস্তি হওয়া উচিত।
একই হাসপাতালের ডায়াবেটিক ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লুবনা ইয়াসমিন বলেন, অনিয়মের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক। তবে জরুরি সেবা চালিয়ে যেতে সি-ক্যাটাগরির আওতাভুক্ত পরীক্ষাগুলোর অনুমোদন নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতাল ও বাসস্টেশন এলাকায় সক্রিয় দালালচক্র বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীদের বিভ্রান্ত করে কম খরচে চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল অফিসারদের সঙ্গে লিখিত চুক্তিপত্রও থাকে না।
ডেল্টা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল করিম বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিক নিয়োগের পরিবর্তে পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করা হয়।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ওসমান হোসাইন জাবির বলেন, অভিযানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো হালনাগাদ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অনলাইনেও প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযানের সময় কোনো চিকিৎসক বা চিকিৎসক নেতা পরিচয়ে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপদ, মানসম্মত ও নিয়মতান্ত্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রোগীদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদকীয় নোট: এই প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রকাশ্য বক্তব্য ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য, ব্যাখ্যা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
— মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
সম্পাদক