গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান
শ্যামনগরে গণসংহতি আন্দোলনের উপজেলা কমিটি গঠন, মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

শ্যামনগরের নওয়াবেকী বাজারে অনুষ্ঠিত গণসংহতি আন্দোলনের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ। সভায় উপজেলা আহ্বায়ক কমিটিও ঘোষণা করা হয়। ছবি : আজকের কথা
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গণসংহতি আন্দোলনের উপজেলা কমিটি গঠন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।
শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৪টায় নওয়াবেকী বাজার সংলগ্ন একটি হলরুমে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভার উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত
✔️ ১১ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
✔️ তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত
✔️ তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির আহ্বান
✔️ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন বেগবান করার অঙ্গীকার
✔️ জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয়
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক দীপক রায়। তিনি বলেন, “জনগণের অধিকার আদায় এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের সাতক্ষীরা জেলা আহ্বায়ক ও জাতীয় পরিষদের সদস্য প্রভাষক মো. মামুনুর রহমান, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় পরিষদের সদস্য মো. আলফাত হোসেন এবং সুন্দরবন ইয়ুথ ফ্রেন্ডশিপের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু ইছা।
বক্তারা সংগঠনের আদর্শ, লক্ষ্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে গণআন্দোলনকে বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সর্বসম্মতিক্রমে ১১ সদস্যবিশিষ্ট শ্যামনগর উপজেলা গণসংহতি আন্দোলনের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নবগঠিত কমিটিতে জিএম মাহফুজকে আহ্বায়ক, মো. রিয়াজ হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক, মো. মনিরুল ইসলামকে সদস্য সচিব এবং মো. মহিউদ্দিনকে যুগ্ম সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— মো. ইব্রাহিম খলিল, মো. আব্দুল মমিন, মো. আহাদ মল্লিক, মো. ওমর ফারুক, আবুল হোসেন, জিএম তানভীর আহম্মেদ এবং বাবু সোনা মো. আসিফ হোসেন।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ‘ভোরের চেতনা’ পত্রিকার প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ এবং ‘সময় বাংলাদেশ’ পত্রিকার প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম।
সভা শেষে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ শ্যামনগরে গণসংহতি আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববরেণ্যদের কাতারে কুমিল্লার মানবিক চিকিৎসক ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষ

‘এশিয়ান স্টেট’ জার্নালের প্রচ্ছদ নিবন্ধে স্থান পেলেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও সমাজসেবক
এশিয়ার রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজসেবা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল ‘এশিয়ান স্টেট’-এর প্রচ্ছদ নিবন্ধে এবার স্থান পেয়েছেন কুমিল্লার প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, মানবিক চিকিৎসক ও সমাজহিতৈষী প্রফেসর ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষ।
এর আগে একই জার্নালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এ.পি.জে. আবদুল কালাম, ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, বিল গেটস, অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং হানিফ সংকেতসহ বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত সংখ্যায় ‘Heartbeat and Humanity’ শিরোনামে ৫০ পৃষ্ঠার একটি বিস্তৃত ফিচারে ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষের চিকিৎসাসেবা, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং সমাজকল্যাণে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান তুলে ধরা হয়েছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, হৃদরোগ চিকিৎসায় দক্ষতা, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ এবং রোগীদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ড. তৃপ্তীশ শুধু কুমিল্লা নয়, সারা দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
প্রতিবেদনটিতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশন, কুমিল্লা-র মাধ্যমে অসচ্ছল রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরামর্শ প্রদানের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া মানবিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন থেকে প্রাপ্ত ওয়ার্ল্ড হার্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের বিষয়টিও নিবন্ধে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
জার্নালটিতে আরও বলা হয়, হৃদরোগ সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী কল্যাণ, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোটারি কার্যক্রম এবং সমাজসেবামূলক নানা উদ্যোগের মাধ্যমে ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষ সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
রোটারি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততার কথাও নিবন্ধে স্থান পেয়েছে। বিশেষ করে তাঁর রচিত ‘Rotary International: From Individual to the World’ গ্রন্থকে রোটারির দর্শন ও বৈশ্বিক মানবিক চেতনার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ড. তৃপ্তীশ তাঁর কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন—জ্ঞান তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট স্কাউট ব্যক্তিত্ব মাসুক আলতাফ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের একটি জার্নালে ড. তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষকে নিয়ে প্রচ্ছদ নিবন্ধ প্রকাশ কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি কুমিল্লার জন্যও গর্বের বিষয়। একজন চিকিৎসক কীভাবে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবসেবাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সেই অনন্য উদাহরণ তিনি স্থাপন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি কুমিল্লাকে এশিয়ার পরিসরে নতুনভাবে পরিচিত করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে।
গ্যাস সংকটে কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার যানজট

