রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

গ্রামের আড্ডা-সালিশ থেকে মুছে যাচ্ছে হুক্কা, হারিয়ে যাচ্ছে ধোঁয়ার এক ঐতিহ্য

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫, ২:৪১ পিএম
গ্রামের আড্ডা-সালিশ থেকে মুছে যাচ্ছে হুক্কা, হারিয়ে যাচ্ছে ধোঁয়ার এক ঐতিহ্য

হুক্কা বা ডাবা আবহমান বাংলার গ্রামীণ জীবনে শুধু একটি ধূমপানের যন্ত্র ছিল না, ছিল একধরনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম—একত্রিত হওয়ার উপলক্ষ। ছবি : কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে তোলা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • হুক্কা বা ডাবা আবহমান বাংলার গ্রামীণ জীবনে শুধু একটি ধূমপানের যন্ত্র ছিল না, ছিল একধরনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম—একত্রিত হওয়ার উপলক্ষ।
  • গ্রামের চৌধুরী বাড়ির উঠোনে কিংবা সাধারণ কৃষকের বারান্দায়—প্রায় সর্বত্রই দেখা যেত একখানি হুক্কা।
  • যার ধোঁয়ার কুন্ডলির সঙ্গে মিশে থাকত দিনের গল্প, সুখ-দুঃখ, বিচার-আচার আর আড্ডার সুর।

হুক্কা বা ডাবা আবহমান বাংলার গ্রামীণ জীবনে শুধু একটি ধূমপানের যন্ত্র ছিল না, ছিল একধরনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম—একত্রিত হওয়ার উপলক্ষ। গ্রামের চৌধুরী বাড়ির উঠোনে কিংবা সাধারণ কৃষকের বারান্দায়—প্রায় সর্বত্রই দেখা যেত একখানি হুক্কা। যার ধোঁয়ার কুন্ডলির সঙ্গে মিশে থাকত দিনের গল্প, সুখ-দুঃখ, বিচার-আচার আর আড্ডার সুর। হুক্কার ধোঁয়া যেন তখনকার সমাজের নিঃশব্দ ইতিহাস বহন করত।

কিন্তু সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে এই প্রাচীন অনুষঙ্গ।
এক সময় যেসব বাড়িতে হুক্কা ছাড়া আড্ডা শুরুই হতো না, আজ সেসব বাড়িতে হুক্কার অস্তিত্বই নেই। তামাকপানের এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি জায়গা ছেড়ে দিয়েছে আধুনিক সিগারেট, বিড়ি, এমনকি ভয়াবহ নেশাদ্রব্যের কাছে।

হুক্কা বা ডাবা
হুক্কা বা ডাবা আবহমান বাংলার গ্রামীণ জীবনে শুধু একটি ধূমপানের যন্ত্র ছিল না, ছিল একধরনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম—একত্রিত হওয়ার উপলক্ষ। ছবি : কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে তোলা

হুক্কা বা হুঁকা একধরনের ধূমপান যন্ত্র, যার নিচে পানিভর্তি অংশ থাকে। জ্বলন্ত তামাকের ধোঁয়া সেই পানি দিয়ে পরিশ্রুত হয়ে দীর্ঘ নলের মাধ্যমে মুখে প্রবেশ করে। একে বাংলায় বলা হয় ‘ডাবা’, ‘আলবোলা’, বা ‘ফরসি’। সাধারণত নারকেলের খোল বা পিতলের পাত্র দিয়ে তৈরি হতো এই যন্ত্রটি।

তিন-চার দশক আগেও বাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরেই ছিল হুক্কার প্রচলন।
সালিশি বৈঠক, বিয়ে-পার্বণ বা জমিদার বাড়ির বৈঠকখানায় অতিথি আপ্যায়নের কেন্দ্র ছিল একটি লম্বা পাইপযুক্ত হুক্কা। এটি শুধুমাত্র ধূমপানের মাধ্যম নয়, বরং একধরনের সামাজিক মর্যাদার প্রতীকও ছিল।

বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা এখনো স্মরণ করেন সে সময়ের কথা।
তাদের ভাষায়, “আমাদের বাবা-দাদারা একদিন হুক্কা না টানলে খাবারও মুখে তুলতেন না। হুক্কার তামুক ঘরে না থাকলে যেন সংসার অচল হয়ে যেত।”

তখন ব্যবহার করা হতো কম নিকোটিনযুক্ত তামাক, যার সঙ্গে চিটাগুড় মিশিয়ে তৈরি করা হতো বিশেষ মিশ্রণ। পানি দিয়ে শোধিত হবার কারণে নিকোটিনের মাত্রাও তুলনামূলকভাবে কম থাকত।

বর্তমানে হুক্কার জায়গা দখল করেছে সিগারেট ও বিড়ি। আরও দুঃখজনক হলো, প্রজন্মের একটা বড় অংশ আজ ভয়ংকর মাদকে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হুক্কার মতো ঐতিহ্যবাহী ও তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর ধূমপান পদ্ধতির প্রচলন টিকে থাকলে, যুবসমাজের কিছু অংশ হয়তো মাদকের দিকে ঝুঁকত না।

আজকের দিনে গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেও হুক্কার দেখা মেলে না। শহরে তো এটি প্রায় বিলুপ্তই। বর্তমান প্রজন্মের কাছে হুক্কা যেন গল্পের চরিত্র – অনেকে হয়তো নামও শোনেনি।
যার ফলে আমাদের একটি সাংস্কৃতিক উপাদান কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে, নিঃশব্দে।

হুক্কা বা ডাবা ছিল সমাজের আড্ডা, আলোচনার মাধ্যম, আর সামাজিক সম্পর্কের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আজ সে হুক্কা পরিণত হয়েছে নস্টালজিয়ার ধোঁয়া হয়ে হারিয়ে যাওয়া এক অতীত ঐতিহ্যে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

সাংবাদিককে হুমকি ও জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগ: পরীমনিকে ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
সাংবাদিককে হুমকি ও জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগ: পরীমনিকে ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের হয়রানি, মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি; চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে

সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ, হয়রানি এবং জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগে চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনিকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসান শাহরিয়ার এ নোটিশ পাঠান। এতে পরীমনি ছাড়াও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য পরীমনিকে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অশ্লীল বক্তব্য, সংলাপ, হুমকি, অশ্লীল অভিনয় ও অঙ্গভঙ্গি এবং নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্পমূল্য বা শিক্ষাগত গুরুত্ব নেই—এমন কর্মকাণ্ড চলচ্চিত্র, ভিডিও, অডিও-ভিজ্যুয়াল, স্থিরচিত্র কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে ধারণ ও প্রচার না করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাত দিনের মধ্যে পরীমনিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমনি। ওই দিন সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা তাঁর ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

নোটিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মুঠোফোন কেড়ে নেন পরীমনি। পাশাপাশি তাঁর ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত ট্রাইপডটি পরীমনির সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা ভেঙে ফেলেন।

এ ঘটনায় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন এবং টাইমস টুডের শাহ রিয়াজ আহত হন বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া সুজন চন্দ্র মণি দাস নামে এক বিচারপ্রার্থীও আহত হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তাঁর মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়েছিল।

নোটিশে বলা হয়েছে, আদালত প্রাঙ্গণে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। সেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে আদালতের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ কিংবা পেশিশক্তি প্রদর্শনের সুযোগ নেই।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়, আদালত থেকে বের হওয়ার পর পরীমনি সমকালের সাংবাদিক রবিউল হোসাইনের দিকে তেড়ে যান। রবিউলের ডান হাত জন্মগতভাবে ছোট এবং ওই হাতে তিনটি আঙুল না থাকায় তিনি স্বাভাবিকভাবে হাতটি ব্যবহার করতে পারেন না। এ সময় তাঁকে উদ্দেশ করে পরীমনি অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও হত্যার হুমকি দেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে বলেও এতে বলা হয়।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, একজন পেশাদার সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ তাঁর পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত। একই সঙ্গে এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

অন্যদিকে, গত ৬ নভেম্বর পরীমনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতকে মিউজিক হিসেবে ব্যবহার করে একটি অশ্লীল পোস্ট দিয়েছেন বলেও নোটিশে অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

