শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

দুই দেখায় ৮ গোল, জয় নেই অস্ট্রিয়ার

৬ গোল, এক হ্যাটট্রিক, হার নেই; ৩৬ বছর পর আজ আবার আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১:২১ পিএম
আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ১৯৮০ সালের ম্যাচে নিজের একমাত্র আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক করেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা; ৩৬ বছর পর আবার মুখোমুখি দুই দল। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ম্যারাডোনার হ্যাটট্রিকের সেই প্রতিপক্ষ আজ আবার সামনে, ইতিহাস কি বলছে আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া লড়াইয়ে?
  • ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আবারও অপেক্ষা আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া দ্বৈরথের।
  • আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে খুব বেশি দেখা না হলেও দুই দলের পূর্ববর্তী লড়াইগুলোতে রয়েছে বেশ কিছু স্মরণীয় অধ্যায়।

ম্যারাডোনার হ্যাটট্রিকের সেই প্রতিপক্ষ আজ আবার সামনে, ইতিহাস কি বলছে আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া লড়াইয়ে?

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আবারও অপেক্ষা আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া দ্বৈরথের। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে খুব বেশি দেখা না হলেও দুই দলের পূর্ববর্তী লড়াইগুলোতে রয়েছে বেশ কিছু স্মরণীয় অধ্যায়। বিশেষ করে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ডিয়েগো ম্যারাডোনার একমাত্র আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক আজও ফুটবল ইতিহাসের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।

⚽ ম্যাচের আগে যা জানা জরুরি

🔹 ৩৬ বছর পর আবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া।

🔹 দুই দলের আনুষ্ঠানিক দেখার সংখ্যা মাত্র ২টি।

🔹 আর্জেন্টিনা জিতেছে ১ ম্যাচ, অন্যটি হয়েছে ড্র।

🔹 দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোল ৬, অস্ট্রিয়ার ২।

🔹 ডিয়েগো ম্যারাডোনার একমাত্র আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক এসেছিল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেই।

🔹 ইতিহাস বলছে, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এখনো অপরাজিত আলবিসেলেস্তেরা।

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই দুই ম্যাচে মোট ৮টি গোল হয়েছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা করেছে ৬ গোল, আর অস্ট্রিয়া করেছে ২ গোল। জয়ের পাল্লাও স্পষ্টভাবে আর্জেন্টিনার দিকেই ঝুঁকে আছে।

দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৮০ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায়। সে সময়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত এক প্রদর্শনীতে ৫-১ গোলের বড় জয় তুলে নেয়। ম্যাচটি ইতিহাসে স্থান করে নেয় মূলত ডিয়েগো ম্যারাডোনার কারণে।

ভিয়েনার সেই ম্যাচে ৬৭ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৩ মিনিটে সান্তিয়াগো সান্তামারিয়া গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ১০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লিওপোলদো লুকুয়ে।

এরপর ১৫ মিনিটে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পঞ্চম গোল করেন তরুণ ম্যারাডোনা। যদিও ২০ মিনিটে কুর্ট জারা একটি গোল শোধ করে অস্ট্রিয়াকে কিছুটা আশা দেখান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আবারও জ্বলে ওঠেন ম্যারাডোনা। আরও দুটি গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সেটিই ছিল ম্যারাডোনার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম এবং শেষ হ্যাটট্রিক। পরবর্তীতে জাতীয় দলের হয়ে একাধিকবার জোড়া গোল করলেও আর কখনো তিন গোল করতে পারেননি ফুটবলের এই কিংবদন্তি। ফলে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে করা সেই হ্যাটট্রিকই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একমাত্র হ্যাটট্রিক হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

দুই দলের দ্বিতীয় ও সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক লড়াই অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালের ৩ মে। ভিয়েনাতেই অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শুরুতেই ধাক্কা খায়। ম্যাচের ৩ মিনিটে মানফ্রেড জাকের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক অস্ট্রিয়া।

তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের প্রায় আধঘণ্টা পার হওয়ার আগেই হোর্হে বুরুচাগার গোলে সমতা ফেরায় আলবিসেলেস্তেরা। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি রেকর্ডে এখন পর্যন্ত কোনো জয় নেই অস্ট্রিয়ার। দুই ম্যাচের একটিতে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, অন্যটি ড্র হয়েছে।

মুখোমুখি পরিসংখ্যান

  • মোট ম্যাচ: ২
  • আর্জেন্টিনার জয়: ১
  • অস্ট্রিয়ার জয়: ০
  • ড্র: ১
  • আর্জেন্টিনার গোল: ৬
  • অস্ট্রিয়ার গোল: ২

