সুদখোর ইউনূসের চুক্তি ঘিরে বিতর্ক
নিষিদ্ধ শূকরের মাংসও আমদানির চুক্তি করে গেছেন বিশ্ববাটপার ড. ইউনূস


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে বিতর্ক: শূকরের মাংস আমদানির আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তিকে ঘিরে দেশে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ নামে ওই চুক্তির আওতায় কিছু খাদ্যপণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে শূকরের মাংস ও শূকরজাত পণ্যও থাকতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
দেশের বিদ্যমান আমদানিনীতি আদেশ ২০২১–২০২৪ অনুযায়ী ২৬ ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ, যার মধ্যে শূকর ও শূকরজাত সব পণ্য অন্তর্ভুক্ত। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শূকরের মাংস থেকে উৎপন্ন উপজাত ব্যবহার করে তৈরি পণ্যও দেশে আমদানি করা নিষিদ্ধ। ফলে এসব পণ্যের বাণিজ্যিক চাহিদা বা উৎপাদন দেশে নেই। ব্যক্তি পর্যায়ে সীমিত উৎপাদন থাকলেও সরকারি কোনো তথ্যভিত্তিক চাহিদা নেই।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে দ্রুততার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআরটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয় বলে আলোচনায় এসেছে।
সমালোচকরা বলছেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হলে তা উদ্বেগজনক হতে পারে। বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আপত্তিও তোলা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী শুধু শূকরের মাংস নয়, দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও গরু, মুরগি ও ডেইরি পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের মাংস আমদানির ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া বৈজ্ঞানিক বা স্বাস্থ্যঝুঁকির সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ‘স্যানিটারি পরিদর্শনে’ আটকে না দেওয়ার শর্তও আলোচনায় এসেছে।
বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের শর্ত কার্যকর হলে দেশে উৎপাদিত পণ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে এবং নিষিদ্ধ পণ্য নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে অন্য একটি মত হলো, যুক্তরাষ্ট্রে পাল্টা শুল্ক সংক্রান্ত আদালতের রায়ের পর এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চুক্তি অনুযায়ী ৬০ দিনের নোটিশে এটি বাতিলের সুযোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে।
আমদানিনীতি ২০২১–২০২৪-এর পরিশিষ্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে জীবিত শূকর ও শূকরজাত সব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ। অতীতের নীতিমালাতেও একই বিধান ছিল। তবে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত চুক্তির একটি পরিশিষ্টে কিছু প্রক্রিয়াজাত মাংসপণ্য—যেমন ব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম, ব্রাটভুর্স্ট, ক্যাপোকোলা, চোরিজো, কিলবাসা, মরটাডেলা, প্যানসেটা, প্রসিউটো ও সালামি—বাজারে প্রবেশযোগ্য পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত উল্লেখ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যেগুলোর অনেকই শূকর থেকে প্রস্তুত।
বাংলাদেশে শূকরের মাংস উৎপাদন কার্যত নেই। হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও এর ব্যবহার সীমিত। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কিছু সীমান্ত এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সীমিত পরিসরে শূকর পালন দেখা যায়, যা মূলত নিজস্ব ভোগের জন্য।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির এক কর্মকর্তা জানান, দেশে শূকরের মাংসের বাণিজ্যিক চাহিদা নেই। ঢাকার কিছু নির্দিষ্ট স্থানে সীমিত পরিসরে এ ধরনের মাংস ব্যবহৃত হয়, যা মূলত নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে আমদানির প্রয়োজনীয়তা খুবই সীমিত।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে শূকরের মাংস রপ্তানি হয় না এবং এ খাতে কোনো বৈধ রপ্তানি ব্যবস্থা নেই। অতীতে অবৈধভাবে শূকরজাত উপাদান আমদানির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নজিরও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র শূকরের মাংস রপ্তানিতে শীর্ষ দেশগুলোর একটি। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশটি প্রায় ৪ লাখ ৯৩ হাজার টন শূকরের মাংস রপ্তানি করেছে, যার মূল্য প্রায় ১.৩৭ বিলিয়ন ডলার।
চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের এক নেতা বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো নীতি গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় সংগঠনের এক নেতাও চুক্তির বিষয়টি স্বচ্ছভাবে প্রকাশ না করায় সমালোচনা করেন এবং পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশে শূকরের মাংস নিষিদ্ধ ছিল এবং তা বহাল থাকবে। নতুন আমদানিনীতি প্রণয়নেও এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া দেশে পর্যাপ্ত গরু ও মুরগির মাংস উৎপাদন হওয়ায় সাধারণভাবে মাংস আমদানির অনুমোদন নেই। অতীতে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে মাংস রপ্তানির চেষ্টা করলেও তা অনুমোদন পায়নি। তবুও চুক্তির নির্দিষ্ট কিছু ধারায় এসব পণ্য আমদানির বিষয়ে শর্ত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
চুক্তির একটি ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিদর্শন ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মাংস, পোলট্রি ও ডিমজাত পণ্য আমদানির পথ সুগম হতে পারে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বারবার বলা হয়েছিল যে বিদেশ থেকে শূকুরের মাংস আমদানির কোনো পরিকল্পনা নেই। এ বিষয়ে পূর্বে সরকারি বিবৃতিতেও এমন অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
কুমিল্লায় এক রাতে আটক ৬২৪, দাউদকান্দিতে থানা ভাংচুর করে বেরিয়ে যায় ২৮ কিশোর

