শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সুদখোর ইউনূসের চুক্তি ঘিরে বিতর্ক

নিষিদ্ধ শূকরের মাংসও আমদানির চুক্তি করে গেছেন বিশ্ববাটপার ড. ইউনূস

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৩:২৯ পিএম
নিষিদ্ধ শূকরের মাংসও আমদানির চুক্তি করে গেছেন বিশ্ববাটপার ড. ইউনূস

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে বিতর্ক: শূকরের মাংস আমদানির আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড.
  • ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তিকে ঘিরে দেশে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
  • অভিযোগ উঠেছে, ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ নামে ওই চুক্তির আওতায় কিছু খাদ্যপণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে শূকরের মাংস ও শূকরজাত পণ্যও থাকতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে বিতর্ক: শূকরের মাংস আমদানির আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তিকে ঘিরে দেশে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ নামে ওই চুক্তির আওতায় কিছু খাদ্যপণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে শূকরের মাংস ও শূকরজাত পণ্যও থাকতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।

দেশের বিদ্যমান আমদানিনীতি আদেশ ২০২১–২০২৪ অনুযায়ী ২৬ ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ, যার মধ্যে শূকর ও শূকরজাত সব পণ্য অন্তর্ভুক্ত। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শূকরের মাংস থেকে উৎপন্ন উপজাত ব্যবহার করে তৈরি পণ্যও দেশে আমদানি করা নিষিদ্ধ। ফলে এসব পণ্যের বাণিজ্যিক চাহিদা বা উৎপাদন দেশে নেই। ব্যক্তি পর্যায়ে সীমিত উৎপাদন থাকলেও সরকারি কোনো তথ্যভিত্তিক চাহিদা নেই।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে দ্রুততার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআরটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয় বলে আলোচনায় এসেছে।

সমালোচকরা বলছেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হলে তা উদ্বেগজনক হতে পারে। বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আপত্তিও তোলা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী শুধু শূকরের মাংস নয়, দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও গরু, মুরগি ও ডেইরি পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের মাংস আমদানির ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া বৈজ্ঞানিক বা স্বাস্থ্যঝুঁকির সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ‘স্যানিটারি পরিদর্শনে’ আটকে না দেওয়ার শর্তও আলোচনায় এসেছে।

বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের শর্ত কার্যকর হলে দেশে উৎপাদিত পণ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে এবং নিষিদ্ধ পণ্য নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে অন্য একটি মত হলো, যুক্তরাষ্ট্রে পাল্টা শুল্ক সংক্রান্ত আদালতের রায়ের পর এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চুক্তি অনুযায়ী ৬০ দিনের নোটিশে এটি বাতিলের সুযোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

আমদানিনীতি ২০২১–২০২৪-এর পরিশিষ্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে জীবিত শূকর ও শূকরজাত সব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ। অতীতের নীতিমালাতেও একই বিধান ছিল। তবে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত চুক্তির একটি পরিশিষ্টে কিছু প্রক্রিয়াজাত মাংসপণ্য—যেমন ব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম, ব্রাটভুর্স্ট, ক্যাপোকোলা, চোরিজো, কিলবাসা, মরটাডেলা, প্যানসেটা, প্রসিউটো ও সালামি—বাজারে প্রবেশযোগ্য পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত উল্লেখ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যেগুলোর অনেকই শূকর থেকে প্রস্তুত।

বাংলাদেশে শূকরের মাংস উৎপাদন কার্যত নেই। হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও এর ব্যবহার সীমিত। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কিছু সীমান্ত এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সীমিত পরিসরে শূকর পালন দেখা যায়, যা মূলত নিজস্ব ভোগের জন্য।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির এক কর্মকর্তা জানান, দেশে শূকরের মাংসের বাণিজ্যিক চাহিদা নেই। ঢাকার কিছু নির্দিষ্ট স্থানে সীমিত পরিসরে এ ধরনের মাংস ব্যবহৃত হয়, যা মূলত নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে আমদানির প্রয়োজনীয়তা খুবই সীমিত।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে শূকরের মাংস রপ্তানি হয় না এবং এ খাতে কোনো বৈধ রপ্তানি ব্যবস্থা নেই। অতীতে অবৈধভাবে শূকরজাত উপাদান আমদানির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নজিরও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র শূকরের মাংস রপ্তানিতে শীর্ষ দেশগুলোর একটি। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশটি প্রায় ৪ লাখ ৯৩ হাজার টন শূকরের মাংস রপ্তানি করেছে, যার মূল্য প্রায় ১.৩৭ বিলিয়ন ডলার।

চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের এক নেতা বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো নীতি গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় সংগঠনের এক নেতাও চুক্তির বিষয়টি স্বচ্ছভাবে প্রকাশ না করায় সমালোচনা করেন এবং পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশে শূকরের মাংস নিষিদ্ধ ছিল এবং তা বহাল থাকবে। নতুন আমদানিনীতি প্রণয়নেও এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া দেশে পর্যাপ্ত গরু ও মুরগির মাংস উৎপাদন হওয়ায় সাধারণভাবে মাংস আমদানির অনুমোদন নেই। অতীতে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে মাংস রপ্তানির চেষ্টা করলেও তা অনুমোদন পায়নি। তবুও চুক্তির নির্দিষ্ট কিছু ধারায় এসব পণ্য আমদানির বিষয়ে শর্ত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

চুক্তির একটি ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিদর্শন ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মাংস, পোলট্রি ও ডিমজাত পণ্য আমদানির পথ সুগম হতে পারে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বারবার বলা হয়েছিল যে বিদেশ থেকে শূকুরের মাংস আমদানির কোনো পরিকল্পনা নেই। এ বিষয়ে পূর্বে সরকারি বিবৃতিতেও এমন অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল।


‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পর চাঁদাবাজি ও দখল অনেকাংশে কমেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

তদন্তে মিলছে নতুন সূত্র

ডিএনএ বিশ্লেষণে মিলেছে পাঁচজনের শুক্রাণু, কুমিল্লার তনু হত্যা মামলায় তদন্তে নতুন গতি

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:০২ পিএম
ডিএনএ বিশ্লেষণে মিলেছে পাঁচজনের শুক্রাণু, কুমিল্লার তনু হত্যা মামলায় তদন্তে নতুন গতি

ডিএনএ পরীক্ষায় নতুনভাবে মোড় ঘুরতে শুরু করেছে তনু হত্যা মামলা, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রায় এক দশক পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত ডিএনএ বিশ্লেষণে পাঁচজনের শুক্রাণু এবং একজনের রক্তের অস্তিত্ব শনাক্ত হওয়ায় তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে মোট ছয়জনের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে। আদালতের নির্দেশে ইতোমধ্যে চার সাবেক সেনাসদস্য ও এক বেসামরিক ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরে গত ১৭ জুলাই আরও দুই ব্যক্তির ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ দেন আদালত। তারা হলেন কুমিল্লার রাজাপাড়ার বাসিন্দা ও তনুর বন্ধু ফয়সাল আহমেদ রাব্বি এবং সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের বাসিন্দা সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম। তবে তদন্তের স্বার্থে ষষ্ঠ সন্দেহভাজনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ডিএনএ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে চলতি বছরের এপ্রিলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মামলার দুই সন্দেহভাজন সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ ও সাবেক সেনাসদস্য শাহীন আলম দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দুই সন্দেহভাজন বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আদালতের নির্দেশে নতুন করে আরও দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
— মো. তরিকুল ইসলাম
পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) ও তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এর মধ্যে জাহিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, তদন্তকারীদের দাবি, শাহীন আলম গত এপ্রিলে গোপনে কুয়েতে চলে যান। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নম্বর বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং সর্বশেষ অবস্থান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় শনাক্ত হয়েছে।

নিহত তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তার প্রশ্ন, ভুয়া ফরেনসিক প্রতিবেদন দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এখনো কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া চিকিৎসক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া, সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য, ঘটনার দিন তনু সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় টিউশনি করতে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফেরার পথেই হত্যার শিকার হন।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি জিন্দা লাশ হয়ে বেঁচে আছি। প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি, কয়েকবার হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে মনে হয় এই বুঝি মারা গেলাম। মৃত্যুর আগে শুধু আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার এবং তাদের ফাঁসি দেখে যেতে চাই।”

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম, যিনি এ মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দুই সন্দেহভাজন বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আদালতের নির্দেশে নতুন করে আরও দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডির পরীক্ষায় তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শ্রমিকদের ওপর বাস

বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ১৫

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১০ পিএম
বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ১৫

বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—গাইবান্ধার আমিরুল, নূর আলম ও বেলাল এবং জয়পুরহাটের তাজমুল। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

রাতে ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস ভোরে এরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় বাসটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়। আহত অন্তত ১৫ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।
— শফিকুল ইসলাম শফিক
সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই), বগুড়া সদর থানা

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ

কিশোরগঞ্জে মৎস্য খামার থেকে সাবেক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৪ এএম
কিশোরগঞ্জে মৎস্য খামার থেকে সাবেক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বেরুয়াইল গ্রামে একটি মৎস্য খামার থেকে অনিক মিয়া (৩৫) নামে পুলিশের সাবেক এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত অনিক মিয়া ওই গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
— মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা
(ওসি), কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে পুলিশ বাহিনীর চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামে ফিরে মাছ চাষ শুরু করেন অনিক মিয়া। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজের মৎস্য খামারের পাশে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খামারে গিয়ে গরুর জন্য কাটা ঘাস এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খামারের পানিতে অনুসন্ধান চালানো হয়। একপর্যায়ে পানির নিচে ডুবে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

×
CLOSE X