সৌদির জেদ্দায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ৬—সবাই কক্সবাজারের তিন পরিবারের সদস্য

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪৩ এএম
সৌদির জেদ্দায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত ৬—সবাই কক্সবাজারের তিন পরিবারের সদস্য

মদিনা থেকে জেদ্দা ফেরার পথে আল-হিমনা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় গাড়ি; নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন, অতিরিক্ত গতিকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করছে ট্রাফিক বিভাগ

সৌদি আরবের জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ১৩ বাংলাদেশির সবাই কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা। শনিবার মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে আল-হিমনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সাতজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। হতাহত ব্যক্তিরা তিনটি পরিবারের সদস্য।

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে ঢাকায় পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জিয়াউর রহমান, তাঁর দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান এবং মেয়ে বুশরা। দুর্ঘটনায় জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরা ও আরেক মেয়ে ইউসরা আহত হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

একই গাড়িতে থাকা আলম শাহ হারিয়েছেন স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়াকে। দুর্ঘটনায় আলম শাহ ও তাঁর ছেলে ফয়সাল আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, আহত ইলিয়াসের স্ত্রী আফসানা বিবি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অপর ব্যক্তি গফুর আলম।

কনস্যুলেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন পরিবারের প্রধানসহ চারজন সৌদি আরবের আল-আবির কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির মক্কা শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালমান কনস্যুলেট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িতে কোম্পানির চার বাংলাদেশি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় আনুমানিক ১৬০ কিলোমিটার ছিল বলে জানা গেছে। ট্রাফিক বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি উল্টে যায়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

‘আমার নিরাপত্তা কোথায়?’ ফেসবুকে খন্দকার মোশাররফের পুত্রবধূর আকুতি, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
‘আমার নিরাপত্তা কোথায়?’ ফেসবুকে খন্দকার মোশাররফের পুত্রবধূর আকুতি, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

প্রাণনাশের আশঙ্কা জানিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেন নাইমা খন্দকার; ২০ দিন ধরে থানায় জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি, লিখিত অভিযোগ চেয়েছে পুলিশ

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্রবধূ সমাজকর্মী নাইমা খন্দকার। শুক্রবার রাতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি, মানহানিকর অপপ্রচার ও নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমার নিরাপত্তা কোথায়? একজন নারী হিসেবে আজ আমি কার কাছে বিচার চাইব?’

নাইমা খন্দকার জে. হুদা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও সচিব। পাশাপাশি তিনি জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, কুমিল্লা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফেসবুক পোস্টে নাইমা লেখেন, দাউদকান্দির সর্বস্তরের মানুষ, দেশের সচেতন নাগরিক, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। যেকোনো সময় তাঁর প্রাণনাশসহ বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নাইমার দাবি, তাঁর শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের চিকিৎসার জন্য স্বামী খন্দকার মাহবুব হোসেন তুষার তাঁকে নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে তিনি নিজ বাসায় একা থাকায় বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, এসব বিষয়ে গত ২০ দিন ধরে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি।

নাইমা লেখেন, চলমান মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই তাঁকে আইনের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। চরম মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষার হলে তাঁর প্রায় জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়েছিল।

শনিবার সন্ধ্যায় নাইমা খন্দকার বলেন, ‘আমি একটি রাজনৈতিক পরিবারের পুত্রবধূ হয়েও যদি নিজের এলাকায় এমন হেনস্তা ও অপপ্রচারের শিকার হই, তবে সাধারণ পরিবারের মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? আমার শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ এবং স্বামী মাহবুব হোসেন তুষার বলে আমি কোনো বাড়তি সুবিধা চাই না। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে শুধু সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই। কার ইন্ধনে ফেসবুক আইডি থেকে এমন অপপ্রচার ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা পুলিশকে খুঁজে বের করার অনুরোধ জানিয়েছি।’

এদিকে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাইমা খন্দকার মৌখিকভাবে ফেসবুকে তাঁকে নিয়ে লেখালেখির অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো শনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

×
ENG