সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্বকাপে ডাচদের রুখে দিল জাপান: সামুরাই ব্লুর চোখে এখন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৬:১৬ এএম
বিশ্বকাপে ডাচদের রুখে দিল জাপান: সামুরাই ব্লুর চোখে এখন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

জাপান-নেদারল্যান্ডস ম্যাচের একটি দৃশ্য |সংগৃহীত

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
প্রথমার্ধে কোনো গোল নেই। দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হতেই শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের একের পর এক আক্রমণ। দুই-দুইবার পিছিয়ে পড়া। যেকোনো সাধারণ দলের জন্য এমন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব হতো। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে ‘সামুরাই ব্লু’ যে এখন এক নতুন পরাশক্তি, তা তারা আবারও প্রমাণ করল ডালাসের মাঠে। ডাচদের বিপক্ষে ২-২ গোলের এই মহানাটকীয় ড্র শুধু জাপানের ১ পয়েন্ট পাওয়ার গল্প নয়; এটি তাদের আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাস এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতার এক অনন্য বিজ্ঞাপন।

১. পরাশক্তিদের চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের মানসিকতা

কাতারে জার্মানি আর স্পেনকে হারানোর পর থেকেই জাপানের ফুটবল মানসিকতায় এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপীয় জায়ান্টদের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক ফুটবল না খেলে, হাজিমে মোরিয়াসুর শিষ্যরা প্রথমার্ধ থেকেই কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবলে ডাচ রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দেয়। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও জাপানি ডিফেন্সের আত্মবিশ্বাস ছিল দেখার মতো, যা নেদারল্যান্ডসের বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ডদের বারবার হতাশ করেছে।

২. পিছিয়ে পড়েও ভেঙে না পড়ার প্রবল আত্মবিশ্বাস

ম্যাচের ৫০ মিনিটে ভার্জিল ভ্যান ডাইকের গোল যখন পুরো স্টেডিয়ামের ডাচ সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দিচ্ছিল, জাপানের খেলোয়াড়দের চোখে তখনো কোনো ভয়ের ছাপ ছিল না। গোল খাওয়ার ঠিক ৭ মিনিট পর কেইতো নাকামুরার সেই দুর্দান্ত গোলই বলে দেয়, যেকোনো পরিস্থিতিতে ম্যাচে ফেরার তাড়না এই দলের প্রতিটি রক্তকণিকায় মিশে আছে। ৬৩ মিনিটে ক্রিসেনসিও সামারভিলের গোলে যখন নেদারল্যান্ডস আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, তখনো হাল ছাড়েনি সামুরাই ব্লু।

৩. ৮৯ মিনিটের নাটক ও শেষ মুহূর্তের ‘ব্লু লক’ ম্যাজিক

ম্যাচ যখন শেষের পথে, তখনো জাপানের আক্রমণভাগের ধার কমেনি। ৮৯ মিনিটে কর্নার থেকে দাইচি কামাদার সেই নাটুকে গোলটি ছিল তাদের ধৈর্যের চূড়ান্ত পুরস্কার। ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত গোল করার এই খুনে মানসিকতা প্রমাণ করে যে, বিশ্বফুটবলের জনপ্রিয় অ্যানিমে ‘Blue Lock’-এর বাস্তব রূপই যেন এখনকার এই জাপান দল। তারা এখন ম্যাচ বাঁচানোর জন্য খেলে না, বরং ম্যাচ জেতার জন্য শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত রক্ত জল করে।

৪. ইউরোপীয় লিগের অভিজ্ঞতা ও ট্যাকটিক্যাল পরিপক্বতা

কুবো, কামাদা বা নাকামুরার মতো জাপানি তারকারা এখন ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে প্রতিনিয়ত এই ডাচ খেলোয়াড়দের বিপক্ষেই খেলছেন। ফলে বিশ্বমঞ্চে এসে প্রতিপক্ষের নাম দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার দিন জাপানের অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। মাঠে বল পজেশন ধরে রাখা, ট্যাকটিক্যাল ফাউল না করে মাথা ঠাণ্ডা রাখা এবং নিখুঁত পাসিং—সবকিছুতেই ছিল বিশ্বমানের এক দলের প্রতিচ্ছবি।