গ্যাস সরবরাহে সংকট, যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং টানা বৃষ্টির কারণে কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দাউদকান্দির গৌরীপুর পর্যন্ত চট্টগ্রামমুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। যানজটের কারণে মহাসড়কে ধীরগতিতে যান চলাচল করতে থাকে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস জানান, ভোর থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। এর সঙ্গে বৃষ্টি ও গ্যাস সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চালকরা গৌরীপুরের একটি চালু স্টেশনে ভিড় করেন। এতে মহাসড়কের একপাশজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে চট্টগ্রামমুখী লেনে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস না থাকায় শত শত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন গৌরীপুরের একটি স্টেশনে গ্যাস নেওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। এসব যানবাহন মহাসড়কের একটি লেন দখল করে রাখায় কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী লরিচালক আবুল মিয়া বলেন, “এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গৌরীপুর এলাকায় আটকে আছি। ভোরে চট্টগ্রাম থেকে মালামাল আনতে রওনা হয়েছিলাম। এখনো গৌরীপুর পার হতে পারিনি। এতে সময়ের পাশাপাশি জ্বালানিও অপচয় হচ্ছে।”
যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা জানান, দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, রোগীবাহী যান এবং পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কুমিল্লার আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকার মাস্টার্স পাম্পের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই এ সংকট চলছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।
ওসি প্রেম দাস জানান, যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম সকাল থেকেই মহাসড়কে কাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে যান চলাচলও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
সম্পাদকীয় নোট: সম্পাদক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
ড. হান্নান ফিরোজের ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগে টিকে ছিল ‘আমাদের সময়’: জানালেন নঈম নিজাম

‘আমাদের সময়’-এর শুরু, ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগ ও মালিকানা পরিবর্তনের অজানা গল্প শোনালেন নঈম নিজাম
দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকাল, আর্থিক সংকট, ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং পরবর্তী মালিকানা পরিবর্তনের নেপথ্যের নানা ঘটনা তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের সাবেক সিইও নঈম নিজাম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, একসময় তিনি নিজেও দৈনিক আমাদের সময়-এর একজন পরিচালক ছিলেন। সে সময় তিনি এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নঈম নিজামের ভাষ্য অনুযায়ী, পত্রিকাটি প্রকাশের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এর প্রতিষ্ঠাতা নাঈমুল ইসলাম খান গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েন। সে সময় নাঈমুল ইসলাম খান তাঁর বাসায় গিয়ে সহযোগিতা চান এবং বলেন, “তুমি আমার পাশে দাঁড়াও। পত্রিকা চালাতে পারছি না। শুরু করেছি, এখনই বন্ধ হয়ে গেলে মান-সম্মান থাকবে না।”
এরপর নঈম নিজাম নাঈমুল ইসলাম খানকে নিয়ে তৎকালীন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হান্নান ফিরোজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং যৌথভাবে পত্রিকাটি পরিচালনার প্রস্তাব দেন। ড. হান্নান ফিরোজ এতে সম্মতি দিলে গঠিত হয় ‘আমাদের সময় লিমিটেড’।
তিনি জানান, নতুন কোম্পানির চেয়ারম্যান হন ড. হান্নান ফিরোজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হন নাঈমুল ইসলাম খান এবং তিনি নিজে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বাংলামোটরে পত্রিকাটির প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়। নঈম নিজামের দাবি, সে সময় ড. হান্নান ফিরোজ প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন।
তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নঈম নিজাম দাবি করেন, একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, নাঈমুল ইসলাম খান ‘আমাদের সময়’–এর বাইরে ‘নতুন ধারা’ নামে আরেকটি কোম্পানি গঠন করেছেন। বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত ও হতাশ করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, একসময় পত্রিকার প্রথম পাতায় ড. হান্নান ফিরোজ ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করা হয়। তবে পরবর্তীতে নাঈমুল ইসলাম খান পত্রিকাটি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুর আলীর কাছে প্রায় ২০ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেন বলেও দাবি করেন নঈম নিজাম।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নঈম নিজাম লেখেন, বর্তমানে তাঁকে প্রায়ই নানা সমালোচনা, এমনকি গালিগালাজও শুনতে হয়। এর জবাবে তিনি বলেন, তাঁর জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে নতুন নতুন সংবাদমাধ্যম গড়ে তোলার কাজে। তিনি যেসব প্রতিষ্ঠানে শ্রম, সময় ও মেধা দিয়েছেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আজ অসংখ্য মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। এটিই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ও তৃপ্তি বলে উল্লেখ করেন।

























