মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

এআই দাবি থেকে স্ত্রী স্বীকৃতি

এআই নয়, ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি; ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাপে সাতক্ষীরার জামায়াত এমপি

ফাহিমা বেগম প্রিয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
জামায়াত নেতা ও তরুণী।

ভিডিও থেকে নেয়া জামায়াত নেতা ও তরুণী। ছবি: আজকের কথা

এআই নয়, ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি; ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনায় সাতক্ষীরার জামায়াত এমপি

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রথমে দলীয় মিডিয়া-সংশ্লিষ্ট একটি প্ল্যাটফর্ম এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করলেও, পরে স্থানীয় জামায়াত নেতারা ভিডিওতে থাকা তরুণীকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেছেন।

সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে কখনো তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে, আবার কখনো ওই তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’ কয়েকটি পোস্টে দাবি করে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও।

তবে তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার বা ডিজিটাল কারসাজির কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, ভিডিওটি বাস্তব হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে এটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, তা দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় বিয়ে কবে হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি জানাতে পারেননি। তার ভাষ্য, বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে বলে তারা জেনেছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীর বয়স কম হওয়ায় বিষয়টি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি বায়োডাটায় তার জন্মতারিখ অনুযায়ী বর্তমান বয়স প্রায় ১৮ বছর ২ মাস বলে উল্লেখ রয়েছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ওই বায়োডাটায় তরুণী নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে আরও বলা হয়েছে, তিনি ২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেছেন। তার মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে তার হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল ছবিতে জামায়াতে ইসলামীর ব্যানার হাতে থাকা পরিবারের এক সদস্যের ছবি দেখা গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তার পরিবারও দলটির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিও দাবি থেকে পরে ভিডিওতে থাকা তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করার ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওটি প্রকাশের উৎস এবং এর পেছনের ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

​দেবীদ্বারে বিএনপির রাজনীতিতে চরম তোলপাড়: তারিখহীন চিঠিতে বিলুপ্ত সব ইউনিয়ন-ওয়ার্ড কমিটি

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫২ পিএম
​দেবীদ্বারে বিএনপির রাজনীতিতে চরম তোলপাড়: তারিখহীন চিঠিতে বিলুপ্ত সব ইউনিয়ন-ওয়ার্ড কমিটি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ওই উপজেলা বিএনপির অধীনস্থ সকল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তির মূল প্যাডে কোনো প্রকার ‘তারিখ’ ও ‘স্মারক/সূত্র নম্বর’ উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে চরম তোলপাড় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

​সম্প্রতি দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন এবং সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

​বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলকে আরও গতিশীল ও পুনর্গঠন করার লক্ষ্যেই অধীনস্থ সকল ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কমিটি একযোগে বিলুপ্ত করা হলো। বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেমের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

​তবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিটিতে কোনো প্রকাশনার তারিখ উল্লেখ না থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দাপ্তরিক চিঠিতে তারিখ না থাকা সাংগঠনিক নিয়মরীতির স্পষ্ট ব্যাঘাত ঘটায়। অন্যদিকে, কমিটি বিলুপ্তির এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীলদের সূত্রে জানানো হয়েছে, দলকে আরও সুসংগঠিত করতে এবং নিষ্ক্রিয়তা দূর করতে শীঘ্রই নতুন প্রক্রিয়ায় এসব কমিটি পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জসিম উদ্দিন ও সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ৩২ সাবেক ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ৩২ সাবেক ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জন সাবেক জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানায়। বর্তমানে তারা যুগ্ম সচিব পদমর্যাদায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী ২৫ বছর চাকরিকাল পূর্ণ হওয়া কর্মকর্তাদের কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই অবসরে পাঠানোর ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সব অবসর-সুবিধা পাবেন।

বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা সবাই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের সদস্য। এর আগে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তাদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, কুমিল্লার মো. আবুল ফজল মীর, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নুরুল হক, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, সুনামগঞ্জের মো. আব্দুল আহাদ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, খাগড়াছড়ির মো. শহিদুল ইসলাম, ফেনীর মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবীর মুরাদ, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের আনার কলি মাহবুব, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস এবং চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটগ্রহণের আগের রাতে ব্যালটে সিল দেওয়ার অভিযোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এ কারণেই নির্বাচনটি বিভিন্ন মহলে ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

কুমিল্লায় ভুয়া কর পরিদর্শক সেজে নির্বাচন অফিসে, আটক ২ প্রতারক

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
কুমিল্লায় ভুয়া কর পরিদর্শক সেজে নির্বাচন অফিসে, আটক ২ প্রতারক

ভুয়া কর পরিদর্শক পরিচয় এবং জাল সনদ ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের চেষ্টা করতে গিয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকে দুই প্রতারককে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে নগরীর ছোটরা এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন, চান্দিনা উপজেলার বামতিয়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদ এবং দেবীদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের শামছুল হক।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, আবুল কালাম আজাদ নিজেকে কর পরিদর্শক পরিচয় দিয়ে অন্য এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য অফিসে আসেন। একই সময়ে শামছুল হক জাল সনদ ব্যবহার করে তার এক স্বজনের এনআইডি সংশোধনের চেষ্টা করেন। তাদের আচরণ ও উপস্থাপনায় সন্দেহ হলে নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করলে তাদের আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নির্বাচন অফিস থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
CLOSE X