বিদ্যুতের তারেই শেষ
ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, মুরাদনগরে চাঞ্চল্য

মুরাদনগরের লক্ষ্মীপুর গ্রামের স্বর্ণকারপাড়া এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় রাসেল মিয়ার মরদেহ। ছবি : আজকের কথা
বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে মিলল মরদেহ, চুরির চেষ্টা ঘিরে নানা প্রশ্ন
কুমিল্লার মুরাদনগরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাসেল মিয়া (৪৬) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের স্বর্ণকারপাড়া এলাকায় একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাসেল মিয়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কোনাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার গভীর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি ওই এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে স্থাপিত ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে আসে। এ সময় ট্রান্সফরমার খুলতে গিয়ে বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে রাসেল মিয়া গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়েছে। এসব অপরাধ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
‘যেখানে এনসিপি, সেখানেই গণধোলাই’—বিএনপি নেতার নির্দেশ

ডার্বি নাসীরকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক বক্তব্য
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটির নেতাকর্মীদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানে ‘গণধোলাই’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।
সমাবেশে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না বলে মন্তব্য করেছেন। বিএনপি নেতা ওই বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নন, এনসিপির অন্য নেতাদের বক্তব্যও রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে। তাদের প্রতিহত করা না গেলে দিন দিন তাদের ‘আস্ফালন’ বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই গণধোলাই দিতে হবে।”
পরে নিজের বক্তব্যের বিষয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির অন্য নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা শিষ্টাচারবহির্ভূত। এ ধরনের বক্তব্যের পর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপি নেতাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় তাদেরই বহন করতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ঢাকা শহরে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কারণে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছিলেন, তাঁদের তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না।
দেবীদ্বারে সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১২০০ চারা বিতরণ

সবুজ-শ্যামল দেবীদ্বার গড়ার প্রত্যয়
আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ-শ্যামল, সুন্দর ও বাসযোগ্য দেবীদ্বার গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাজেদা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেবীদ্বার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মোল্লাবাড়িতে অবস্থিত সাজেদা ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে ফাউন্ডেশনের ১৬০ জন উপকারভোগী সদস্যের মাঝে ফলজ, বনজ ও কাঠজাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১ হাজার ২০০টি চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, ডালিম, লটকন, সেগুন, কাঠবাদামসহ বিভিন্ন জাতের গাছ।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বাংলাদেশ গ্রাম আদালতের দেবীদ্বার উপজেলা সমন্বয়কারী সাইফুল করিম খান, দেবীদ্বার থানার এএসআই মো. ইয়াকুব, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এটিএম রাশেদুজ্জামান সরকার, সূচনা ফাউন্ডেশন কুমিল্লার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম, এলাকা ব্যবস্থাপক মো. সোহেল রানা, এলাকা হিসাব ব্যবস্থাপক মো. নাসির উদ্দিন এবং সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার ইসমাইল হোসেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের দেবীদ্বার শাখা ব্যবস্থাপক দুলাল তুর্কী ও কুমিল্লা অঞ্চলের এগ্রিকালচার প্রোগ্রাম অফিসার রেদওয়ানুল হক। এ সময় ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপকারভোগী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, বৃক্ষের চারা বিতরণের এ উদ্যোগ একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ফলজ গাছের মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।
তবে শুধু চারা বিতরণ করলেই হবে না—গাছগুলো সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য উপকারভোগীদের নিজ নিজ চারার যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সাজেদা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, কুমিল্লা অঞ্চলের ৩ হাজার ৫০০ উপকারভোগী সদস্যের মধ্যে মোট ২০ হাজার বৃক্ষের চারা বিতরণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দেবীদ্বারের এ কর্মসূচি সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই অংশ।
দেবীদ্বারের জুট মিলের ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের অভিযোগ, ২ ট্রাকসহ গ্রেফতার ৮

চান্দিনায় ট্রাক আটকে ফাঁস হলো দেবীদ্বারের জুট মিলের ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের অভিযোগ
বন্ধকী সম্পদ সরানোর সময় দুই ট্রাক জব্দ
কুমিল্লার দেবীদ্বারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির কাছে বন্ধকীকৃত উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের প্রায় ১৩ টন যন্ত্রাংশ পাচারের চেষ্টার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ১২ হাজার ৯৫৫ কেজি স্পিনিং মেশিনের যন্ত্রাংশ ও বিভিন্ন মালামালসহ দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের আসাদনগর এলাকায় অবস্থিত উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ভেতর থেকে এসব মালামাল বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনালী ব্যাংক পিএলসির ঢাকা স্থানীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন। মামলায় এজহারনামীয় ১২ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেফতার আটজন হলেন—ট্রাকচালক মো. রনি (২০), হেলপার ইয়াকুব মুন্সি (১৯), চালকের সহযোগী সুলতান (৩৪), অপর ট্রাকের চালক শাহআলম (৩২), হেলপার আরাফাত (১৮) এবং কথিত পাচারকাজের সহযোগী ফরহাদ হোসেন (৫০), মো. মকবুল হোসেন (৭৪) ও মো. নুরুল আমিন (৩৭)।
মামলায় মিলের মালিকপক্ষের আবুল বাশার ও সায়রা হায়দারসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোনালী ব্যাংক পিএলসির স্থানীয় কার্যালয়, ঢাকার মামলাকৃত ও শ্রেণীকৃত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (সংশোধন ২০১০) অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২০ মার্চ অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ১০০১/২০২৪।
অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার রাতে মিলের মালিকপক্ষ ব্যাংকের কাছে বন্ধকীকৃত সম্পত্তির বিপুল পরিমাণ মালামাল মিল থেকে বের করে ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করে।
মালামাল নিয়ে দুটি ট্রাক দেবীদ্বার থেকে চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা সুমনের ভাঙারি দোকানের সামনে ট্রাক দুটি আটক করে। খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং চালক ও সহযোগীদের আটক করে।
পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জব্দ করা মালামালের মধ্যে ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১০৮৩ নম্বর ট্রাক থেকে ৮ হাজার ৫৫ কেজি স্পিনিং মেশিনের যন্ত্রাংশ এবং ঢাকা মেট্রো-ন-২১-৫৩৫৮ নম্বর ট্রাক থেকে ৪ হাজার ৯০০ কেজি স্পিনিং মেশিনের মোটর ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। দুটি ট্রাক থেকে মোট ১২ হাজার ৯৫৫ কেজি মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল দেবীদ্বার থানা এলাকায় হওয়ায় চান্দিনা থানা পুলিশ জব্দ করা ট্রাক ও মালামাল এবং আটক ব্যক্তিদের দেবীদ্বার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
দেবীদ্বার থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


