৫. ফেভারিটের তকমা এখন আর স্বপ্ন নয়

এই ড্রয়ের পর ফুটবল বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে স্বীকার করছেন, গ্রুপ ‘এফ’-এ জাপান কেবল অংশ নিতে আসেনি, তারা এসেছে গ্রুপ শাসন করতে। কম বুকিং (হলুদ কার্ড) ও ফেয়ার প্লের দিক থেকে এগিয়ে থাকায় নেদারল্যান্ডসকে পেছনে ফেলে গ্রুপে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে সামুরাই ব্লু। ২০ ও ২৪ জুন যথাক্রমে তিউনিসিয়া ও সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এই ড্র জাপানের আত্মবিশ্বাসকে পৌঁছে দিয়েছে এভারেস্টের চূড়ায়।
উপসংহার: বিশ্ববাসী এখন আর জাপানকে স্রেফ একটি ‘লড়াকু দল’ ভাবার ভুল করবে না। ডাচদের রুখে দিয়ে জাপান স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিল—২০২৬ বিশ্বকাপে তারা শুধু নকআউট পর্ব নয়, বরং তারচেয়েও বড় কিছুর জন্য প্রস্তুত।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted

আলোচনায় নতুন প্রশ্ন

“বেনজীর আটকই নন, তাহলে ‘মুক্তি’ নিয়ে এত শোরগোল কেন?”

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩:০৫ এএম
“বেনজীর আটকই নন, তাহলে ‘মুক্তি’ নিয়ে এত শোরগোল কেন?”

বেনজীরকে ঘিরে বিতর্ক: আটক না হলে ‘মুক্তি’ প্রসঙ্গ কেন?

বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দুবাইয়ে তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে— এমন দাবি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।

দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সেখানকার আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সেখানে অবস্থানরত দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। কিন্তু বাংলাদেশে এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও ব্যাখ্যা সামনে এসেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

সমালোচকদের দাবি, বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের যে প্রচার চালানো হয়েছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, বিষয়টি ছিল অভিবাসন-সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এমন প্রক্রিয়াকে সরাসরি ‘গ্রেপ্তার’ হিসেবে উপস্থাপন করা কতটা যৌক্তিক, সে প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেখা যায়, কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাবেক বা বর্তমান কর্মকর্তা বিদেশে আইনি জটিলতায় পড়লে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র সাধারণত কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সেই প্রেক্ষাপটে বেনজীর আহমেদকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নিয়েও আলোচনা চলছে।

তবে বিতর্কের আরেকটি দিক হলো— দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি কিংবা শিশুদের সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোর চেয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অনেক সময় বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নানা সংকট আড়ালে থেকে যাচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং জরুরি জনসেবামূলক সমস্যার সমাধান। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘিরে বিতর্ক যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, তখন প্রকৃত জনস্বার্থের বিষয়গুলো অনেক সময় প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায় না।

বেনজীর আহমেদকে ঘিরে চলমান আলোচনা তাই শুধু একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং জনস্বার্থের প্রশ্নেও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

বর্ষার দূত কদমফুল

আষাঢ়ের আগমনী বার্তা নিয়ে ফুটেছে কদমফুল

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১:৫২ এএম
আষাঢ়ের আগমনী বার্তা নিয়ে ফুটেছে কদমফুল

