বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

পাইকগাছায় জীবিত নারীকে ‘মৃত’ দেখিয়ে ওয়ারিশ সনদ! সংবাদ সম্মেলনে জীবিত প্রমাণ

Mohammad Shariful Alam Chowdhury প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫, ৫:৩০ পিএম
পাইকগাছায় জীবিত নারীকে ‘মৃত’ দেখিয়ে ওয়ারিশ সনদ! সংবাদ সম্মেলনে জীবিত প্রমাণ

মৃত সনদ জালিয়াতির অভিযোগে খুলনার পাইকগাছায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। কপিলমুনি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের সুপারিশে জীবিত এক নারীর নামে 'মৃত' উল্লেখ করে ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করা হয়। ছবি : সংগৃহিত।

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • মৃত সনদ জালিয়াতির অভিযোগে খুলনার পাইকগাছায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি।
  • কপিলমুনি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের সুপারিশে জীবিত এক নারীর নামে ‘মৃত’ উল্লেখ করে ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন তাঁরই ছেলে ও মেয়ে।
  • এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আশালতা হালদারের ছেলে সত্যজিৎ হালদার, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে প্রভাবিত করে গত ৩১ মে ২০২৫ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি ভূয়া ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেন (স্মারক নং ৩৩৬/২০২৫)।

মৃত সনদ জালিয়াতির অভিযোগে খুলনার পাইকগাছায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। কপিলমুনি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের সুপারিশে জীবিত এক নারীর নামে ‘মৃত’ উল্লেখ করে ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন তাঁরই ছেলে ও মেয়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাশিমনগর গ্রামে। এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আশালতা হালদারের ছেলে সত্যজিৎ হালদার, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে প্রভাবিত করে গত ৩১ মে ২০২৫ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি ভূয়া ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেন (স্মারক নং ৩৩৬/২০২৫)। উদ্দেশ্য ছিল তার মায়ের সমস্ত সম্পত্তি এককভাবে দখল করা।

মৃত সনদ
মৃত সনদ জালিয়াতির অভিযোগে খুলনার পাইকগাছায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। কপিলমুনি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের সুপারিশে জীবিত এক নারীর নামে ‘মৃত’ উল্লেখ করে ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করা হয়। ছবি : সংগৃহিত।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সত্যজিতের এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড জানাজানি হলে ২০ জুন এক সালিশ বৈঠকে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম স্বীকার করেন, এটি তাঁর ভুল ছিল। কিন্তু ততদিনে সত্যজিৎ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং নিজ ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। মা আশালতা হালদার ঘরহীন হয়ে পড়েন।

প্রতারনা করে জীবিত মাকে সমাজ ও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে গত ২৮ জুন শনিবার বিকেলে আশালতা হালদার মালোপাড়া দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে নিজের জীবিত থাকা প্রমাণ করেন। তিনি বলেন,

“আমি বেঁচে আছি, অথচ আমার ছেলে কাগজে-কলমে আমাকে মেরে ফেলেছে। আমি বিচার চাই।”

এ বিষয়ে তাঁর দুই মেয়ে মুক্তি সরকার ও মমতা বিশ্বাস জানান, ভাই সম্পত্তির লোভে মাকে মিথ্যা ‘মৃত’ বানিয়ে আইনকে বিভ্রান্ত করেছে। প্রতিবেশী ঠাকুর দাস বিশ্বাস বলেন, এমন জঘন্য অন্যায় তিনি জীবনে দেখেননি।

ঘটনার মূল অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুস আলী মোড়ল আত্মগোপনে রয়েছেন। বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন,

“আমি না বুঝে ভুল করেছি। এখন বুঝতে পারছি বড় অপরাধ হয়ে গেছে।”

এ প্রসঙ্গে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহেরা নাজনীন জানান,

“বিষয়টি আমার জানা ছিল না। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মৃত সনদ তৈরি করে জীবিত একজনকে সমাজ ও সম্পত্তি থেকে মুছে ফেলার এই ঘটনা শুধু নৈতিক নয়, আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেও ভয়াবহ অপরাধ। প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

‘মৃত সনদ’ দিয়ে জীবিত মাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার ঘটনা শুধু নৈতিক নয়, আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেও ভয়াবহ অপরাধ। একজন সন্তান কীভাবে জীবিত মাকে কাগজে-কলমে মেরে ফেলে? এরচেয়েও লজ্জাজনক হলো, ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের সুপারিশে এই সনদ ইস্যু! ভুল স্বীকার করে দায় এড়ানো যায় না—এটা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির নগ্ন উদাহরণ। সমাজ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এমন আরও ‘মৃত’ বানানো হবে জীবিতদের, শুধুই সম্পত্তির লোভে। আশালতা হালদারের সাহসী সংবাদ সম্মেলন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বাংলাদেশে এখনও বেঁচে থাকার জন্যও প্রমাণ দিতে হয়। এখন সময় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির, নয়তো এই ‘মৃত সনদ’ একদিন সমাজকে জীবন্ত মৃত বানিয়ে ফেলবে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ পিএম
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

দৈনিক আজকের কথা
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
— এ বি এম আতিকুর রহমান বাশার
সভাপতি, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।

সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা

মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।

কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।

নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।

কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৮ পিএম
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল

কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।

কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”

২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

দৈনিক আজকের কথা
যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
— কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া
যুগ্ম আহবায়ক- মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।

এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

×
ENG