এআই দাবি থেকে স্ত্রী স্বীকৃতি
এআই নয়, ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি; ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাপে সাতক্ষীরার জামায়াত এমপি

ভিডিও থেকে নেয়া জামায়াত নেতা ও তরুণী। ছবি: আজকের কথা
এআই নয়, ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি; ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনায় সাতক্ষীরার জামায়াত এমপি
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রথমে দলীয় মিডিয়া-সংশ্লিষ্ট একটি প্ল্যাটফর্ম এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করলেও, পরে স্থানীয় জামায়াত নেতারা ভিডিওতে থাকা তরুণীকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে কখনো তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে, আবার কখনো ওই তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’ কয়েকটি পোস্টে দাবি করে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও।
তবে তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার বা ডিজিটাল কারসাজির কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, ভিডিওটি বাস্তব হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে এটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, তা দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় বিয়ে কবে হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি জানাতে পারেননি। তার ভাষ্য, বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে বলে তারা জেনেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীর বয়স কম হওয়ায় বিষয়টি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি বায়োডাটায় তার জন্মতারিখ অনুযায়ী বর্তমান বয়স প্রায় ১৮ বছর ২ মাস বলে উল্লেখ রয়েছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ওই বায়োডাটায় তরুণী নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে আরও বলা হয়েছে, তিনি ২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেছেন। তার মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তার হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল ছবিতে জামায়াতে ইসলামীর ব্যানার হাতে থাকা পরিবারের এক সদস্যের ছবি দেখা গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তার পরিবারও দলটির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিও দাবি থেকে পরে ভিডিওতে থাকা তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করার ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওটি প্রকাশের উৎস এবং এর পেছনের ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
অপ্রতিম হত্যার পর মায়ের ফেসবুকে ধারাবাহিক পোস্ট, আইডি চালাচ্ছেন কে?

অপ্রতিম হত্যার পর মায়ের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন প্রশ্ন, সামনে এলো ৫ হাজার টাকা ও আইফোনের তথ্য
ছেলের শোকে কাতর মা, তবু ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট; হত্যার নেপথ্য নিয়ে নিজেই দিলেন নতুন তথ্য
কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর তার মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত এই মায়ের ব্যক্তিগত ফেসবুক কার্যক্রমও এখন আলোচনায় এসেছে।
‘নাদিদা নাহিদ’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে নিয়মিত পোস্ট ও অপ্রতিমকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে। সর্বশেষ, এই প্রতিবেদনের প্রস্তুতির সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগেও ওই আইডি থেকে অপ্রতিমের হত্যা নিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টের সঙ্গে অপ্রতিম ও আইফোনসহ চারটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে অপ্রতিমের মা দাবি করেছেন, শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাই নয়, অপ্রতিমের কাছ থেকে ধার নেওয়া ৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।
পোস্টে তিনি লেখেন, অপ্রতিম মায়ের আইফোন নিয়ে টিকটক ভিডিও বানাতে বের হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যরা আগে থেকেই ফোনটি নেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছিল এবং তাদের পরিকল্পনা ছিল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া। এ পরিকল্পনার সঙ্গে ‘তুহিন’ নামের একজন জড়িত ছিলেন বলেও পোস্টে দাবি করা হয়।
পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী, তুহিন অপ্রতিমকে নিয়ে পাহাড়ের প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে চলে যায়। পরে আরও দুজন সেখানে যোগ দেয়। তিনজন মিলে অপ্রতিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তার মাথায় আঘাত করে। সেখানেই অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হয় বলে দাবি করেছেন তার মা।
তবে পোস্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে—অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোরকে অপ্রতিম ৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। সম্প্রতি অপ্রতিম সেই টাকা ফেরত চাইছিল। এতে ওই কিশোর বিরক্ত হয়ে পড়েছিল এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করতে পারে বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
পোস্টে আরও বলা হয়, তুহিনকে আটক করার পরও সে অন্যদের বিষয়ে তথ্য দেয়নি। ওই সময় তুহিনের মোবাইলে বারবার ফোন আসছিল। পোস্টদাতার দাবি, ফোনগুলো করছিল সেই কিশোর—যে অপ্রতিমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল।
অপ্রতিমের মা আরও দাবি করেন, ওই কিশোর পাহাড়ে যাওয়ার সময় নিজের মোবাইল সঙ্গে নেয়নি, যাতে তার অবস্থান শনাক্ত করা না যায়। পোস্টে তার বয়স ১৫ বছর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে অপ্রতিমের মায়ের দাবি, অপ্রতিমের বন্ধুদের অধিকাংশই তার চেয়ে বয়সে বড় ছিল। একই সঙ্গে অপ্রতিম নিজে কোথা থেকে ৫ হাজার টাকা পেয়েছিল এবং কেন অন্য একজনকে সেই টাকা ধার দিয়েছিল—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এর আগে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে তার সহকর্মী সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার জানান, ফাহাদ ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে কাজ শুরু করেছিলেন।
এ ছাড়া ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলেও মানববন্ধনে জানানো হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মামলার আরেক আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অপ্রতিমের মা মনে করেন, অতীতে ওই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তার ছেলেকে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের প্রকৃত বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার মা। তিনি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স-সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের একটি ফেসবুক পোস্টও অপ্রতিমের মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় আসে। কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ওই পোস্ট করেছিলেন ড. নাহিদা বেগম। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার চেষ্টা করার কথা জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার মা জানিয়েছিলেন, “ওই ছিল আমাদের সব। ওকে ঘিরেই আমাদের কত স্বপ্ন ছিল, কত পরিকল্পনা ছিল। ওর হাসি, ওর কথা, ওর ছোট ছোট আবদারেই আমাদের ঘরটা ভরে থাকত। আজ সেই ঘরেই ও নেই, ওর বই-খাতা আছে, বিছানায় ওর জিনিসপত্র আছে, কিন্তু ও নেই।”
অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারও ছেলের হত্যার উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।
অপ্রতিম ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, কারা কীভাবে জড়িত এবং ফেসবুক পোস্টে উঠে আসা নতুন তথ্যগুলোর সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না—তা তদন্তের বিষয়।

অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও তিনি আমাকে কয়েকটি দাবি জানাতে বলেছেন। তার পক্ষ হয়ে আমি এসব দাবি জানিয়েছি।
অপ্রতিম হত্যায় নতুন প্রশ্ন: আসামিরা সত্যিই কিশোর তো? ডিএনএ টেস্ট চান মা

কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে পুরোনো বিরোধের যোগসূত্র খতিয়ে দেখার দাবি, প্রয়োজনে আইন সংশোধনেরও আহ্বান
কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন তথ্য ও তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তার মা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তারা প্রকৃতপক্ষে কিশোর কি না—তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য ও দাবি তুলে ধরা হয়। অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে তার সহকর্মী বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে কুবি শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামীমা নাসরিন, ইউট্যাব কুবি ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও হলের প্রভোস্টরা।
মানববন্ধনে ড. কামরুন নাহার জানান, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে (১৬) ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মামলার আরেক আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
অপ্রতিমের মা মনে করছেন, অতীতে ওই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তার ছেলেকে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তার দ্বিতীয় দাবি, মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের প্রকৃত বয়স ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
এ ছাড়া অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

আমি অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও তিনি আমাকে কয়েকটি দাবি জানাতে বলেছেন। তার পক্ষ হয়ে আমি এসব দাবি জানিয়েছি।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, আসামিদের ভূমিকা এবং তাদের বয়স নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন অপ্রতিমের মা।
আদমদীঘিতে বাবার চেয়ে মেয়ের বয়স ১৫ বছর বেশি!

এনআইডিতে মেয়ের জন্ম ১৯২২, জন্মনিবন্ধনে ১৯৮৯
বগুড়ার আদমদীঘিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের ভুলে অদ্ভুত বিড়ম্বনায় পড়েছেন রাজিয়া সুলতানা নামে এক নারী। সরকারি নথিতে তাঁর বয়স বাবার চেয়েও ১৫ বছর বেশি দেখাচ্ছে। এনআইডির তথ্য অনুযায়ী, রাজিয়ার জন্ম ১৯২২ সালের ২০ জুন। সে হিসাবে তাঁর বর্তমান বয়স ১০৪ বছর। অথচ তাঁর বাবা আব্দুর রহিম খন্দকারের এনআইডিতে জন্মতারিখ ১৯৩৭ সালের ৫ আগস্ট। সে হিসাবে বাবার বয়স ৮৯ বছর।
অর্থাৎ সরকারি নথির হিসাব অনুযায়ী, মেয়ের বয়স বাবার চেয়ে ১৫ বছর বেশি!
জানা গেছে, রাজিয়া সুলতানা আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ইন্দইল গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম খন্দকারের সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
রাজিয়ার জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ১৯৮৯ সালের ১২ এপ্রিল। সেই হিসাবে তাঁর বর্তমান বয়স ৩৭ বছর। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল করে জন্মতারিখ ১৯২২ সালের ২০ জুন উল্লেখ হওয়ায় সরকারি নথিতে তাঁর বয়স দেখাচ্ছে ১০৪ বছর।
অন্যদিকে, রাজিয়ার বাবা আব্দুর রহিম খন্দকারের এনআইডি অনুযায়ী জন্ম ১৯৩৭ সালের ৫ আগস্ট। সে হিসাবে তাঁর বয়স ৮৯ বছর। ফলে এনআইডির তথ্য অনুযায়ী বাবা-মেয়ের বয়সের হিসাবেই তৈরি হয়েছে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।
ভুক্তভোগী রাজিয়া সুলতানার অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্টদের ভুলের কারণে তাঁর প্রকৃত জন্মসাল ১৯৮৯-এর পরিবর্তে ১৯২২ লেখা হয়েছে। এই ভুল সংশোধনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি তিনি।
এনআইডির তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত বয়সের মিল না থাকায় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে তাঁকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলেও জানান রাজিয়া।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

