বর্ষার সৌন্দর্যে মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা

বাংলার ছয় ঋতুর মধ্যে বর্ষা এক অনন্য সৌন্দর্যের ঋতু। আষাঢ়ের প্রথম প্রহরেই প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজে ওঠে। কালো মেঘ, টিপটিপ বৃষ্টি আর স্নিগ্ধ সবুজের মাঝখানে বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে ফুটে ওঠে কদমফুল। প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টি যেন বর্ষার সৌন্দর্যকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আজ থেকে শুরু হয়েছে আষাঢ় মাস। তবে তার আগেই গ্রামবাংলার পথঘাট, বাড়ির আঙিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চত্বর ও শহরের বিভিন্ন স্থানে কদমগাছগুলো সেজে উঠেছে অসংখ্য কদমফুলে। গোলাকার হলুদাভ-কমলা রঙের ফুলগুলো দূর থেকেই নজর কাড়ছে পথচারীদের।

কদমগাছের নিচ দিয়ে হেঁটে গেলে ভেসে আসে মিষ্টি সুগন্ধ। অনেক সময় ফুল চোখে না পড়লেও তার সুবাস জানান দেয় আশপাশেই কোথাও ফুটে আছে বর্ষার প্রিয় ফুল কদম। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এই সুগন্ধ আর সৌন্দর্য এক বিশেষ অনুভূতির জন্ম দেয়।

বর্ষাকাল ছাড়া বছরের অন্য সময়ে কদমফুলের দেখা মেলে না বললেই চলে। তাই আষাঢ়-শ্রাবণের এই সময়টুকুই কদমফুলের রাজত্ব। বর্তমানে কদমগাছের ডালপালা জুড়ে ফুটে থাকা ফুলগুলো প্রকৃতিতে এনে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। অনেকেই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ হাতে নিয়ে উপভোগ করছেন ফুলের মাদকতাময় সৌরভ।

বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, গান ও কবিতায় কদমফুলের বিশেষ স্থান রয়েছে। যুগ যুগ ধরে বর্ষার প্রতীক হিসেবে কদমফুলের নাম উচ্চারিত হয়ে আসছে। কবিদের কবিতায়, গীতিকারদের গানে এবং গল্পকারদের লেখায় কদমফুল বারবার ফিরে এসেছে প্রেম, প্রকৃতি ও আবেগের প্রতীক হয়ে।

স্থানীয়দের মতে, কদমফুল ফুটলেই বোঝা যায় বর্ষা এসে গেছে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য শুধু চোখ জুড়ায় না, মনেও এনে দেয় প্রশান্তির ছোঁয়া। তাই ছোট-বড় সবার কাছেই কদমফুল সমান প্রিয়।

আষাঢ়ের প্রথম দিনে ফুটে থাকা কদমফুল যেন প্রকৃতির পক্ষ থেকে বর্ষাকে স্বাগত জানানোর এক নীরব আয়োজন। আর সেই আয়োজনেই নতুন প্রাণ ফিরে পায় বাংলার চিরচেনা প্রকৃতি।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

অভিযোগে সাময়িক অব্যাহতি

কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগ, সাময়িক অব্যাহতি পেলেন চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ

মো. মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ থেকে : প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১:০১ এএম
কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগ, সাময়িক অব্যাহতি পেলেন চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ

অভিযোগের তদন্তে গঠন করা হয়েছে কমিটি

কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর এক স্বজনকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর হাসপাতাল প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর মোহাম্মদ আলম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কিছু তথ্য-উপাত্ত পাওয়ায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) হাসপাতালের অভ্যন্তরে একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন মো. উবায়দুল্লাহর সঙ্গে ডা. ইসরাত জাহান মৌয়ের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

ঘটনার পর মো. উবায়দুল্লাহ হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠকে বসে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করে হাসপাতাল প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ডা. ইসরাত জাহান মৌকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নূর মোহাম্মদ শামসুল আলম বলেন, “একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অভিযোগকারী মো. উবায়দুল্লাহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌও তার অবস্থান ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল করিম বলেন, “অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডা. ইসরাত জাহান মৌকে সাময়িকভাবে সব ধরনের দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতালের রোগী, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিক আচরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×
CLOSE X
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x