

ফাতেমা বেগম সাংবাদিক, বয়স ৬৮ বছর। পেশায় তিনি ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যাংকার, আর বর্তমানে নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সক্রিয় সদস্য। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ফেসবুকে। আর সেই পরিচয়টাই যেন আমাকে এক অমূল্য আবেগের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল।
তিনি আমার চেয়ে অন্তত ২৪ থেকে ২৫ বছরের বড়। কিন্তু কথা বলার সময় একবারের জন্যও মনে হয়নি তিনি প্রজন্মের ব্যবধানে দূরে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর আচরণে ছিল একরাশ উষ্ণতা, বিনয় আর পরিপক্বতা—যা আজকের দিনে খুবই বিরল।
আমি পেশাগতভাবে ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা করছি। অনেক নারীর সঙ্গেই কথা হয়েছে, কাজ করেছি। কিন্তু কোনো কথোপকথন আমাকে এতটা ছুঁয়ে যায়নি, যতটা ফাতেমা আপুর সঙ্গে কথা বলে অনুভব করেছি। তাঁর কথা বলার ভঙ্গি, শব্দচয়ন, চিন্তার গভীরতা—সব মিলিয়ে মনে হলো, বহুদিন পর জীবনে কারও সঙ্গে সত্যিকারের এক হৃদ্যতা গড়ে উঠল।
আমার কোনো বড় বোন নেই। ছোটবেলায় যে শূন্যতা ছিল, ফাতেমা আপুর সঙ্গে কথা বলার পর মনে হলো সেই শূন্যতাটুকু আজ কিছুটা পূরণ হলো।
ফাতেমা বেগম সাংবাদিক শুধু একটি পরিচয় নয়—এটা তাঁর আত্মার পরিচয়। একজন নারী হিসেবে তিনি দায়িত্বশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ। তিনি শুধু পেশাজীবী নন, তিনি একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব, যিনি অন্যদের জীবনে আলো ছড়িয়ে দিতে জানেন।
এই দ্রুতগামী, যান্ত্রিক জীবনে, যেখানে সম্পর্কগুলোও হয়ে পড়ছে যান্ত্রিক—সেখানে ফাতেমা আপু যেন এক আশ্রয়, এক নরম ছায়া। তাঁর সঙ্গে কথোপকথন ছিল আত্মার খোরাক।
আমি আন্তরিকভাবে চাই, ফাতেমা বেগম সাংবাদিক দীর্ঘজীবী হোন। সুস্থ থাকুন। আরও বহু মানুষের জীবনে তিনি এমন আলোকবর্তিকা হয়ে থাকুন, যেমনটি তিনি আমার জীবনে হয়ে উঠেছেন।