ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিদের ভাগ্যে কী আছে? আবেদন নিয়ে বড় প্রশ্ন, আদালতের নির্দেশে নতুন আশা

যুক্তরাষ্ট্রে ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি। ছবি : এআই জেনারেট
ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফেডারেল আদালতের নির্দেশে কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর উদ্যোগের খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশিরা এতে আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ডাইভারসিটি ভিসা বা গ্রিন কার্ড লটারি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি অভিবাসন কর্মসূচি। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন দেশের নাগরিকদের প্রতিবছর লটারির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সব দেশের নাগরিক এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন না।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ফেডারেল আদালত দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরকে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নতুন বিজ্ঞপ্তির সময়সূচি প্রকাশ এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আবেদন শুরুর সময়, যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ কেন ডিভি লটারির অযোগ্য
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে ডিভি কর্মসূচির জন্য দেশের যোগ্যতা নির্ধারণে আগের পাঁচ বছরে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পরিমাণ বিবেচনা করা হয়। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ থেকে ওই সময়ে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হলে দেশটি ডিভি কর্মসূচির জন্য অযোগ্য হতে পারে।
এ হিসাব শুধু ডিভি লটারির মাধ্যমে যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে করা হয় না। পরিবারভিত্তিক স্পনসরশিপ, কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা এবং অন্যান্য স্থায়ী অভিবাসন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ব্যক্তিরাও এই পরিসংখ্যানের আওতায় পড়েন।
মার্কিন দূতাবাসের পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডিভি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্য নয়। ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ায় দেশটি এই যোগ্যতা হারায়।
এখানে উল্লেখ্য, ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছেন—এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা সবাই ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হয়ে সেখানে গেছেন। বরং বিভিন্ন অভিবাসন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যাওয়া মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়া হয়।
বাংলাদেশিদের জন্য কি কোনো ব্যতিক্রম আছে?
বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিরা সাধারণত নিজেদের জন্মদেশের ভিত্তিতে ডিভি লটারির যোগ্যতা নির্ধারণের আওতায় পড়েন। শুধু অন্য দেশের নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট গ্রহণ করলেই আবেদন করার যোগ্যতা তৈরি হয় না।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।
আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী ডিভি কর্মসূচির জন্য যোগ্য কোনো দেশে জন্মগ্রহণ করলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সেই দেশের ভিত্তিতে আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। একইভাবে, আবেদনকারীর জন্মের সময় তাঁর মা-বাবা নিজ জন্মদেশের বাইরে অন্য কোনো দেশে সাময়িকভাবে অবস্থান করে থাকলে এবং প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হলে তাঁদের জন্মদেশের ভিত্তিতেও যোগ্যতা বিবেচিত হতে পারে।
অভিবাসন আইনে এই বিষয়টি ‘চার্জেবিলিটি’ (Chargeability) নামে পরিচিত। তবে এ ধরনের ব্যতিক্রম সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
২০২৬ সালের ডিভি লটারিতে কোন দেশগুলো অযোগ্য
ডিভি-২০২৬-এর সরকারি নির্দেশনায় বাংলাদেশসহ মোট ১৯টি দেশ ও অঞ্চলের নাগরিকদের অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তালিকায় ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া ও মেক্সিকিয়ার মতো দেশও ছিল।
তবে ডিভি-২০২৬-এর যোগ্যতার তালিকা পরবর্তী বছরের কর্মসূচির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হবে না। নতুন কর্মসূচির ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট বছরের নির্দেশনাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
ডিভি লটারি চালুর বিষয়ে আদালতের নির্দেশ
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না হওয়ায় রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হয়। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিল, আবেদন প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় আবেদনকারীদের পাশাপাশি ডিভি-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
মামলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর আবেদন গ্রহণ শুরু করলে কর্মসূচির নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তবে আদালত মনে করেন, শুধু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণে কংগ্রেস অনুমোদিত কর্মসূচি বন্ধ রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আদালতের নির্দেশের খবর প্রকাশিত হলেও বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট বছরের আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার তালিকা ও আবেদন নির্দেশনা দেখতে হবে। আবেদন করার আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য যাচাই করা উচিত।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



































