রাত ৮টার পর দোকান খোলা, মুরাদনগরে ৯ ব্যবসায়ীকে জরিমানা; প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন

মুরাদনগর সদর বাজারে রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখায় কুমিল্লার মুরাদনগর সদর বাজারে ৯ ব্যবসায়ীকে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের এভাবে জরিমানা করার পাশাপাশি উপজেলার সরকারি সম্পদ দখল, নদী-খাল ও খাসজমি উদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুরাদনগর সদর বাজারে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাকিব হাছান খাঁন। এ সময় মুরাদনগর থানা-পুলিশের একটি দল ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার পর দোকান, শপিং মলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। ওই নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় ৯ ব্যবসায়ীকে ১ হাজার টাকা করে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য রাত ৮টার পর দোকান, শপিং মলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়ে আগে থেকেই প্রচারণা চালানো হয়েছে। এরপরও ব্যবসায়ীরা দোকান খোলা রাখায় ৯ জনকে ১ হাজার টাকা করে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে প্রশাসনের এ অভিযানের পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন যেমন জরুরি, তেমনি রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা ও সরকারি জমি-জলাশয় দখলমুক্ত করাও প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুরাদনগরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাসজমি, নদী-খাল ও সরকারি রাস্তা দখল, জলাশয় ভরাট এবং কৃষিজমি নষ্ট করার মতো গুরুতর ঘটনা রয়েছে। এসব কারণে রাষ্ট্রের বিপুল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি সরকারি সম্পদ ও দখলমুক্ত করার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না—এ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ ব্যবসায়ীরা রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখলে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হলেও সরকারি সম্পদ দখল বা নষ্ট করার মতো বড় অভিযোগের ক্ষেত্রে একই ধরনের কঠোরতা দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে আইন প্রয়োগে অগ্রাধিকার ও সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের জীবিকা ও ব্যবসায়িক বাস্তবতাও প্রশাসনকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
তাদের প্রশ্ন, কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ রক্ষা, সরকারি খাসজমি, নদী-খাল ও রাস্তা দখলমুক্ত করা এবং কৃষিজমি রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখার মতো বিষয়ে জরিমানা করাকেই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা কতটা যৌক্তিক?
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যেন শুধু ছোটখাটো বিষয়ে অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সরকারি সম্পদ রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বার থেকে কক্সবাজার, আর ফেরা হলো না সীমার

অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে মাদরাসাছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু
কুমিল্লার দেবীদ্বার থেকে ১৭ জনের একটি দল গিয়েছিল কক্সবাজারে বেড়াতে। সবার সঙ্গে আনন্দে ঘুরে বেড়ালেও বাড়ি ফেরার আগেই থেমে গেল ১৭ বছর বয়সী সীমা আক্তারের জীবন। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এই মাদরাসাছাত্রীর।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সীমা আক্তার কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড় আলমপুর এলাকার মাহাবুব আলমের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।
স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে দেবীদ্বারের বড় আলমপুর থেকে ১৭ জনের একটি দল কক্সবাজারে বেড়াতে যায়। মঙ্গলবার সকালে তারা সবাই মিলে সুগন্ধা সৈকতে সময় কাটান। পরে সেখান থেকে ফেরার পথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন সীমা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অটোরিকশায় যাওয়ার সময় হঠাৎ সীমার পরনের ওড়না পেছনের একটি চাকায় পেঁচিয়ে যায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
একসঙ্গে বেড়াতে যাওয়া স্বজনদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। যে মেয়েটি পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে কক্সবাজার গিয়েছিল, তার আর দেবীদ্বারের বাড়িতে ফেরা হলো না।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষক দিবসে প্রিয় চার শিক্ষকের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা

