রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শৈলকুপার শাহী মসজিদ: সুলতানি স্থাপত্যের নিদর্শন

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫, ৬:৫২ এএম
শৈলকুপার শাহী মসজিদ: সুলতানি স্থাপত্যের নিদর্শন
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

শৈলকুপার শাহী মসজিদ দক্ষিণবঙ্গের সুলতানি আমলের এক অনন্য স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন। ঝিনাইদহ শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে কুমার নদীর তীরে অবস্থিত এ মসজিদ দেখতে দেশ-বিদেশের মানুষ ছুটে আসেন। কেউ আসেন ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে, কেউ আবার মানত ও করেন।

ইতিহাসবিদদের মতে, সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র নাসির উদ্দিন নুসরত শাহ ১৫১৯ সালে বাংলার সিংহাসনে বসেন এবং রাজকার্য পরিচালনার পথে শৈলকুপায় অল্প কিছুদিন অবস্থান করেন। তার সঙ্গী ছিলেন আরব শাহ ও সৈয়দ আব্দুল কাদের বাগদাদী। ধর্ম প্রচারে আগ্রহী এই দুই ব্যক্তিই এখানকার মানুষদের কাছে ইসলাম ছড়িয়ে দেন।

নুসরত শাহের নির্দেশে আরব শাহ নির্মাণ করেন এই ঐতিহাসিক মসজিদটি, যা আজ শৈলকুপার শাহী মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদের পরিচালনার জন্য নুসরত শাহ এর নামে ওয়াকফ করেন কয়েক শত বিঘা জমি।

মসজিদ ঘিরে প্রচলিত আছে এক রহস্যময় কিংবদন্তি—এটি নাকি এক রাতেই নির্মিত হয়েছিল। স্থানীয়দের মতে, এটি বহু বছর জঙ্গলের আড়ালে ছিল এবং পরে আবিষ্কৃত হয়।

মসজিদের চারপাশে রয়েছে প্রাচীর, পেছনে কবরস্থান, সামনের দিকে ঈদগাহ মাঠ ও উত্তরে একটি পুকুর। পূর্ব পাশে রয়েছে দুটি কবরবিশিষ্ট মাজার—শাহ সৈয়দ আরেফ রাব্বানী (আরব শাহ) ও শাহ সৈয়দ আব্দুল কাদের বাগদাদীর।

বর্তমান ইমাম আনোয়ার হোসেন জানান, “মসজিদটি পাথরের দুটি বিমের ওপর নির্মিত। পাঁচ ফুট পুরু দেয়াল, ছয়টি গম্বুজ, সাতটি প্রবেশপথ ও চারটি মিনারসহ এর গঠনশৈলী চোখে পড়ার মতো। তবে এটি ঠিক কোন বছরে নির্মিত—সেটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।”

শৈলকুপার শাহী মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি ইতিহাস, স্থাপত্য এবং বিশ্বাসের এক যুগলমিলন। সুলতানি আমলের এই প্রাচীন নিদর্শন আজো মানুষের ভক্তি ও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে টিকে আছে, সময়কে সাক্ষী রেখে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

হাসপাতালের অনিয়ম ঘিরে বিতর্ক

মুরাদনগরে ১০ মাস বেতন না পেয়ে ঈদে কষ্টে কর্মচারীরা

আজিজুর রহমান রনি, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ২:০০ পিএম
মুরাদনগরে ১০ মাস বেতন না পেয়ে ঈদে কষ্টে কর্মচারীরা

অভিযুক্ত স্টোর কিপার মোঃ আব্দুল কাদের। ছবি : আজকের কথা

ঈদের আনন্দের মাঝে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের জীবনে। দীর্ঘ ১০ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন নিরাপত্তা প্রহরীসহ একাধিক কর্মচারী।

কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, চাকরি দেওয়ার সময় হাসপাতালের স্টোরকিপার মো. আবদুল কাদের তাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত উপহার হিসেবে হাঁস দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এখন তারা সেই টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ঈদে সন্তানদের জন্য সামান্য খাবার কেনাও সম্ভব হচ্ছে না বলে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্টোরকিপার মো. আবদুল কাদের।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেবায় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে এক্স-রে সেবা প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট খাতে লক্ষাধিক টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চারটি এক্স-রে মেশিনের মধ্যে তিনটি অচল এবং একটি সচল থাকলেও জনবল সংকটে সেটিও ব্যবহার হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেবা বন্ধ থাকলেও বাজেট বরাদ্দ চলমান থাকায় পুরো ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া ওষুধ ক্রয় ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে তদন্ত সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং পূর্বের অনিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। পূর্ববর্তী কর্মকর্তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

ঈদের সময় এমন পরিস্থিতিতে বেতন ও সেবার অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

মাঝপথে আটকা শত শত যাত্রী

হবিগঞ্জে বাস চলাচল নিয়ে দ্বন্দ্ব, ঈদযাত্রায় চরম দুর্ভোগ

নাজমুল ইসলাম হৃদয়, হবিগঞ্জ থেকে : প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
হবিগঞ্জে বাস চলাচল নিয়ে দ্বন্দ্ব, ঈদযাত্রায় চরম দুর্ভোগ

হবিগঞ্জের বাহুবলে বাস চলাচল বন্ধ করে সড়কে অবস্থান নেন পরিবহন শ্রমিকরা, এতে ঈদযাত্রায় ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী। ছবি : আজকের কথা

ঈদযাত্রায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। হবিগঞ্জ ও মৌলভী বাজার জেলার পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিরোধকে কেন্দ্র করে শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ও কামাইছড়া এলাকায় পরিবহন শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে মৌলভীবাজার থেকে ছেড়ে আসা এবং ঢাকাগামী বিভিন্ন বাস ফিরিয়ে দেন। এতে শত শত যাত্রী মাঝপথে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ৭টা থেকে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গোষ্ঠীর শ্রমিকরা হানিফ, শ্যামলীসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার বাস চলাচলে বাধা দেন। ফলে যাত্রীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে রওনা হন। এতে ঈদযাত্রায় চরম দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গোষ্ঠীর শ্রমিক নেতা ছায়েদ চৌধুরী বলেন, মৌলভীবাজারে হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসন আগেই সমাধান দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই প্রতিবাদ হিসেবে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবহন খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি তারা সম্মান দেখাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় মিরপুর ও কামাইছড়া এলাকায় যাত্রীরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করছেন। এতে ঈদযাত্রায় চরম দুর্ভোগ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

ঈদকে সামনে রেখে বাস চলাচল স্বাভাবিক না হলে ঈদযাত্রায় চরম দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

স্বামীর অসুস্থতার কথা উল্লেখ

জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ ছাড়ছেন তুলসী গ্যাবার্ড

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৫:৪৩ এএম
জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ ছাড়ছেন তুলসী গ্যাবার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তুলসী গ্যাবার্ড। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মে) তিনি এ ঘোষণা দেন।

স্বামীর বিরল ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী ৩০ জুন থেকে তার পদত্যাগ কার্যকর হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে লেখা পদত্যাগপত্রে তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, পরিবারের এই কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে থাকতেই তাকে দায়িত্ব ছাড়তে হচ্ছে।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, “দুঃখজনকভাবে আমাকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে, যা ৩০ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।”

তিনি আরও জানান, তার স্বামী আব্রাহামের শরীরে সম্প্রতি বিরল ধরনের বোন ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে বড় ধরনের চিকিৎসা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে তার পাশে থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তবে রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্রের দাবি, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণেও তাকে পদ ছাড়তে হয়েছে।

বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতপার্থক্যের বিষয়টি বেশ কয়েক মাস ধরে আলোচনায় ছিল। গত মার্চে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তুলসী গ্যাবার্ড তার চেয়ে বেশি নমনীয় অবস্থানে ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করতে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ সৃষ্টি করা হয়। বর্তমানে এটি মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাবিষয়ক পদ।

গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প সাবেক ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য তুলসী গ্যাবার্ডকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×