তবে ইতিহাসে দুই দলের একটি অনানুষ্ঠানিক ম্যাচের তথ্যও পাওয়া যায়। ১৯৬৬ সালের ২৫ জুন অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল অস্ট্রিয়া। তবে ম্যাচটি ফিফার স্বীকৃত পূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে গণ্য নয়।

সব মিলিয়ে আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এখনো অপরাজিত আর্জেন্টিনা। দুই দলের সর্বশেষ দেখার পর কেটে গেছে ৩৬ বছরেরও বেশি সময়। তাই আজকের লড়াই শুধু নতুন একটি ম্যাচ নয়, বরং ইতিহাসের পুরোনো হিসাব-নিকাশেরও নতুন অধ্যায়। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন মাঠে—অস্ট্রিয়া কি প্রথম জয় পাবে, নাকি আর্জেন্টিনা ধরে রাখবে নিজেদের অপরাজিত আধিপত্য?

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন, দায় এড়াতে ইউএনও-পুলিশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৮ পিএম
ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন, দায় এড়াতে ইউএনও-পুলিশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারকে। একাত্তরের রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করা এই বীরের শেষ বিদায়ে গার্ড অব অনার না পাওয়ার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার দায় নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে দেখা দিয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। এক পক্ষের দাবি, প্রশাসনের কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ গার্ড অব অনার দিতে পারেনি; অন্য পক্ষের বক্তব্য, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না।

৭৮ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার দীর্ঘ কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া গ্রামে নেওয়া হয়।

মরদেহ গ্রামে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে ৫টা পেরিয়ে যায়। পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী আশা করেছিলেন, দেশের জন্য জীবন বাজি রাখা এই বীরকে শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সালাম ও গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই তাঁকে দাফন করা হয়।

মরহুমের ভাই শাহজাহান আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে চিরবিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। আমরা আজ লজ্জিত। যে মানুষটি ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করল, সে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেল না।’

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব না হলেও প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি এসে অন্তত শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারতেন। কিন্তু সেটিও করা হয়নি।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের জন্য তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম তাঁদের জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি মরহুমের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার না দেওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, গার্ড অব অনারের জন্য পুলিশ সদস্যদের একটি দল পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ লাইন থেকে বিউগল বাজানোর দলও এসেছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে তাঁরা জানাজায় অংশ নিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও মুন্নী ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া হয় না। তারপরও তাঁরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ঢাকা থেকে মরদেহ আনা নিয়ে দ্বিধা ছিল। মাগরিবের পর কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এ কারণে গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ সময় তিনি বিষয়টি সংবাদে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ঘটনাটি যেন ব্রাহ্মণপাড়া তথা কুমিল্লার ‘মান-সম্মানের প্রশ্ন’ হিসেবে সংবাদে তুলে ধরা না হয়।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তাঁদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব কেন দেখা দিল? পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই চিরবিদায় নিতে হলো মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সন্তানকে।

দারোরায় বাজিমাত করালেন সৈয়দ কায়েস মীর, ২১ কিমি সড়ক পুনর্নির্মাণে অনুমোদন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
দারোরায় বাজিমাত করালেন সৈয়দ কায়েস মীর, ২১ কিমি সড়ক পুনর্নির্মাণে অনুমোদন

বি-স্ট্রং প্রকল্পে মুরাদনগরের ১০ সড়ক ও একাধিক কালভার্ট-ড্রেনের উন্নয়ন, দারোরা ইউনিয়নেই প্রায় ২০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের প্রত্যাশা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণে প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল রিকভারি, ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স (বি-স্ট্রং) প্রকল্পের আওতায় এসব কাজ বাস্তবায়িত হবে।

স্থানীয়ভাবে এ উন্নয়ন উদ্যোগের পেছনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের আপন মামা, জননেতা সৈয়দ কায়েস আহমেদ মীরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁর প্রচেষ্টায় দারোরা ইউনিয়নের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

এলজিইডি হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা থেকে জারি করা দাপ্তরিক স্মারক অনুযায়ী, মুরাদনগর উপজেলার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসনে পৃথক দুটি প্যাকেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুই প্যাকেজে মোট ২০ দশমিক ৮২৯ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসনের পাশাপাশি বক্স কালভার্ট ও ইউ-ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম প্যাকেজের আওতায় ১১ দশমিক ৪০১ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন এবং ৫ দশমিক ৪০ মিটার বক্স কালভার্ট/ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এ প্যাকেজে রয়েছে খুরুইল বাজার-শিদ্বেশ্বরী বাজার-দারোরা ইউপি-দারোরা বাজার-রায়তলা সড়ক, চন্দানাইল-সালপা-পান্নাই সড়ক (পিপুরিয়াকান্দা সড়ক হয়ে), পুষ্করুনিপার সড়ক (শহীদ রামিউদ্দিন সড়ক), দৌলতপুর-ধনপতিখোলা সড়ক এবং নাঈরপাড়-আলখাল সড়ক।

দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় ৯ দশমিক ৪২৮ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন এবং ১ দশমিক ৮০ মিটার ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এ তালিকায় রয়েছে পালাসুতা (দারোরা ইউপি)-সুবিলাড়চর (বুরারচর বাজার) সড়ক, শুশুন্ডা বাজার-দারোরা বাজার সড়ক (পায়ব রোড হয়ে), সুরানন্দি-নিয়ামতকান্দি আরএইচডি সড়ক, চাপিতলা-বাইড়া সড়ক এবং পিপুরিয়া-রোয়াচলা-দানাপাতিখোলা সড়ক।

বিশেষ করে দারোরা ইউনিয়নের খুরুইল বাজার-শিদ্বেশ্বরী বাজার-দারোরা ইউপি-দারোরা বাজার-রায়তলা সড়ক, পালাসুতা-সুবিলাড়চর সড়ক, শুশুন্ডা বাজার-দারোরা বাজার সড়ক এবং সুরানন্দি-নিয়ামতকান্দি সড়কের উন্নয়ন স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দারোরা বাজারের উন্নয়নেও প্রায় কোটি টাকার বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উভয় প্যাকেজের কাজ শেষ করতে ৫৪০ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বানের জন্য কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে অনুমোদিত দাপ্তরিক স্মারকে প্রকল্পগুলোর নির্দিষ্ট আর্থিক বরাদ্দ উল্লেখ করা হয়নি। প্রাক্কলন যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের পর দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ব্যয় নির্ধারিত হবে।

এদিকে সৈয়দ কায়েস আহমেদ মীরের প্রচেষ্টায় দারোরা ইউনিয়নে সড়ক, কালভার্ট ও বাজার উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ২০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইউনিয়নের গ্রামীণ যোগাযোগ, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনসাধারণের দৈনন্দিন চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সকালের স্নিগ্ধতায় চা-বিস্কুটের অমৃত ছোঁয়া: দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে একটু প্রশান্তি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
সকালের স্নিগ্ধতায় চা-বিস্কুটের অমৃত ছোঁয়া: দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে একটু প্রশান্তি

সোনালী টোস্টে চায়ের চুমুক: যান্ত্রিকতার ভিড়ে এক টুকরো স্নিগ্ধ সকাল

জীবনের যান্ত্রিকতা আর কর্মব্যস্ততার ভিড়ে আমরা অনেকেই নিজেদের জন্য একটু সময় বের করতে ভুলে যাই। অথচ সকালের স্নিগ্ধ আলোয় কিংবা একান্তে কাটানো কিছু মুহূর্ত পুরো দিনের জন্য আমাদের শক্তি জোগাতে পারে। আজ খুব ভোরে নিজ হাতে তৈরি এক কাপ গরম ধোঁয়া ওঠা চা আর মুচমুচে টোস্ট বিস্কুট দিয়ে এমনই এক সুন্দর ও প্রাণবন্ত সকালের শুরু হয়েছে।

বাঙালি সংস্কৃতিতে সকালের নাশতায় কিংবা আড্ডায় চা-বিস্কুট এক চিরচেনা ও আরামদায়ক নাম। ঘুম জড়ানো ভোরে চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার অনুভূতিটাই আলাদা। বিশেষ করে সোনালী রঙের মুচমুচে টোস্ট বিস্কুট যখন চায়ের ছোঁয়া পেয়ে নরম হয়ে আসে, তখন তা কেবল একটি খাবারই থাকে না, বরং এটি হয়ে ওঠে স্মৃতির পাতায় ডুব দেওয়ার এক জাদুকরি মাধ্যম।

ব্যস্ততম সাংবাদিকতা ও সংবাদ পরিচালনার নানা ঝক্কিঝামেলা আর খবরের অন্তহীন দুনিয়ায় ডুব দেওয়ার আগে এমন একটি গোছানো ও ঘরোয়া সকালের নাশতা মনকে সতেজ ও ফুরফুরে রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখে। কাচের বয়াম থেকে পছন্দের টোস্ট বিস্কুট তুলে নিয়ে চায়ের পেয়ালার পাশে সাজিয়ে রাখার এই ছোট আয়োজনটুকু আমাদের শিকড়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

আধুনিকতার ছোঁয়া যতই লাগুক না কেন, খাঁটি বাঙালিিয়ানার এই ছোট অভ্যাসগুলোই আমাদের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে তোলে। ব্যস্ত জীবনের হাজারো কাজের মাঝেও এমন ছোট্ট কিছু মুহূর্ত নিজের জন্য বাঁচিয়ে রাখাটাই আসল জীবনবোধ।

×
ENG