শিক্ষকের হাতে গড়া শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো অনেক বছর পেরিয়েও স্মৃতির পাতায় অমলিন থাকে। সময় বদলায়, শিক্ষার্থী বড় হয়, কর্মজীবনে ছড়িয়ে পড়ে—কিন্তু প্রিয় শিক্ষকদের শাসন, স্নেহ, শেখানো কথা আর অনুপ্রেরণা থেকে যায় আজীবন। শিক্ষক দিবসে তেমনই চার প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দারোরা দীনেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।
তার হাইস্কুল জীবনের প্রিয় এই চার শিক্ষক হলেন—শাহজাহান স্যার, আবুল হোসেন স্যার, মান্নান স্যার ও মোস্তফা বিএসসি স্যার। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা শেষে তারা সবাই বর্তমানে অবসরজীবনে রয়েছেন।
শাহজাহান স্যার ছিলেন বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। তার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার গাইটুলি এলাকায়। শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলা শেখানোর পাশাপাশি তার আন্তরিকতা ও স্নেহের জন্যও তিনি ছিলেন প্রিয়।
আবুল হোসেন স্যার পড়াতেন বাংলা ও ইংরেজি। তার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতলে। ভাষা শেখানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতি তার আন্তরিক আচরণও সাবেক শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে।
মান্নান স্যার ছিলেন গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক। তার বাড়ি দেবীদ্বার উপজেলার বৈষরকুট এলাকায়। আর মোস্তফা বিএসসি স্যার ছিলেন গণিতের শিক্ষক—শিক্ষার্থীদের কাছে যিনি পরিচিত ছিলেন ‘গণিতের জাদুকর’ হিসেবে। তার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার পায়ব এলাকায়।
শিক্ষক দিবসে তাদের স্মরণ করে শরিফুল আলম চৌধুরী বলেন, জীবনের পথচলায় অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, কিন্তু শিক্ষকদের অবদান কখনো মুছে যায় না। তাদের শেখানো জ্ঞান, শাসন ও ভালোবাসা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গঠনে নীরবে কাজ করে যায়।
তিনি বলেন, “আমার হাইস্কুল জীবনের প্রিয় স্যারদের প্রতি আজকের শিক্ষক দিবসে রইল সশ্রদ্ধ সালাম ও দোয়া। আল্লাহ তাদের সুস্থতা ও দীর্ঘ জীবন দান করুন।”
একই সঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, সন্তানদের শুধু পড়াশোনার দায়িত্ব শিক্ষকের ওপর ছেড়ে না দিয়ে তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের নিয়মিত খোঁজ রাখতে। ব্যস্ত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সন্তানদের জন্য রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।
তার ভাষায়, “প্রিয় অভিভাবক, আপনার বাচ্চার যত্ন নিন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার নিয়মিত খোঁজখবর রাখুন। আপনার ব্যস্ততার একটা বড় অংশ হোক আপনার বাচ্চাদের জন্য।”
দারোরা দীনেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষক দিবসে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দোয়া জানিয়েছেন তাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
দারোরায় ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণে নিম্নমানের ইট, সরানোর নির্দেশ

৯৯ লাখ টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, সরেজমিনে গিয়ে ইট সরানোর নির্দেশ প্রকৌশলীর
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে ত্রুটিপূর্ণ ইট দেখতে পেয়ে সেগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সল বারী পূর্ণ।
রোববার (৪ অক্টোবর) বাস্তবায়নাধীন নির্মাণ প্রকল্পটি পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রকৌশলী। এ সময় ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত কিছু ইটের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি সংশ্লিষ্টদের কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন এবং ত্রুটিপূর্ণ ইটগুলো ভবন প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নিতে বলেন।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে দারোরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। পরিদর্শনের সময় নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রীর মান নিশ্চিত করা এবং কাজের তদারকি জোরদারের জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

সরকারি ভবন নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার বরদাশত করা হবে না। পরিদর্শনে যে ত্রুটি ধরা পড়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সল বারী পূর্ণ বলেন, সরকারি ভবন নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ নেই। পরিদর্শনে যে ত্রুটি ধরা পড়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনের কাজের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি থাকলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ কমবে।




