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৮ থানায় সাঁড়াশি অভিযান
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে এক রাতেই ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।
এর মধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানায় আটক করা হয় ৫৯ কিশোরকে। তাদের মধ্যে ২৮ কিশোর থানার একটি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় থানার ভেতরে ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তবে থানায় ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ। তাঁর দাবি, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন থানায় এসে হট্টগোল করেন। বাইরে থেকেও উত্তেজনা ছড়ানো হয় এবং কেউ কেউ ঢিল ছোড়েন। এ সময় একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যায় ও কয়েকটি চেয়ার উল্টে পড়ে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের জড়িয়ে একের পর এক অপরাধের ঘটনায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আটক ৬২৪ জনকে বিভিন্ন অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতা ও পূর্বের রেকর্ড রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
কিশোর গ্যাং ধরতে অভিযান
দাউদকান্দিতে থানায় ভাঙচুর করে ‘ভুয়া’ স্লোগানে বেরিয়ে গেল ২৮ কিশোর, আটক ৫৯

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক, অভিভাবকদের ভিড়ে থানায় উত্তেজনা
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫৯ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। দাউদকান্দি মডেল থানা ও গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ বুধবার সন্ধ্যা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পরে আটক কিশোরদের থানায় আনার পর তাদের স্বজন ও অভিভাবকদের ভিড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে থানার ভেতরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং ২৮ কিশোর ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যায়।
বুধবার রাত ৮টার দিকে দাউদকান্দি মডেল থানা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থানার ভেতরে ভাঙচুর এবং কিশোরদের বেরিয়ে যাওয়ার একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থানার ভেতরে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে অস্থিরভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বিভিন্ন কক্ষে মানুষের প্রবেশ ও হট্টগোলের কারণে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এদিকে থানার ভেতরে ভাঙচুরের ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন।

সর্বমোট ৫৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আটকের খবর পেয়ে অভিভাবকরা সন্তানদের ফিরিয়ে নিতে থানায় এসে হট্টগোল করেন। কেউ কেউ বাইরে থেকে উত্তেজনা ছড়ায় ও ঢিল ছোড়ে। এ সময় একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যায় এবং ভিড়ের মধ্যে কয়েকটি চেয়ার উল্টে যায়। থানায় ভাঙচুরের বিষয়টি মিথ্যা।
তবে ওসি জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের খুঁজতে দাউদকান্দি মডেল থানা ও গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে মোট ৫৯ জনকে আটক করা হয়।
ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, “সর্বমোট ৫৯ আটক করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আটক কিশোরদের মধ্যে একটি কক্ষে ২৮ জন অবস্থান করছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরদের আটকের খবর পেয়ে তাদের অভিভাবকরা থানায় এসে সন্তানদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য হট্টগোল শুরু করেন। ওসির দাবি, বাইরে থেকেও কেউ কেউ উত্তেজনা ছড়ায় এবং থানার দিকে ঢিল ছোড়ে। এ সময় একটি পুরোনো দরজার একটি অংশ খুলে যায় এবং মানুষের ভিড়ে কয়েকটি চেয়ার উল্টে যায়।
অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ২৮ কিশোরকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দিতে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে। এ সময় থানার ভেতরে ব্যাপক ভিড় ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
ঘটনার পর থানার সামনে আটক কিশোরদের অভিভাবক ও স্বজনদের পাশাপাশি উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের তৎপর হতে দেখা যায়।
আটক কিশোরদের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। তবে কিশোরদের স্বজনদের দাবি, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড নেই।
ওসি জানান, তথ্য যাচাই করে আটক কিশোরদের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অর্থাৎ আটকের পর যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকাতেও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চলছে বলে জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, রাতভর অভিযান চলবে। অভিযান শেষে কতজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং কতজন আটক রয়েছে—সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর গণমাধ্যমকে সঠিক সংখ্যা জানানো হবে।
দাউদকান্দির ঘটনায় একদিকে পুলিশের দাবি, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫৯ জনকে আটক করা হয়েছে এবং অভিভাবকদের হট্টগোলে একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যাওয়াসহ কিছু চেয়ার উল্টে যায়। অন্যদিকে ঘটনাস্থলের ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে থানার ভেতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ফলে কিশোরদের আটকের কারণ, থানায় সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং ২৮ কিশোরের বেরিয়ে যাওয়ার পুরো ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
‘যেখানে এনসিপি, সেখানেই গণধোলাই’—বিএনপি নেতার নির্দেশ

ডার্বি নাসীরকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক বক্তব্য
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটির নেতাকর্মীদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানে ‘গণধোলাই’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।
সমাবেশে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না বলে মন্তব্য করেছেন। বিএনপি নেতা ওই বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নন, এনসিপির অন্য নেতাদের বক্তব্যও রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে। তাদের প্রতিহত করা না গেলে দিন দিন তাদের ‘আস্ফালন’ বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই গণধোলাই দিতে হবে।”
পরে নিজের বক্তব্যের বিষয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির অন্য নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা শিষ্টাচারবহির্ভূত। এ ধরনের বক্তব্যের পর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপি নেতাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় তাদেরই বহন করতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ঢাকা শহরে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কারণে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছিলেন, তাঁদের তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না।



























